Dhaka ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধ র্ষণের অভিযোগ দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৪০০, আক্রান্ত ১ লাখ ২৮ হাজারের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও গ্রিন কার্ডে নতুন নিয়ম, বাড়তি সময় মিলবে না সব ক্ষেত্রে ৭০ বছরের ঐতিহ্য বউমেলা, পুরুষের প্রবেশ নিষেধ! স্ত্রীকে রেখে শ্যালিকাকে বিয়ে, টিকটকার মাসুদের সঙ্গে রাতে যা ঘটল হাতকড়াসহ পালানো মাদক বিক্রেতা গ্রেপ্তার জামায়াত নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বদলির আদেশ, তবুও সিলেট ছাড়েননি অতিরিক্ত কমিশনার এনামুল হক! শাপলা হাতে প্রধান শিক্ষিকার প্রেম নিবেদনের পোস্ট ভাইরাল এলআর ফান্ডের তথ্য নিয়ে সিলেট জেলা প্রশাসনের ‘লুকোচুরি’, হিসেব দিতে অনীহা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বদলির আদেশ, তবুও সিলেট ছাড়েননি অতিরিক্ত কমিশনার এনামুল হক!

  • Desk news
  • Update Time : ০৪:১১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১২ Time View

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক বদলির আদেশ জারি হওয়ার দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও নিজ কর্মস্থল ত্যাগ না করে নতুন স্থানে যোগ দেননি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (সুপারনিউমারারি ডিআইজি) মোহাম্মদ এনামুল হক। সরকারি প্রশাসনিক আদেশকে সরাসরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে সিলেটেই বহাল তবিয়তে অবস্থান করার ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের অভ্যন্তর থেকে শুরু করে সিলেটের সর্বস্তরে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা অমান্য করে কীভাবে নির্দিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আঁকড়ে বসে থাকতে পারেন, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে সচেতন মহল জানতে চায়, সরকারি আদেশ উপেক্ষা করার মতো অসীম সাহস ও ক্ষমতার দাপট মোহাম্মদ এনামুল হক কোথায় পাচ্ছেন? তাঁর ক্ষমতার আসল উৎস এবং অদৃশ্য খুঁটির জোর কোথায়?

গত ১১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (সুপারনিউমারারি ডিআইজি) মোহাম্মদ এনামুল হককে খাগড়াছড়ির আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে স্থানান্তর ও পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনিক নিয়ম ও চাকরিবিধি অনুযায়ী, এ ধরনের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু সাধারণত পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বদলির নির্দেশ জারি হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান করার বিধান থাকলেও, অভিযোগ উঠেছে যে তিনি এখনো সিলেটের কর্মস্থলে অবস্থান করছেন।

সরকারি বদলির আদেশ অমান্য করে সিলেটে অবস্থান করার ঘটনায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা।

গোপন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্ব পালনকালে মোহাম্মদ এনামুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি এবং রেগুলার মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সিলেটের বিভিন্ন থানা ও উপশহর, মোগলাবাজার, লামাবাজার এবং বন্দরবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ ফাঁড়িগুলোতে পছন্দের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বা সদস্য পদায়নের নামে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  টম ক্রুজের পদবি বাদ দিলেন মেয়ে সুরি, মায়ের মধ্যনাম ‘নোয়েল’ এখন তার শেষ নাম

এ ছাড়া, উপশহর পুলিশ ফাঁড়িতে একজন কর্মকর্তাকে পদায়ন এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে পদায়ন-সংক্রান্ত লেনদেনের অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য এবং কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ছাড়া এগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ার কারণ কী? নির্ধারিত সময়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না? সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী ছিল?

সরকারি প্রশাসনিক আদেশের কার্যকারিতা, পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা এবং জনমনে আস্থা বজায় রাখতে এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ তদন্ত ও যথাযথ জবাব প্রয়োজন

তথ্যসূত্র: জাতীয় দৈনিক পর্যবেক্ষণ

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধ র্ষণের অভিযোগ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বদলির আদেশ, তবুও সিলেট ছাড়েননি অতিরিক্ত কমিশনার এনামুল হক!

Update Time : ০৪:১১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক বদলির আদেশ জারি হওয়ার দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও নিজ কর্মস্থল ত্যাগ না করে নতুন স্থানে যোগ দেননি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (সুপারনিউমারারি ডিআইজি) মোহাম্মদ এনামুল হক। সরকারি প্রশাসনিক আদেশকে সরাসরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে সিলেটেই বহাল তবিয়তে অবস্থান করার ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের অভ্যন্তর থেকে শুরু করে সিলেটের সর্বস্তরে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা অমান্য করে কীভাবে নির্দিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আঁকড়ে বসে থাকতে পারেন, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে সচেতন মহল জানতে চায়, সরকারি আদেশ উপেক্ষা করার মতো অসীম সাহস ও ক্ষমতার দাপট মোহাম্মদ এনামুল হক কোথায় পাচ্ছেন? তাঁর ক্ষমতার আসল উৎস এবং অদৃশ্য খুঁটির জোর কোথায়?

গত ১১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (সুপারনিউমারারি ডিআইজি) মোহাম্মদ এনামুল হককে খাগড়াছড়ির আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে স্থানান্তর ও পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনিক নিয়ম ও চাকরিবিধি অনুযায়ী, এ ধরনের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু সাধারণত পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বদলির নির্দেশ জারি হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান করার বিধান থাকলেও, অভিযোগ উঠেছে যে তিনি এখনো সিলেটের কর্মস্থলে অবস্থান করছেন।

সরকারি বদলির আদেশ অমান্য করে সিলেটে অবস্থান করার ঘটনায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা।

গোপন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্ব পালনকালে মোহাম্মদ এনামুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি এবং রেগুলার মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সিলেটের বিভিন্ন থানা ও উপশহর, মোগলাবাজার, লামাবাজার এবং বন্দরবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ ফাঁড়িগুলোতে পছন্দের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বা সদস্য পদায়নের নামে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সমবায়ের ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের:সাবেক জামায়াত নেতা কারাগারে

এ ছাড়া, উপশহর পুলিশ ফাঁড়িতে একজন কর্মকর্তাকে পদায়ন এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে পদায়ন-সংক্রান্ত লেনদেনের অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য এবং কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ছাড়া এগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ার কারণ কী? নির্ধারিত সময়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না? সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী ছিল?

সরকারি প্রশাসনিক আদেশের কার্যকারিতা, পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা এবং জনমনে আস্থা বজায় রাখতে এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ তদন্ত ও যথাযথ জবাব প্রয়োজন

তথ্যসূত্র: জাতীয় দৈনিক পর্যবেক্ষণ