Dhaka ১০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টম ক্রুজের পদবি বাদ দিলেন মেয়ে সুরি, মায়ের মধ্যনাম ‘নোয়েল’ এখন তার শেষ নাম সীমান্তের প্রান্তিক জনপদে শিক্ষার প্রদীপ জ্বালাচ্ছে গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কালীগঞ্জে বিধবা ও প্রতিবন্ধী পরিবারের সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ডোপ টেস্টে ইতিবাচক ফল, অভিযুক্তের ৫ মাসের জেল সহ জরিমানা আদমদীঘি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারী সহ গ্রেপ্তার-৮!! ভূরুঙ্গামারীতে যৌথ অভিযানে ১৫ ফুটের গাঁজাগাছসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবি বঙ্গভবনে কার্যক্রম শুরু করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি Coronavirus disease 2019 ভারতের পর এবার চীনে গেলেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

বাঁচানো গেল না পাহাড় থেকে উদ্ধার হওয়া গলাকাটা সেই শিশুকে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ৫০১ Time View

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জান্নাতুল নাইমা ইকোপার্ক পাহাড় থেকে উদ্ধার হওয়া গলাকাটা সাত বছরের শিশু ইরাকে বাঁচানো গেল না। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধারের পর দুইদিন ধরে তদন্ত চললেও এখনও কোনো স্পষ্ট সূত্র মেলেনি। ঘটনার নির্মমতায় এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জামায়াত নেতৃবৃন্দও।তবে হাসপাতালে শিশুটির চাচা জানান, মারা যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পূর্বে ইরা ইশরায় বলেছিল ধর্ষণের আলামতের কথা।

এর আগে, রোববার দুপুরে শিশুটিকে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

শিশুটির বড় বোন জান্নাতুল নিশা ইশপা মুঠোফোনে সমকালকে জানান, মঙ্গলবার ভোরের দিকে ইরার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়া হলেও ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুটির গলায় শ্বাসনালি কাটা ও হাতে গভীর ক্ষত ছিল। গলার গুরুতর আঘাতে তার শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর থেকেই সে কথা বলতে পারছিল না।

এর আগে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছিলেন, শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে যৌন সহিংসতার আলামত পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরের দিকে ইকোপার্কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গভীরে সড়ক সংস্কার কাজ চলছিল। এ সময় এক স্কেভেটর চালক দেখতে পান, পুরো শরীরে রক্তমাখা একটি শিশু জঙ্গল থেকে টলমল পায়ে রাস্তার দিকে আসছে। শ্রমিকরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তার গলার ক্ষত কাপড় দিয়ে চেপে ধরে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করেন। পরে তাকে একটি ট্রাকে করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উদ্ধারস্থল সহস্রধারা ঝরনা এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরে পাহাড়ি নির্জন পথ বলে জানা গেছে। শিশুটি ইশারায় বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে এমন নিষ্ঠুর আচরণ করেছে তাকে দেখলে সে চিনতে পারবে।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবি

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, শিশুটির বাড়ি কুমিরা ইউনিয়নের মছজিদদা (মাস্টারপাড়া) এলাকায়। তার বাসা থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার। এত কম বয়সী একটি শিশু কীভাবে একা ইকোপার্কের এত গভীরে পৌঁছাল, তাকে কেউ তুলে নিয়ে গেছে কিনা, কিংবা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে কিনা এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করে সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, শিশুটির মা রোকেয়া বেগম রোববার রাতেই বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

এদিকে সোমবার রাতে হাসপাতালে শিশুকন্যাটিকে দেখতে গিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংগঠনের এমপি প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

টম ক্রুজের পদবি বাদ দিলেন মেয়ে সুরি, মায়ের মধ্যনাম ‘নোয়েল’ এখন তার শেষ নাম

বাঁচানো গেল না পাহাড় থেকে উদ্ধার হওয়া গলাকাটা সেই শিশুকে

Update Time : ০৪:০২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জান্নাতুল নাইমা ইকোপার্ক পাহাড় থেকে উদ্ধার হওয়া গলাকাটা সাত বছরের শিশু ইরাকে বাঁচানো গেল না। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধারের পর দুইদিন ধরে তদন্ত চললেও এখনও কোনো স্পষ্ট সূত্র মেলেনি। ঘটনার নির্মমতায় এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জামায়াত নেতৃবৃন্দও।তবে হাসপাতালে শিশুটির চাচা জানান, মারা যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পূর্বে ইরা ইশরায় বলেছিল ধর্ষণের আলামতের কথা।

এর আগে, রোববার দুপুরে শিশুটিকে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

শিশুটির বড় বোন জান্নাতুল নিশা ইশপা মুঠোফোনে সমকালকে জানান, মঙ্গলবার ভোরের দিকে ইরার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়া হলেও ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুটির গলায় শ্বাসনালি কাটা ও হাতে গভীর ক্ষত ছিল। গলার গুরুতর আঘাতে তার শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর থেকেই সে কথা বলতে পারছিল না।

এর আগে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছিলেন, শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে যৌন সহিংসতার আলামত পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরের দিকে ইকোপার্কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গভীরে সড়ক সংস্কার কাজ চলছিল। এ সময় এক স্কেভেটর চালক দেখতে পান, পুরো শরীরে রক্তমাখা একটি শিশু জঙ্গল থেকে টলমল পায়ে রাস্তার দিকে আসছে। শ্রমিকরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তার গলার ক্ষত কাপড় দিয়ে চেপে ধরে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করেন। পরে তাকে একটি ট্রাকে করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উদ্ধারস্থল সহস্রধারা ঝরনা এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরে পাহাড়ি নির্জন পথ বলে জানা গেছে। শিশুটি ইশারায় বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে এমন নিষ্ঠুর আচরণ করেছে তাকে দেখলে সে চিনতে পারবে।

আরও পড়ুনঃ  মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ সারাদেশ

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, শিশুটির বাড়ি কুমিরা ইউনিয়নের মছজিদদা (মাস্টারপাড়া) এলাকায়। তার বাসা থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার। এত কম বয়সী একটি শিশু কীভাবে একা ইকোপার্কের এত গভীরে পৌঁছাল, তাকে কেউ তুলে নিয়ে গেছে কিনা, কিংবা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে কিনা এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করে সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, শিশুটির মা রোকেয়া বেগম রোববার রাতেই বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

এদিকে সোমবার রাতে হাসপাতালে শিশুকন্যাটিকে দেখতে গিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংগঠনের এমপি প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।