Dhaka ১২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পুকুরে গোসল করতে গিয়ে আরও এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু সিলেটে নয় মাসে পানিতে ডুবে শাবিপ্রবির ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু শিশু রায়হানের পা কাটা নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য বিদ্যুতের খুঁটিতে ধীরগতিতে চলছে মহাসড়কের কাজ, ভোগান্তিতে জনতা রবিউলের ‘বাবা’ ৯৩ জন! বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর অভিনব প্রতারণার কৌশল ঘুমন্ত শাশুড়িকে কো.পালেন নববধূ, দায় গেল ‘জিনের ঘাড়ে’ রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যাবে জাতীয় গ্রিডে গু.ম হওয়া ছাত্রদল নেতা আলামিনের মায়ের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আজ ইসির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সিলেটে বিএনপির কোন্দল প্রকাশ্যে, নগর রাজনীতিতে নতুন আলোচনা

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যাবে জাতীয় গ্রিডে

 রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ যুক্ত করার প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। আগামী মাসের মধ্যে কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে এক বৈঠকে রুশ রাষ্ট্রদূত এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে রাশিয়ার বিপুলসংখ্যক বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী বাংলাদেশে কাজ করছেন।

প্রকল্পের কারিগরি কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

রুশ রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি বিভিন্ন বিষয় সমাধান ও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় চার হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী বর্তমানে যুক্ত রয়েছেন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে বিভিন্ন কারিগরি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপরই বিদ্যুৎ সরবরাহের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করছে।

প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থায় রূপপুর প্রকল্পের কার্যক্রম নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ

বৈঠকে রূপপুর প্রকল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

রুশ রাষ্ট্রদূত দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে একটি যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে একটি ব্যবসায়িক ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

আলেকজান্ডার খোজিনের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসতে পারে।

ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগের পরিকল্পনা

প্রস্তাবিত ব্যবসায়িক ফোরামের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  আগামীকাল এক দিনের সফরে সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি, করবেন মাজার জিয়ারত

বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের পণ্য ও ব্যবসার ধরন বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সভা এবং ব্যবসায়ী-ব্যবসায়ী বৈঠকের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য বিনিয়োগ, পণ্য আমদানি-রপ্তানি এবং যৌথ ব্যবসার সুযোগ নিয়ে সরাসরি আলোচনা করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

পোশাকের পাশাপাশি নতুন পণ্যে গুরুত্ব

বৈঠকে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক।

তিনি রাশিয়ার বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত সামগ্রী এবং সিরামিক পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

এ ছাড়া দক্ষ ও প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ রাশিয়ার বাজারে পাঠানোর সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশি ওষুধ নিয়ে রাশিয়ার আগ্রহ

বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়টি রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে বলে বৈঠকে জানান রুশ রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি ওষুধ রাশিয়ার বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয়গুলো নিয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

রাশিয়ার শীতপ্রধান আবহাওয়ার উপযোগী ভারী জুতা এবং বিভিন্ন চামড়াজাত পণ্যের চাহিদার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ফলে এসব পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

রাশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান

কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ এবং সেবা খাতেও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে রাশিয়ার ভিসা দেওয়া হয়েছে।

দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও ব্যবসায়িক যোগাযোগ

এদিকে একই দিনে এফবিসিসিআই প্রশাসকের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল উইরাক্কোডি।

তিনি আগামী বছরের ১৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি কলম্বোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘শ্রীলঙ্কা এক্সপো ২০২৭’-এ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

আরও পড়ুনঃ  গুম নিয়ে কঠোর বার্তা রাষ্ট্রপতির, ক্ষমতাবান হলেও রেহাই নেই

বাংলাদেশ থেকে এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হলে সংগঠনটির প্রশাসক এতে ইতিবাচক সাড়া দেন।

একসঙ্গে জ্বালানি ও বাণিজ্য—দুই ক্ষেত্রেই অগ্রগতি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতির পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

জ্বালানি সহযোগিতার বাইরে ওষুধ, চামড়া, পাট, সিরামিক, কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ এবং মানবসম্পদসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ায় বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিট থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে প্রকল্পটির বাস্তব অবদান আরও দৃশ্যমান হবে। একই সঙ্গে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

পুকুরে গোসল করতে গিয়ে আরও এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যাবে জাতীয় গ্রিডে

Update Time : ১১:২৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ যুক্ত করার প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। আগামী মাসের মধ্যে কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে এক বৈঠকে রুশ রাষ্ট্রদূত এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে রাশিয়ার বিপুলসংখ্যক বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী বাংলাদেশে কাজ করছেন।

প্রকল্পের কারিগরি কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

রুশ রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি বিভিন্ন বিষয় সমাধান ও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় চার হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী বর্তমানে যুক্ত রয়েছেন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে বিভিন্ন কারিগরি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপরই বিদ্যুৎ সরবরাহের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করছে।

প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থায় রূপপুর প্রকল্পের কার্যক্রম নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ

বৈঠকে রূপপুর প্রকল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

রুশ রাষ্ট্রদূত দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে একটি যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে একটি ব্যবসায়িক ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

আলেকজান্ডার খোজিনের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসতে পারে।

ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগের পরিকল্পনা

প্রস্তাবিত ব্যবসায়িক ফোরামের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  রাতেই খুলে দেওয়া হচ্ছে কাপ্তাইয়ের ১৬ জলকপাট, বাড়ছে সতর্কতা

বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের পণ্য ও ব্যবসার ধরন বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সভা এবং ব্যবসায়ী-ব্যবসায়ী বৈঠকের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য বিনিয়োগ, পণ্য আমদানি-রপ্তানি এবং যৌথ ব্যবসার সুযোগ নিয়ে সরাসরি আলোচনা করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

পোশাকের পাশাপাশি নতুন পণ্যে গুরুত্ব

বৈঠকে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক।

তিনি রাশিয়ার বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত সামগ্রী এবং সিরামিক পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

এ ছাড়া দক্ষ ও প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ রাশিয়ার বাজারে পাঠানোর সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশি ওষুধ নিয়ে রাশিয়ার আগ্রহ

বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়টি রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে বলে বৈঠকে জানান রুশ রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি ওষুধ রাশিয়ার বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয়গুলো নিয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

রাশিয়ার শীতপ্রধান আবহাওয়ার উপযোগী ভারী জুতা এবং বিভিন্ন চামড়াজাত পণ্যের চাহিদার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ফলে এসব পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

রাশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান

কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ এবং সেবা খাতেও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে রাশিয়ার ভিসা দেওয়া হয়েছে।

দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও ব্যবসায়িক যোগাযোগ

এদিকে একই দিনে এফবিসিসিআই প্রশাসকের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল উইরাক্কোডি।

তিনি আগামী বছরের ১৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি কলম্বোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘শ্রীলঙ্কা এক্সপো ২০২৭’-এ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

আরও পড়ুনঃ  গুম নিয়ে কঠোর বার্তা রাষ্ট্রপতির, ক্ষমতাবান হলেও রেহাই নেই

বাংলাদেশ থেকে এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হলে সংগঠনটির প্রশাসক এতে ইতিবাচক সাড়া দেন।

একসঙ্গে জ্বালানি ও বাণিজ্য—দুই ক্ষেত্রেই অগ্রগতি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতির পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

জ্বালানি সহযোগিতার বাইরে ওষুধ, চামড়া, পাট, সিরামিক, কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ এবং মানবসম্পদসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ায় বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিট থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে প্রকল্পটির বাস্তব অবদান আরও দৃশ্যমান হবে। একই সঙ্গে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।