Dhaka ০৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের বৈঠক গ্যাস অনুসন্ধানে শেভরনকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের সন্ধানে দুদিন ধরে মাইকিং করছেন এক যুবক ৮ দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ, থামল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঢাকায় গোপন বৈঠক, যুবলীগের ৮ নেতা গ্রেপ্তার বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি হবে কীভাবে, জানালেন রিজভ

ঢাকায় প্রতি ঘণ্টায় একজন মানুষকে কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০ মশা!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৯ Time View

রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার একটি বাসার কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান। তার কাজ হলো বাসার গেট পাহারা দেওয়া। দিনভর গেট পাহারা দেওয়া সম্ভব হলেও সন্ধ্যার পর মশার উৎপাত তাকে সমস্যায় ফেলে। মিজানুরের দাবি, সন্ধ্যায় তাকে এত বেশি মশা ঘিরে ধরে যে, প্রতি থাপ্পড়ে অন্তত ৫টি মশা মারা যায়।

অন্যদিকে, পান্থপথ এলাকার বস্তিতে বসবাসকারী কয়েকজন নারী মশার উৎপাতের কারণে ঘরে থাকতে পারছেন না। তারা রাস্তায় বসে কাগজ জ্বালিয়ে মশা নিবারণের চেষ্টা করছেন, যা কার্যত ব্যর্থ হচ্ছে। তারা বলছেন, রাস্তার অবস্থা তাদের খুপড়ি ঘরের তুলনায় কিছুটা ভালো।

রাজধানীবাসীও অভিযোগ করছেন, হঠাৎ মশার উৎপাত পুরো শহরে বেড়েছে। নিয়ন্ত্রণে নগর প্রশাসনের কার্যক্রমে তেমন উদ্যোগ দেখা যায় না। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি না থাকাও এর একটি প্রধান কারণ।

দীর্ঘদিন ধরে মশা নিয়ে গবেষণা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব গবেষক অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। তিনি বাংলাভিশনকে জানান, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বিগত ৫ বছরের তুলনায় মশার ঘনত্ব বেশি ছিল। যদিও বর্তমানে তা কমতে শুরু করেছে। বর্তমান সময়ে ঢাকায় একজন মানুষকে প্রতি ঘণ্টায় কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০টি মশা।

অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, আমরা যে পদ্ধতিতে ফগিং করে মশা মারছি, এতে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বিশ্বের অনেক দেশও এখন এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে না। মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে লার্ভা স্তর থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রশাসক জানাচ্ছেন, মশক নিধনের কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি নেই। বরং মশা বৃদ্ধির মূল কারণ হলো শহরের খালগুলোর অপরিচ্ছন্নতা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বাংলাভিশনকে জানান, ডিজেল সংকটের কারণে মশক নিধন কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল। তবে আমরা পেট্রোবাংলার সঙ্গে সমাধান করেছি। এখন কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি নেই। খালগুলো অপরিচ্ছন্ন থাকায় সেখান থেকেই মশার উৎপত্তি হচ্ছে। আমরা খালগুলো সচল করার চেষ্টা করছি। তবে, নগরবাসী সহযোগিতা না করলে শতভাগ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

আরও পড়ুনঃ  লাইফ সাপোর্টে থাকা ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চাইলেন যুবদল নেতা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে মশা নিধনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যেই মশা সংক্রান্ত অভিযোগ কমেছে। আশা করি শিগগিরই যেসব এলাকায় ঘাটতি রয়েছে, সেগুলোও সমাধান করা সম্ভব হবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি সংকট অবশ্যই প্রভাব ফেলে। তবে, আমরা এই ক্রাইসিস মোকাবিলার জন্য ঢাকার আসনগুলো থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরও কাজে যুক্ত করার চেষ্টা করছি।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের বৈঠক

ঢাকায় প্রতি ঘণ্টায় একজন মানুষকে কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০ মশা!

Update Time : ১২:১৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার একটি বাসার কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান। তার কাজ হলো বাসার গেট পাহারা দেওয়া। দিনভর গেট পাহারা দেওয়া সম্ভব হলেও সন্ধ্যার পর মশার উৎপাত তাকে সমস্যায় ফেলে। মিজানুরের দাবি, সন্ধ্যায় তাকে এত বেশি মশা ঘিরে ধরে যে, প্রতি থাপ্পড়ে অন্তত ৫টি মশা মারা যায়।

অন্যদিকে, পান্থপথ এলাকার বস্তিতে বসবাসকারী কয়েকজন নারী মশার উৎপাতের কারণে ঘরে থাকতে পারছেন না। তারা রাস্তায় বসে কাগজ জ্বালিয়ে মশা নিবারণের চেষ্টা করছেন, যা কার্যত ব্যর্থ হচ্ছে। তারা বলছেন, রাস্তার অবস্থা তাদের খুপড়ি ঘরের তুলনায় কিছুটা ভালো।

রাজধানীবাসীও অভিযোগ করছেন, হঠাৎ মশার উৎপাত পুরো শহরে বেড়েছে। নিয়ন্ত্রণে নগর প্রশাসনের কার্যক্রমে তেমন উদ্যোগ দেখা যায় না। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি না থাকাও এর একটি প্রধান কারণ।

দীর্ঘদিন ধরে মশা নিয়ে গবেষণা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব গবেষক অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। তিনি বাংলাভিশনকে জানান, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বিগত ৫ বছরের তুলনায় মশার ঘনত্ব বেশি ছিল। যদিও বর্তমানে তা কমতে শুরু করেছে। বর্তমান সময়ে ঢাকায় একজন মানুষকে প্রতি ঘণ্টায় কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০টি মশা।

অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, আমরা যে পদ্ধতিতে ফগিং করে মশা মারছি, এতে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বিশ্বের অনেক দেশও এখন এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে না। মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে লার্ভা স্তর থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রশাসক জানাচ্ছেন, মশক নিধনের কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি নেই। বরং মশা বৃদ্ধির মূল কারণ হলো শহরের খালগুলোর অপরিচ্ছন্নতা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বাংলাভিশনকে জানান, ডিজেল সংকটের কারণে মশক নিধন কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল। তবে আমরা পেট্রোবাংলার সঙ্গে সমাধান করেছি। এখন কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি নেই। খালগুলো অপরিচ্ছন্ন থাকায় সেখান থেকেই মশার উৎপত্তি হচ্ছে। আমরা খালগুলো সচল করার চেষ্টা করছি। তবে, নগরবাসী সহযোগিতা না করলে শতভাগ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

আরও পড়ুনঃ  মহাখালী রেলগেটে সাততলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে মশা নিধনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যেই মশা সংক্রান্ত অভিযোগ কমেছে। আশা করি শিগগিরই যেসব এলাকায় ঘাটতি রয়েছে, সেগুলোও সমাধান করা সম্ভব হবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি সংকট অবশ্যই প্রভাব ফেলে। তবে, আমরা এই ক্রাইসিস মোকাবিলার জন্য ঢাকার আসনগুলো থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরও কাজে যুক্ত করার চেষ্টা করছি।