সিলেট নগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন ইসলামাবাদ এলাকায় ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন (৬৫) হত্যাকাণ্ডে জালাল আহমদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে ইসলামাবাদ এলাকায় নিজ বাসার কাছে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা এবং নগরীতে ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা করতেন।
ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে জালাল আহমদকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেন স্থানীয়রা। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি শাহাব উদ্দিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে জালালকে বলতে শোনা যায়, স্থানীয় এক দর্জির স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহাব উদ্দিন তাকে গালিগালাজ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি হামলা চালান বলে ভিডিওতে দাবি করেন জালাল।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আসামি আদালতে জবানবন্দি দিলে বিষয়টি বিস্তারিত জানা যাবে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলমও জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহাব উদ্দিন হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। হত্যার আগে তাকে অনুসরণ করা হয়েছিল বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, গত ১২ আগস্ট সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার নিকুঞ্জ ভিলায় ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫) খুন হন। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নগরীতে আরেক ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তবে শাহাব উদ্দিন হত্যার সঙ্গে আব্দুস সাত্তার হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিলেট প্রতিনিধি 


















