Dhaka ১০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট ট্রেনের টিকিট সংকট: কালোবাজারির অভিযোগে আদালতে মামলা, তদন্তে পিবিআই

সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট যেন সাধারণ যাত্রীদের কাছে এক ‘সোনার হরিণ’। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিট ছাড়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা উধাও হয়ে যাওয়া এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবার আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এই টিকিট সংকটের পেছনে কালোবাজারি ও মজুতদারির সুনির্দিষ্ট আলামত পেয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান।

গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে আদালত স্ব-উদ্যোগে এই মামলাটি (মিস মামলা নং-০১/২০২৬) দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে। বুধবার (৭ অক্টোবর) মামলার আনুষ্ঠানিক নথিপত্র পিবিআই সিলেটের কাছে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আহাদ মামলাটি তদন্ত করছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের কারণ:
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে ঢাকা রুটে চলাচলকারী উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা, পারাবত এবং চট্টগ্রাম রুটের পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। অনলাইনে টিকিট বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট সময় উন্মুক্ত করার পরপরই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরবর্তীতে আদালত স্বয়ং রেলওয়ের সরকারি টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইট পরিদর্শন করে এর সত্যতা পান। এত বিপুল পরিমাণ টিকিট মুহূর্তের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাওয়াকে অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মনে করে আদালত।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, টিকিট বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কোনো চক্রের যোগসাজশে হয়তো মুহূর্তের মধ্যে টিকিটগুলো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে তা সাধারণ যাত্রীদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এই ধরনের অপকর্ম একদিকে যেমন সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত হয়রানি করছে, অন্যদিকে সিলেটের উদীয়মান পর্যটন শিল্পের বিকাশেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্টেশন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
এই বিষয়ে সিলেট রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে রেলের টিকিট সম্পূর্ণ অনলাইন কেন্দ্রিক এবং কিছু টিকিট কাউন্টার থেকে সরাসরি বিক্রি হয়। ফলে টিকিট বিক্রির এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় স্টেশন কর্তৃপক্ষের কোনো হাত বা নিয়ন্ত্রণ নেই।
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল আহাদ জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই স্বপ্রণোদিত মামলার তদন্ত কাজ শুরু করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দেশে ফিরলেন মুশফিকুর রহিম
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেট ট্রেনের টিকিট সংকট: কালোবাজারির অভিযোগে আদালতে মামলা, তদন্তে পিবিআই

Update Time : ০৭:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট যেন সাধারণ যাত্রীদের কাছে এক ‘সোনার হরিণ’। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিট ছাড়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা উধাও হয়ে যাওয়া এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবার আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এই টিকিট সংকটের পেছনে কালোবাজারি ও মজুতদারির সুনির্দিষ্ট আলামত পেয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান।

গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে আদালত স্ব-উদ্যোগে এই মামলাটি (মিস মামলা নং-০১/২০২৬) দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে। বুধবার (৭ অক্টোবর) মামলার আনুষ্ঠানিক নথিপত্র পিবিআই সিলেটের কাছে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আহাদ মামলাটি তদন্ত করছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের কারণ:
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে ঢাকা রুটে চলাচলকারী উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা, পারাবত এবং চট্টগ্রাম রুটের পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। অনলাইনে টিকিট বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট সময় উন্মুক্ত করার পরপরই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরবর্তীতে আদালত স্বয়ং রেলওয়ের সরকারি টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইট পরিদর্শন করে এর সত্যতা পান। এত বিপুল পরিমাণ টিকিট মুহূর্তের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাওয়াকে অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মনে করে আদালত।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, টিকিট বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কোনো চক্রের যোগসাজশে হয়তো মুহূর্তের মধ্যে টিকিটগুলো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে তা সাধারণ যাত্রীদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এই ধরনের অপকর্ম একদিকে যেমন সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত হয়রানি করছে, অন্যদিকে সিলেটের উদীয়মান পর্যটন শিল্পের বিকাশেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্টেশন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
এই বিষয়ে সিলেট রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে রেলের টিকিট সম্পূর্ণ অনলাইন কেন্দ্রিক এবং কিছু টিকিট কাউন্টার থেকে সরাসরি বিক্রি হয়। ফলে টিকিট বিক্রির এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় স্টেশন কর্তৃপক্ষের কোনো হাত বা নিয়ন্ত্রণ নেই।
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল আহাদ জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই স্বপ্রণোদিত মামলার তদন্ত কাজ শুরু করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দেশে ফিরলেন মুশফিকুর রহিম