Dhaka ০৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের সন্ধানে দুদিন ধরে মাইকিং করছেন এক যুবক ৮ দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ, থামল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঢাকায় গোপন বৈঠক, যুবলীগের ৮ নেতা গ্রেপ্তার বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি হবে কীভাবে, জানালেন রিজভ রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, সাজছে নগরী ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ: বিমানমন্ত্রী ফ্ল্যাটের চেয়েও কবরের দাম বেশি, এক টুকরো কবরস্থানের দাম সাড়ে ৪ কোটি ভারতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী, হুমায়ূন কবীরের ঘোষণার পরই বিদ্যুৎ নিয়ে আদানির তালবাহানা!

টিকাদানের ঘাটতিতে সিলেটে বাড়ছে হাম, সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা

হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, টিকাদানের ঘাটতিকে সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা

সিলেটে হামের প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় অংশই হামের টিকা পায়নি বলে জানিয়েছেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী। তাঁর এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে । 

সিলেটে সাম্প্রতিক সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোগীদের টিকাদানের অবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ-সরঞ্জামের প্রাপ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

হাসপাতালে আসা রোগীদের টিকাদান নিয়ে প্রশ্ন

 প্রকাশিত ভিডিওতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বক্তব্যে হাসপাতালে আসা রোগীদের হামের টিকা না পাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাঁর এই বক্তব্য পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্যও বলছে, দেশে হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে টিকাদানের ঘাটতির সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হাম নিয়ে ভর্তি রোগীদের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু হামের টিকা পায়নি।

সিলেটে বাড়ছে হামের চাপ

সিলেট বিভাগেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮০ জন রোগী চিকিৎসাধীন থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। একই সময়ে বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছিল।

এর আগে আগস্টের শুরুতেও সিলেট বিভাগের হাসপাতালগুলোতে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়ার খবর পাওয়া যায়।

‘টিকা না পাওয়া’ শিশুদের ঝুঁকি বেশি

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গের পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। রোগটি নিজে যেমন সংক্রামক, তেমনি আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  চড়া দামে পিএসএলে মোস্তাফিজকে দলে ভেড়াল লাহোর কালান্দার্স

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান উপায় হলো টিকাদান। দেশে নিয়মিত কর্মসূচিতে শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হলেও টিকাদানে ঘাটতি তৈরি হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা পূর্ণ টিকাদানের ওপর জোর দিয়েছেন।

সিলেটে টিকাদান কর্মসূচিতে নতুন উদ্যোগ

হামের প্রকোপ মোকাবিলায় সিলেটেও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ৬৮ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো শিশু বাদ পড়ে গেলে পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত স্থায়ী কেন্দ্র থেকেও টিকা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অসুস্থ বা হাম আক্রান্ত শিশুকে ওই সময় টিকা না দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়েও উদ্বেগ

শুধু টিকাদানের ঘাটতি নয়, সিলেটে হামের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীর পর্যাপ্ততা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি সিলেটের হাসপাতাল পরিদর্শন করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এম এ সালাম জানিয়েছেন, রোগীদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে অভিযোগ শুনেছেন। তাঁর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতায় কিছু সরঞ্জাম, ওষুধ ও মাস্ক পর্যাপ্ত নয় বলে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার কথাও জানান তিনি। ওই সময় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুর পেছনে জটিলতাও বড় কারণ

চিকিৎসকদের মতে, হামে আক্রান্ত হওয়ার পর শুধু ভাইরাসের সংক্রমণই নয়, পরবর্তী জটিলতাও শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও অপুষ্টির মতো সমস্যা দেখা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণে হাম প্রতিরোধে আক্রান্ত রোগীর দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার পাশাপাশি টিকাদান নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুনঃ  নোরার বিরুদ্ধে ৩ কোটি রুপির মামলা, বিমানকে ‘খেলনা’ বলায় বিপাকে অভিনেত্রী

টিকাদানের ঘাটতি পূরণে গুরুত্ব

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে কম বয়সী শিশুদেরও টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি যেসব শিশু টিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনা জরুরি।

সিলেটের পরিস্থিতিতেও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে—হাসপাতালে আসা হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের মধ্যে কতজন টিকা পেয়েছিল, কতজন টিকা থেকে বাদ পড়েছিল এবং কেন তারা টিকা পায়নি। উপাচার্যের বক্তব্যের পর এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে টিকাদান কর্মসূচির কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করলেই হবে না; একই সঙ্গে শিশুদের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো, আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি।

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির তথ্য মিলিয়ে বিষয়টি এখন স্পষ্ট—হামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চিকিৎসার পাশাপাশি টিকাদানের ঘাটতি পূরণ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে

টিকাদানের ঘাটতিতে সিলেটে বাড়ছে হাম, সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা

Update Time : ১১:৩৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, টিকাদানের ঘাটতিকে সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা

সিলেটে হামের প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় অংশই হামের টিকা পায়নি বলে জানিয়েছেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী। তাঁর এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে । 

সিলেটে সাম্প্রতিক সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোগীদের টিকাদানের অবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ-সরঞ্জামের প্রাপ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

হাসপাতালে আসা রোগীদের টিকাদান নিয়ে প্রশ্ন

 প্রকাশিত ভিডিওতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বক্তব্যে হাসপাতালে আসা রোগীদের হামের টিকা না পাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাঁর এই বক্তব্য পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্যও বলছে, দেশে হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে টিকাদানের ঘাটতির সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হাম নিয়ে ভর্তি রোগীদের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু হামের টিকা পায়নি।

সিলেটে বাড়ছে হামের চাপ

সিলেট বিভাগেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮০ জন রোগী চিকিৎসাধীন থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। একই সময়ে বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছিল।

এর আগে আগস্টের শুরুতেও সিলেট বিভাগের হাসপাতালগুলোতে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়ার খবর পাওয়া যায়।

‘টিকা না পাওয়া’ শিশুদের ঝুঁকি বেশি

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গের পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। রোগটি নিজে যেমন সংক্রামক, তেমনি আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাবে না জামায়াত-এনসিপি­

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান উপায় হলো টিকাদান। দেশে নিয়মিত কর্মসূচিতে শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হলেও টিকাদানে ঘাটতি তৈরি হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা পূর্ণ টিকাদানের ওপর জোর দিয়েছেন।

সিলেটে টিকাদান কর্মসূচিতে নতুন উদ্যোগ

হামের প্রকোপ মোকাবিলায় সিলেটেও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ৬৮ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো শিশু বাদ পড়ে গেলে পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত স্থায়ী কেন্দ্র থেকেও টিকা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অসুস্থ বা হাম আক্রান্ত শিশুকে ওই সময় টিকা না দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়েও উদ্বেগ

শুধু টিকাদানের ঘাটতি নয়, সিলেটে হামের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীর পর্যাপ্ততা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি সিলেটের হাসপাতাল পরিদর্শন করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এম এ সালাম জানিয়েছেন, রোগীদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে অভিযোগ শুনেছেন। তাঁর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতায় কিছু সরঞ্জাম, ওষুধ ও মাস্ক পর্যাপ্ত নয় বলে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার কথাও জানান তিনি। ওই সময় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুর পেছনে জটিলতাও বড় কারণ

চিকিৎসকদের মতে, হামে আক্রান্ত হওয়ার পর শুধু ভাইরাসের সংক্রমণই নয়, পরবর্তী জটিলতাও শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও অপুষ্টির মতো সমস্যা দেখা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণে হাম প্রতিরোধে আক্রান্ত রোগীর দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার পাশাপাশি টিকাদান নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুনঃ  কলকাতায় হোটেলে আগুনে স্ত্রী-সন্তান-শ্বশুরসহ সাংবাদিক নিহত

টিকাদানের ঘাটতি পূরণে গুরুত্ব

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে কম বয়সী শিশুদেরও টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি যেসব শিশু টিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনা জরুরি।

সিলেটের পরিস্থিতিতেও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে—হাসপাতালে আসা হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের মধ্যে কতজন টিকা পেয়েছিল, কতজন টিকা থেকে বাদ পড়েছিল এবং কেন তারা টিকা পায়নি। উপাচার্যের বক্তব্যের পর এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে টিকাদান কর্মসূচির কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করলেই হবে না; একই সঙ্গে শিশুদের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো, আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি।

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির তথ্য মিলিয়ে বিষয়টি এখন স্পষ্ট—হামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চিকিৎসার পাশাপাশি টিকাদানের ঘাটতি পূরণ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।