
সিলেটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে মহানগর বিএনপি। বিকেলে নগরভবনে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোন নেতা অংশ নেননি।
এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। এ রিপোর্ট লেখার সময় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলছিল।
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বর্জন প্রসঙ্গে মহানগর বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে মহানগর বিএনপির কোনো নেতার সাথে আলোচনা করা হয়নি। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক একক সিদ্ধান্তে এটি আয়োজন করেছেন। এছাড়া এতে নেতাদের যথাযথভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
তারা জানান, আজকে রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারতের সয়ে এমন একটি গাড়ি মহানগর বিএনপি নেতাদের জন্য দেওয়া হয় যেটি মাজার এলাকার ভেতরে প্রবেশের পাস ছিল না। ফলে গাড়িটি মূল সড়কেই আটকে দেয় নিরাপত্তাবাহিনী। সিনিয়র নেতাদের হেঁটেই মাজারে যেতে হয়। এসব কারণে আমরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাচ্ছি না।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, নানা কারণে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অংশ নেবেন না। কারণগুলো এখনই বলছি না। তবে সংবর্ধনা ছাড়া রাষ্ট্রপতির বাকি সব অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নিয়েছি।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি তৈরি করে সংবর্ধনা আয়োজন না করা ও অনুষ্ঠানের আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো সিটি করপোরেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে সোমবার তিনি বলেছিলেন, সংবর্ধনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমরা নাগরিক সমাজসহ নানা স্তরের নাগরিকদের সাথে কথা বলেছি।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এটি সিলেটে প্রথম সফর।
সকালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে এগারোটায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এরপর হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহ পরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন তিনি।
সার্কিট হাউজে স্বল্প বিরতির পর দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে নগরের দরগাগেইট এলাকায় সুফিসাধক হজরত শাহজালাল (রহ.) -এর মাজার জিয়ারত করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখানে তিনি দেশ ও জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন।
হজরত শাহজালাল (রহ.) -এর মাজার জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি সরাসরি রওনা দেন সিলেটের খাদিম নগরে হজরত শাহ পরাণ (রহ.)-এর মাজারের উদ্দেশে। সেখানে রাষ্ট্রপতি হজরত শাহ পরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং যোহরের নামাজ আদায় করেন।
বিদ্যুৎবিভ্রাট: এদিকে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়ে সিলেটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনাস্থল। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে নগর ভবনের সংর্বধনাস্থলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিদ্যুৎ ছিল না। তবে তখনও রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছাননি।
বেলা পৌনে ৩ টার কিছু আগে হঠাৎ নগর ভবনের বিদ্যুৎ চলে যায়। অন্ধকার হয়ে পড়ে মঞ্চ। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। পরে বিদ্যুৎ আসে।
তবে এটি কোন লোডশেডিং ছিল না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে লোডশেডিং করার তো প্রশ্নই আসে না। এটি অন্য কোন গোলযোগের কারণে হতে পারে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি আসায় আজ সিলেটে কোন লোডশেডিং নেই। তবে লো ভোল্টেজের কিছু সমস্যা আছে। সেটিও আমরা ঢাকার সাথে কথা বলে সমাধান করেছি।
সিলেট প্রতিনিধি 


















