
পটুয়াখালীর কুয়াকাটার ১৫৯ নম্বর পাঞ্জুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাহিয়ান বিনতে ইউসুফের বিরুদ্ধে প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে না এলেও তিনি নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫৯ নম্বর পাঞ্জুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত। এর মধ্যে সহকারী শিক্ষক নাহিয়ান বিনতে ইউসুফ প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে বর্তমানে চারজন শিক্ষক দিয়েই বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, একজন শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস নেওয়া এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ
শিক্ষিকার দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির বিষয়টি জানিয়ে গত ২০ আগস্ট কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. বাবুল হাওলাদার।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষিকা নাহিয়ান বিনতে ইউসুফের দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেএম মনির একাধিকবার উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও বিষয়টির কার্যকর সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ইসাহাক হাওলাদার বলেন, একজন শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষক সংকট তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
‘ডেপুটেশন ছুটিতে ছিলাম’
দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা এবং বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষিকা নাহিয়ান বিনতে ইউসুফ বলেন, তিনি ডেপুটেশন ছুটিতে ছিলেন। তবে সেই ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং নতুন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি ডেপুটেশন ছুটিতে রয়েছি। তবে এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করতে দিয়েছি।’
তবে তার অনুপস্থিতির পেছনে অনুমোদিত ছুটি, ডেপুটেশন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা অন্য কোনো বৈধ কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
‘নিয়মবহির্ভূত, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে’
অভিযোগের বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা বেগম বলেন, সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী নাহিয়ান বিনতে ইউসুফ এক বছরের ডেপুটেশনে ছিলেন। গত ১১ আগস্ট ওই পরিপত্র বাতিল করে তাকে নিজ কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু তিনি এখনো যোগদান করেননি, যা অবশ্যই নিয়মবহির্ভূত। আমরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অন্যদিকে, পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ করিম বলেন, তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, একজন সরকারি শিক্ষক দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ এবং একই সময়ে বেতন-ভাতা গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও অনুপস্থিতির বৈধ কারণ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পটুয়াখালী প্রতিনিধি 



















