Dhaka ০৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের সন্ধানে দুদিন ধরে মাইকিং করছেন এক যুবক ৮ দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ, থামল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঢাকায় গোপন বৈঠক, যুবলীগের ৮ নেতা গ্রেপ্তার বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি হবে কীভাবে, জানালেন রিজভ রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, সাজছে নগরী ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ: বিমানমন্ত্রী ফ্ল্যাটের চেয়েও কবরের দাম বেশি, এক টুকরো কবরস্থানের দাম সাড়ে ৪ কোটি ভারতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী, হুমায়ূন কবীরের ঘোষণার পরই বিদ্যুৎ নিয়ে আদানির তালবাহানা!

দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে অভিনেতা ইলিয়াস জাবেদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৬ Time View

দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে বাংলা সিনেমার সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। আজ (__) রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,
“জাভেদ ভাই দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। আজ চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন। আমরা সবাই তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সবাই তাঁর জন্য দোয়া করবেন।”

জানা যায়, কিংবদন্তি এই অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি হৃদরোগেও ভুগছিলেন। এর আগে দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল তাঁকে। বয়সজনিত নানা জটিলতা এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন।

ইলিয়াস জাভেদের জন্ম ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে। পরবর্তীতে তিনি স্বপরিবারে পেশাওয়ার থেকে পাঞ্জাবে চলে আসেন। তাঁর আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। চলচ্চিত্র জগতে তাঁর পথচলা শুরু হয় নৃত্য পরিচালক হিসেবে। নৃত্য পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তিনি অভিনয়ে মনোনিবেশ করেন।

১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে তাঁর চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে। তবে ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে নায়িকা ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা। এরপর একের পর এক সফল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ‘নিশান’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা তাঁকে দর্শকমহলে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। নায়ক হিসেবে তাঁর সাবলীল অভিনয়, নাচে পারদর্শিতা এবং পর্দায় উপস্থিতি তাঁকে সোনালী যুগের একজন জনপ্রিয় তারকায় পরিণত করে।

আরও পড়ুনঃ  নেপালে ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ প্রায় ২ হাজার

ব্যক্তিজীবনে ইলিয়াস জাভেদ ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে

দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে অভিনেতা ইলিয়াস জাবেদ

Update Time : ০৭:৩০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে বাংলা সিনেমার সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। আজ (__) রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,
“জাভেদ ভাই দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। আজ চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন। আমরা সবাই তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সবাই তাঁর জন্য দোয়া করবেন।”

জানা যায়, কিংবদন্তি এই অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি হৃদরোগেও ভুগছিলেন। এর আগে দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল তাঁকে। বয়সজনিত নানা জটিলতা এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন।

ইলিয়াস জাভেদের জন্ম ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে। পরবর্তীতে তিনি স্বপরিবারে পেশাওয়ার থেকে পাঞ্জাবে চলে আসেন। তাঁর আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। চলচ্চিত্র জগতে তাঁর পথচলা শুরু হয় নৃত্য পরিচালক হিসেবে। নৃত্য পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তিনি অভিনয়ে মনোনিবেশ করেন।

১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে তাঁর চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে। তবে ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে নায়িকা ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা। এরপর একের পর এক সফল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ‘নিশান’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা তাঁকে দর্শকমহলে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। নায়ক হিসেবে তাঁর সাবলীল অভিনয়, নাচে পারদর্শিতা এবং পর্দায় উপস্থিতি তাঁকে সোনালী যুগের একজন জনপ্রিয় তারকায় পরিণত করে।

আরও পড়ুনঃ  মাছ দেওয়ার কথা বলে ঘেরে ডেকে নিয়ে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ,

ব্যক্তিজীবনে ইলিয়াস জাভেদ ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।