
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের আর্থিক সংকট কিছুটা লাঘবে রংপুরে ৬৪টি পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এসব পরিবারকে সব মিলিয়ে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থের চেক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩০ জনের পরিবারের প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছে ৫ লাখ টাকা করে। এ খাতে মোট বরাদ্দ করা হয় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ১৮ জনকে দেওয়া হয়েছে ১ লাখ টাকা করে। এই শ্রেণিতে মোট সহায়তার পরিমাণ ১৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দীর্ঘমেয়াদে কর্মক্ষমতা হারানো ১৬ জনকে ৩ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪৮ লাখ টাকা।
সব শ্রেণির সহায়তা মিলিয়ে ৬৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে মোট ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) রংপুর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের আবেদনের পর যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানো অনেক পরিবার হঠাৎ করেই আর্থিক সংকটে পড়ে। আবার গুরুতর আহতদের কেউ কেউ দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পাশাপাশি কর্মক্ষমতাও হারান। ফলে চিকিৎসা ব্যয় ও সংসারের খরচ চালাতে তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, দুর্ঘটনায় একজন মানুষকে হারানোর ক্ষতি কোনো আর্থিক সহায়তা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে বিপদগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে সরকার এই অর্থ প্রদান করছে।
তিনি সহায়তার অর্থ পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানান। পরিবারের আয় বাড়াতে ছোট ব্যবসা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি কিংবা অন্য কোনো উৎপাদনশীল কাজে অর্থ ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
রংপুর প্রতিনিধি 


















