Dhaka ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবাকে মারধর, পরে মিলল মেয়ের মরদেহ

সাতক্ষীরার তালায় কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় বাবাকে মারধরের ঘটনার কয়েক দিন পর ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ধুলান্ডা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে নীলা খাতুন নামের ওই কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে যাতায়াতের পথে নীলাকে কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করছিল প্রতিবেশী ৩ যুবক- রকি শেখ, শোয়েব মালী ও ইমন শেখ। বিষয়টি নিয়ে নীলার বাবা লিটন শেখ অভিযুক্তদের অভিভাবকদের একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন।১ অক্টোবর অভিযুক্তরা লিটন শেখের বাড়িতে গিয়ে নীলাকে হুমকি দেয় এবং এলাকায় অপপ্রচার চালায়। এর প্রতিবাদ করলে প্রতিবেশী আকলিমা খাতুনের সঙ্গে নীলার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরদিন ২ অক্টোবর কর্মস্থলে যাওয়ার পথে লিটন শেখকে ধরে নিয়ে একটি বাড়ির উঠানে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। বাবাকে বাঁচাতে গেলে নীলা ও তার মা দেলোয়ারা বেগমকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় আমজেদ শেখ, রকি, শোয়েব, ইমন, ইমরান ও আকলিমার বিরুদ্ধে তালা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন আহত লিটন শেখ।

পরিবারের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি এবং অভিযুক্তরা হুমকি অব্যাহত রেখেছিল। এর তিন দিন পর নীলার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহতের মামা সাদ্দাম হোসেনের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় নীলার পা মাটিতে স্পর্শ করা অবস্থায় ছিল এবং গলায় ফাঁসের কোনো স্বাভাবিক দাগ ছিল না। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও পাওয়া যায়নি, যা বর্তমানে রিং হলেও কেউ ধরছে না। তাদের ধারণা, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এই পরিণতি হতো না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

এদিকে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করে তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আক্তারুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছিল। তিনি আরও জানান, সোমবার রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুনঃ  ২৮ আঙুল নিয়ে জন্ম নবজাতকের, চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার

 

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে মানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযোগ করার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা এবং পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কিনা, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবাকে মারধর, পরে মিলল মেয়ের মরদেহ

Update Time : ০৫:০৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরার তালায় কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় বাবাকে মারধরের ঘটনার কয়েক দিন পর ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ধুলান্ডা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে নীলা খাতুন নামের ওই কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে যাতায়াতের পথে নীলাকে কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করছিল প্রতিবেশী ৩ যুবক- রকি শেখ, শোয়েব মালী ও ইমন শেখ। বিষয়টি নিয়ে নীলার বাবা লিটন শেখ অভিযুক্তদের অভিভাবকদের একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন।১ অক্টোবর অভিযুক্তরা লিটন শেখের বাড়িতে গিয়ে নীলাকে হুমকি দেয় এবং এলাকায় অপপ্রচার চালায়। এর প্রতিবাদ করলে প্রতিবেশী আকলিমা খাতুনের সঙ্গে নীলার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরদিন ২ অক্টোবর কর্মস্থলে যাওয়ার পথে লিটন শেখকে ধরে নিয়ে একটি বাড়ির উঠানে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। বাবাকে বাঁচাতে গেলে নীলা ও তার মা দেলোয়ারা বেগমকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় আমজেদ শেখ, রকি, শোয়েব, ইমন, ইমরান ও আকলিমার বিরুদ্ধে তালা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন আহত লিটন শেখ।

পরিবারের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি এবং অভিযুক্তরা হুমকি অব্যাহত রেখেছিল। এর তিন দিন পর নীলার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহতের মামা সাদ্দাম হোসেনের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় নীলার পা মাটিতে স্পর্শ করা অবস্থায় ছিল এবং গলায় ফাঁসের কোনো স্বাভাবিক দাগ ছিল না। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও পাওয়া যায়নি, যা বর্তমানে রিং হলেও কেউ ধরছে না। তাদের ধারণা, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এই পরিণতি হতো না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

এদিকে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করে তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আক্তারুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছিল। তিনি আরও জানান, সোমবার রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুনঃ  কলকাতায় হোটেলে আগুনে স্ত্রী-সন্তান-শ্বশুরসহ সাংবাদিক নিহত

 

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে মানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযোগ করার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা এবং পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কিনা, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।