Dhaka ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে বাণিজ্য মেলার দ্বিতীয় দিনেই উপচে পড়া ভিড়, দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট সিলেটে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিককে গু.লি করে হ ত্যা সিলেটে ডিসকাউন্টের নামে প্রতারণা: ৪ কাপড়ের দোকানকে ৭২ হাজার টাকা জরিমানা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ভূখণ্ড সিলেট: পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সিউক চেয়ারম্যান দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার নাম দেশের জন্য লজ্জার: প্রধানমন্ত্রী সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের দুই সাধারণ সম্পাদককে সম্মাননা প্রদান ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ৫ হাজার টাকা দাবি! ‘নেতাদের ভাগ দিতে হবে’ —ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সুনামগঞ্জে তোলপাড় সৌদি আরবে অনৈতিক কাজের অপরাধে বাংলাদেশি দুই নারী-পুরুষের ফাঁ.সি সিলেটে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে বিএনপির ৭ ‘তদারকি কমিটি’

মা-বাবার শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে বরযাত্রা

বিয়ের বরযাত্রা মানেই সাধারণত গাড়ি, মাইক্রোবাস কিংবা ঘোড়ার গাড়ি। তবে ব্যতিক্রমী আয়োজন করে আলোচনায় এসেছেন গাইবান্ধার সাকিব মিয়া। পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েতে মা-বাবার দীর্ঘদিনের শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়িতে যান তিনি। ব্যতিক্রমী এই বরযাত্রা দেখতে কনের বাড়িতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী উৎসুক মানুষ।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চকনদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।বর সাকিব মিয়া চকনদী গ্রামের সাইদ আলীর ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। তার কনে সুরাইয়া আক্তার একই উপজেলার হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার বড় মেয়ে।পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন সাকিব। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন একমাত্র দুলাভাই। পরিবারের অন্য সদস্য ও বরযাত্রীরা মাইক্রোবাসে করে কনের বাড়িতে যান।

পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে কনের বাড়িতে পৌঁছান সাকিব। হাতির পিঠে বরের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে একনজর দেখতে সেখানে জড়ো হন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্কদের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক কৌতূহল।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় সাকিবের। যৌতুকবিহীন এ বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় আড়াই লাখ টাকা। বিয়ের আসরেই নববধূকে দেনমোহরের অর্থ বুঝিয়ে দেন বর। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতেই নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।

 

বরের বোন জানান, পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েতে মা-বাবার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল ছেলেকে হাতির পিঠে চড়িয়ে বিয়ে করানোর। সেই শখ পূরণ করতেই নেওয়া হয় ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ।

 

সাকিব মিয়া বলেন, ‘বিয়ে জীবনের একটি বিশেষ দিন, যা বারবার আসে না। মা-বাবার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল আমাকে হাতির পিঠে চড়িয়ে বিয়ে করাবেন। তাদের ইচ্ছা পূরণ এবং দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০ হাজার টাকা দিয়ে হাতিটি ভাড়া করে আনা হয়। মা-বাবার শখ পূরণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাদের এলাকায় হাতির পিঠে চড়ে বরের কনের বাড়িতে যাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। এ কারণে ব্যতিক্রমী বরযাত্রাটি দেখতে আশপাশের অনেক মানুষ ছুটে আসেন।ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন জানান, মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই হাতির পিঠে চড়ে বিয়ের এ আয়োজন করা হয়েছে। বর ও হাতিকে দেখতে বিয়েবাড়িতে শত শত মানুষের ভিড় জমে।

আরও পড়ুনঃ  শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, মিলেছে স্বর্ণ-রুপাসহ ১৯ দেশের মুদ্রা
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে বাণিজ্য মেলার দ্বিতীয় দিনেই উপচে পড়া ভিড়, দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট

মা-বাবার শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে বরযাত্রা

Update Time : ১১:২৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ের বরযাত্রা মানেই সাধারণত গাড়ি, মাইক্রোবাস কিংবা ঘোড়ার গাড়ি। তবে ব্যতিক্রমী আয়োজন করে আলোচনায় এসেছেন গাইবান্ধার সাকিব মিয়া। পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েতে মা-বাবার দীর্ঘদিনের শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়িতে যান তিনি। ব্যতিক্রমী এই বরযাত্রা দেখতে কনের বাড়িতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী উৎসুক মানুষ।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চকনদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।বর সাকিব মিয়া চকনদী গ্রামের সাইদ আলীর ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। তার কনে সুরাইয়া আক্তার একই উপজেলার হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার বড় মেয়ে।পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন সাকিব। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন একমাত্র দুলাভাই। পরিবারের অন্য সদস্য ও বরযাত্রীরা মাইক্রোবাসে করে কনের বাড়িতে যান।

পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে কনের বাড়িতে পৌঁছান সাকিব। হাতির পিঠে বরের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে একনজর দেখতে সেখানে জড়ো হন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্কদের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক কৌতূহল।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় সাকিবের। যৌতুকবিহীন এ বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় আড়াই লাখ টাকা। বিয়ের আসরেই নববধূকে দেনমোহরের অর্থ বুঝিয়ে দেন বর। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতেই নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।

 

বরের বোন জানান, পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েতে মা-বাবার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল ছেলেকে হাতির পিঠে চড়িয়ে বিয়ে করানোর। সেই শখ পূরণ করতেই নেওয়া হয় ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ।

 

সাকিব মিয়া বলেন, ‘বিয়ে জীবনের একটি বিশেষ দিন, যা বারবার আসে না। মা-বাবার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল আমাকে হাতির পিঠে চড়িয়ে বিয়ে করাবেন। তাদের ইচ্ছা পূরণ এবং দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০ হাজার টাকা দিয়ে হাতিটি ভাড়া করে আনা হয়। মা-বাবার শখ পূরণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাদের এলাকায় হাতির পিঠে চড়ে বরের কনের বাড়িতে যাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। এ কারণে ব্যতিক্রমী বরযাত্রাটি দেখতে আশপাশের অনেক মানুষ ছুটে আসেন।ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন জানান, মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই হাতির পিঠে চড়ে বিয়ের এ আয়োজন করা হয়েছে। বর ও হাতিকে দেখতে বিয়েবাড়িতে শত শত মানুষের ভিড় জমে।

আরও পড়ুনঃ  সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে আবারও দায়িত্ব পেলেন নাসিম হোসাইন