Dhaka ০২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে খাটের নিচে ১৬ ফুটের অজগর, গভীর রাতে উদ্ধার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বসতবাড়ির খাটের নিচ থেকে প্রায় ১৬ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সাপটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার ইছবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মিতালি ডেকোরেটার্সের মালিক প্রয়াত হারুন মিয়ার বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় খাটের নিচ থেকে হঠাৎ ‘হিস হিস’ শব্দ শুনতে পান পরিবারের একজন।

পরে মোবাইল ফোনের আলো দিয়ে খাটের নিচে তাকাতেই দেখা যায় বিশাল আকৃতির একটি অজগর। সাপটি দেখে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি স্থানীয় চিকিৎসক প্রলাদ বাবুকে জানানো হলে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যদের খবর দেন। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি নিরাপদে উদ্ধার করেন।

উদ্ধার হওয়া অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ২৬ কেজি। পরে সেটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর বিষধর নয় এবং সাধারণত মানুষের জন্য হুমকি তৈরি করে না। এরা মূলত নিশাচর এবং প্রয়োজন ছাড়া খুব বেশি চলাফেরা করে না। ইঁদুর, পাখি ও বিভিন্ন ছোট প্রাণীসহ নানা ধরনের প্রাণী এদের খাদ্য।

তিনি আরও জানান, চামড়ার জন্য অজগর পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় এ প্রজাতি সংরক্ষিত। তাই অজগর হত্যা বা কোনো ধরনের ক্ষতি করা আইনত দণ্ডনীয়।

বন্যপ্রাণী সাপসহ কোনো বন্যপ্রাণী লোকালয়ে দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে না মেরে বন বিভাগ অথবা বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  দৌলতদিয়ায় দুর্ঘটনা: ২৬ মরদেহ উদ্ধার, জানা গেল পরিচয়
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শ্রীমঙ্গলে খাটের নিচে ১৬ ফুটের অজগর, গভীর রাতে উদ্ধার

Update Time : ০২:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বসতবাড়ির খাটের নিচ থেকে প্রায় ১৬ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সাপটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার ইছবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মিতালি ডেকোরেটার্সের মালিক প্রয়াত হারুন মিয়ার বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় খাটের নিচ থেকে হঠাৎ ‘হিস হিস’ শব্দ শুনতে পান পরিবারের একজন।

পরে মোবাইল ফোনের আলো দিয়ে খাটের নিচে তাকাতেই দেখা যায় বিশাল আকৃতির একটি অজগর। সাপটি দেখে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি স্থানীয় চিকিৎসক প্রলাদ বাবুকে জানানো হলে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যদের খবর দেন। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি নিরাপদে উদ্ধার করেন।

উদ্ধার হওয়া অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ২৬ কেজি। পরে সেটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর বিষধর নয় এবং সাধারণত মানুষের জন্য হুমকি তৈরি করে না। এরা মূলত নিশাচর এবং প্রয়োজন ছাড়া খুব বেশি চলাফেরা করে না। ইঁদুর, পাখি ও বিভিন্ন ছোট প্রাণীসহ নানা ধরনের প্রাণী এদের খাদ্য।

তিনি আরও জানান, চামড়ার জন্য অজগর পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় এ প্রজাতি সংরক্ষিত। তাই অজগর হত্যা বা কোনো ধরনের ক্ষতি করা আইনত দণ্ডনীয়।

বন্যপ্রাণী সাপসহ কোনো বন্যপ্রাণী লোকালয়ে দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে না মেরে বন বিভাগ অথবা বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বাবা-মাকে স্টেশনে রেখে দুই শিশুকে নিয়ে ছুটল ট্রেন, পরে যা হলো