Dhaka ০৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

জ্বালানি তেলের রেশনিং প্রত্যাহার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪১:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • ৫০২ Time View

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে।

রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে ইরান–ইসরাইল যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ লাইনে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। তবে ইতোমধ্যে আমদানিকৃত কয়েকটি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।এ অবস্থায় জনগণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে জ্বালানি তেল বিতরণে রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে দেশের সব বিতরণ পয়েন্টে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত বাড়ে এবং একই সময়ে বোরো ধানের মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেলের চাহিদাও বেশি থাকে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আপাতত রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে পরে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে গত ৬ মার্চ থেকে দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়। তখন মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক দুই লিটার, স্পোর্টস ইউটিলিটি যান ও মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে সীমা দুই লিটার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লিটার করা হয় এবং সামগ্রিক রেশনিং ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়। তবে ঈদ সামনে রেখে এখন সেই সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হলো।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ১৬ থেকে ২৩ দিনের টানা ছুটি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেশনিং ব্যবস্থার কারণে গত কয়েক দিনে অনেক এলাকায় ফিলিং স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কিছু জেলায় পাম্প মালিকদের অভিযোগ ও সরবরাহ সংকটের কারণে সাময়িকভাবে তেল উত্তোলনও বন্ধ ছিল। ফলে পরিবহন খাত ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠনের নেতারা বলেন, সীমিত সরবরাহ ও বিক্রির বিধিনিষেধের কারণে পাম্প পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। ঈদ সামনে রেখে রেশনিং প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পরিবহন ও জ্বালানি বাজারকে স্বস্তি দেবে।

তবে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। তাই সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আবারও নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

Tag :

Canlı casino deneyimi: Pinco casino ile gerçek zamanlı heyecan

জ্বালানি তেলের রেশনিং প্রত্যাহার

Update Time : ১১:৪১:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে।

রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে ইরান–ইসরাইল যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ লাইনে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। তবে ইতোমধ্যে আমদানিকৃত কয়েকটি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।এ অবস্থায় জনগণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে জ্বালানি তেল বিতরণে রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে দেশের সব বিতরণ পয়েন্টে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত বাড়ে এবং একই সময়ে বোরো ধানের মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেলের চাহিদাও বেশি থাকে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আপাতত রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে পরে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে গত ৬ মার্চ থেকে দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়। তখন মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক দুই লিটার, স্পোর্টস ইউটিলিটি যান ও মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে সীমা দুই লিটার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লিটার করা হয় এবং সামগ্রিক রেশনিং ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়। তবে ঈদ সামনে রেখে এখন সেই সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হলো।

আরও পড়ুনঃ  ১০ মার্চ থেকে বদলে যাবে সুবিধাভোগীদের তালিকা—আসছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, শুরু ১৪ উপজেলায়!

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেশনিং ব্যবস্থার কারণে গত কয়েক দিনে অনেক এলাকায় ফিলিং স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কিছু জেলায় পাম্প মালিকদের অভিযোগ ও সরবরাহ সংকটের কারণে সাময়িকভাবে তেল উত্তোলনও বন্ধ ছিল। ফলে পরিবহন খাত ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠনের নেতারা বলেন, সীমিত সরবরাহ ও বিক্রির বিধিনিষেধের কারণে পাম্প পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। ঈদ সামনে রেখে রেশনিং প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পরিবহন ও জ্বালানি বাজারকে স্বস্তি দেবে।

তবে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। তাই সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আবারও নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।