Dhaka ০৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

শোক সমাবেশ চলতেই থাকবে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ব্যর্থ হলে : তারেক রহমান

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫০১ Time View

মতবিনিময় সভায় কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

মতবিনিময় সভায় কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা যদি আবারও ব্যর্থ হই, তাহলে ভবিষ্যতেও আমাদের কেবল শোকসভা আর বেদনার ইতিহাসই লিখে যেতে হবে। তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে শোকের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়ের নতুন অধ্যায় রচনা করার।

রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারবর্গের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তারা সবাই জাতির প্রকৃত যোদ্ধা। ১৯৭১ সালে যেমন মুক্তিযোদ্ধারা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সাহসী মানুষরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আলাদা ইউনিট গঠন করা হবে, যার মূল দায়িত্ব হবে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, আমরা কাউকে হারানো প্রিয়জন ফিরিয়ে দিতে পারব না, তবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।

দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে অসংখ্য মানুষ গুম, হত্যা ও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই দেড় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এসব ঘটনাকে তিনি সরাসরি গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের এই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর উদ্যোগ ছিল না; এটি ছিল ধর্ম-বর্ণ-দল নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধার।

আরও পড়ুনঃ  অভিযুক্ত আকাশ গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শহীদ ও আহতদের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া করেন।

 

Tag :

Canlı casino deneyimi: Pinco casino ile gerçek zamanlı heyecan

শোক সমাবেশ চলতেই থাকবে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ব্যর্থ হলে : তারেক রহমান

Update Time : ১০:৪১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

মতবিনিময় সভায় কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

মতবিনিময় সভায় কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা যদি আবারও ব্যর্থ হই, তাহলে ভবিষ্যতেও আমাদের কেবল শোকসভা আর বেদনার ইতিহাসই লিখে যেতে হবে। তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে শোকের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়ের নতুন অধ্যায় রচনা করার।

রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারবর্গের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তারা সবাই জাতির প্রকৃত যোদ্ধা। ১৯৭১ সালে যেমন মুক্তিযোদ্ধারা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সাহসী মানুষরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আলাদা ইউনিট গঠন করা হবে, যার মূল দায়িত্ব হবে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, আমরা কাউকে হারানো প্রিয়জন ফিরিয়ে দিতে পারব না, তবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।

দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে অসংখ্য মানুষ গুম, হত্যা ও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই দেড় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এসব ঘটনাকে তিনি সরাসরি গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের এই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর উদ্যোগ ছিল না; এটি ছিল ধর্ম-বর্ণ-দল নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধার।

আরও পড়ুনঃ  ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির চার প্রার্থীর আবেদন হাইকোর্টে গ্রহণ 

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শহীদ ও আহতদের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া করেন।