Dhaka ০২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা প্রত্যাহার করলেন বাদী হেঁটে ছয় তলায় ওঠানোয় ক্ষোভ, হাতকড়া সামনে পরানোর আর্জি পলকের যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ সাংবাদিককে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী বগার হুমকি, সিটিআরএনের নিন্দা সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই, ছয় মাস পর নার্সের মৃত্যু রামেবি উপাচার্যকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় আরও ২ জন গ্রেপ্তার নেকাব পরা ছাত্রীকে কটাক্ষের অভিযোগ, ঢাবির শিক্ষককে ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেশের মানুষকে নিরাপদ পানি দিতে ২৫ হাজার কোটি টাকার বড় পরিকল্পনা ‘শিশির মনিররা ছিলেন কাপুরুষ, শিবির তখন বেঁচে ছিল ছাত্রলীগ হয়ে’ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানে পে স্কেল কার্যকরে নতুন নির্দেশনা

‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ এখনও শাহজালাল বিমানবন্দরেই আছেন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়ম দেখলেই ছুটে যেতেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান। যাত্রী হয়রানি, লাগেজ চুরি কিংবা বিমানবন্দরের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে অল্প সময়েই যাত্রীদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার পাশাপাশি অনেকে তাকে ডাকতেন ‘ফাটাকেষ্ট’ নামে।

 

তবে বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নওশাদ খানকে আগের মতো দেখা না যাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ে নানা গুঞ্জন। ফেসবুক ও ইউটিউবে তার বদলির খবরও ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্ন ওঠে ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ এখন কোথায়?

 

তবে এসব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে নওশাদ খান জানিয়েছেন, তিনি এখনও শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের এক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তিনি বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনার কাজ করছিলেন।

২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন শুরু করেন নওশাদ খান। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তার অভিযান ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

লাগেজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও যাত্রী হয়রানি কমাতেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। লাগেজ হ্যান্ডলিং ও রিলিজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বডি-ক্যামেরার আওতায় আনা, গুরুত্বপূর্ণ কন্টাক্ট জোনে সিসিটিভি স্থাপন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ফুটেজ সংরক্ষণের মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।

 

এসব কারণে বিমানবন্দরে কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলেই আলোচনায় আসত নওশাদ খানের নাম। তার তৎপরতায় অনেক যাত্রী ও প্রবাসীর মধ্যে আস্থাও তৈরি হয়েছিল।

 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসছে। দীর্ঘ অপেক্ষা, লাগেজ পেতে বিলম্ব, ট্রলির সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যাত্রীরা।

 

সম্প্রতি মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি সরবরাহ নিয়ে উত্তেজনার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত মেজর ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  জৈন্তাপুরে লরি থেকে এস্কেভেটর পড়ে চালকের মৃত্যু

 

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও নওশাদ খানের পুরোনো অভিযানগুলোর ভিডিও ও খবর ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, যাত্রীদের অভিযোগে দ্রুত ছুটে যাওয়া সেই কর্মকর্তা এখন কোথায়? কেউ কেউ তাকে আবারও সক্রিয়ভাবে বিমানবন্দরের অনিয়ম তদারকিতে দেখতে চেয়ে পোস্ট ও মন্তব্য করেন।

 

তবে নওশাদ খান জানিয়েছেন, তিনি বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে কোথায় কী দায়িত্বে আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখনও বিমানবন্দরেই আছি। একটু আগে লাগেজের কাজ করলাম। এসব খবর অনলাইনে দেখছি।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে আগের মতো দেখা না যাওয়ার কারণও জানিয়েছেন নওশাদ। তিনি বলেন, ‘আমি তেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় আসি না। এড়িয়ে চলি।

 

বিমানবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কিছু আসলে শোনা যায়। কিন্তু আমাদের কাছে নির্দিষ্ট করে কেউ কোনো অভিযোগ জানালে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই। সাধারণ মানুষকে বলব, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে। তাহলে প্রতিকার পাবেনই।

 

অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ এখনও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা প্রত্যাহার করলেন বাদী

‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ এখনও শাহজালাল বিমানবন্দরেই আছেন

Update Time : ১২:৪৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়ম দেখলেই ছুটে যেতেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান। যাত্রী হয়রানি, লাগেজ চুরি কিংবা বিমানবন্দরের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে অল্প সময়েই যাত্রীদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার পাশাপাশি অনেকে তাকে ডাকতেন ‘ফাটাকেষ্ট’ নামে।

 

তবে বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নওশাদ খানকে আগের মতো দেখা না যাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ে নানা গুঞ্জন। ফেসবুক ও ইউটিউবে তার বদলির খবরও ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্ন ওঠে ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ এখন কোথায়?

 

তবে এসব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে নওশাদ খান জানিয়েছেন, তিনি এখনও শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের এক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তিনি বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনার কাজ করছিলেন।

২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন শুরু করেন নওশাদ খান। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তার অভিযান ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

লাগেজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও যাত্রী হয়রানি কমাতেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। লাগেজ হ্যান্ডলিং ও রিলিজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বডি-ক্যামেরার আওতায় আনা, গুরুত্বপূর্ণ কন্টাক্ট জোনে সিসিটিভি স্থাপন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ফুটেজ সংরক্ষণের মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।

 

এসব কারণে বিমানবন্দরে কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলেই আলোচনায় আসত নওশাদ খানের নাম। তার তৎপরতায় অনেক যাত্রী ও প্রবাসীর মধ্যে আস্থাও তৈরি হয়েছিল।

 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসছে। দীর্ঘ অপেক্ষা, লাগেজ পেতে বিলম্ব, ট্রলির সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যাত্রীরা।

 

সম্প্রতি মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি সরবরাহ নিয়ে উত্তেজনার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত মেজর ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  এমপি গাজী নজরুলের সেই স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

 

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও নওশাদ খানের পুরোনো অভিযানগুলোর ভিডিও ও খবর ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, যাত্রীদের অভিযোগে দ্রুত ছুটে যাওয়া সেই কর্মকর্তা এখন কোথায়? কেউ কেউ তাকে আবারও সক্রিয়ভাবে বিমানবন্দরের অনিয়ম তদারকিতে দেখতে চেয়ে পোস্ট ও মন্তব্য করেন।

 

তবে নওশাদ খান জানিয়েছেন, তিনি বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে কোথায় কী দায়িত্বে আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখনও বিমানবন্দরেই আছি। একটু আগে লাগেজের কাজ করলাম। এসব খবর অনলাইনে দেখছি।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে আগের মতো দেখা না যাওয়ার কারণও জানিয়েছেন নওশাদ। তিনি বলেন, ‘আমি তেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় আসি না। এড়িয়ে চলি।

 

বিমানবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কিছু আসলে শোনা যায়। কিন্তু আমাদের কাছে নির্দিষ্ট করে কেউ কোনো অভিযোগ জানালে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই। সাধারণ মানুষকে বলব, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে। তাহলে প্রতিকার পাবেনই।

 

অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ এখনও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন।