Dhaka ০৪:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের সন্ধানে দুদিন ধরে মাইকিং করছেন এক যুবক ৮ দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ, থামল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঢাকায় গোপন বৈঠক, যুবলীগের ৮ নেতা গ্রেপ্তার বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি হবে কীভাবে, জানালেন রিজভ রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, সাজছে নগরী ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ: বিমানমন্ত্রী ফ্ল্যাটের চেয়েও কবরের দাম বেশি, এক টুকরো কবরস্থানের দাম সাড়ে ৪ কোটি ভারতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী, হুমায়ূন কবীরের ঘোষণার পরই বিদ্যুৎ নিয়ে আদানির তালবাহানা!

সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশেও শেষ রক্ষা হলো না শীর্ষ ছিনতাইকারী ‘মাছচোরা রাজীবের’

সিলেটে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি রাজীব গ্রেপ্তার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে বিভিন্ন ধরনের ছদ্মবেশ ধারণ করে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। গ্রেপ্তারের সময়ও নিজেকে আড়াল করতে ‘সন্ন্যাসী’র ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরের কাষ্টঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বন্দর বাজার ফাঁড়ি পুলিশ, ডিবি ও সিআরটি স্পেশাল টিমের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার রাজীব কোতোয়ালী মডেল থানার একটি পুলিশ এসল্ট মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, দস্যুতা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ পাঁচটিরও বেশি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, রাজীবের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা মামলা নং-২৪(৮)২৬ (পুলিশ এসল্ট) রয়েছে। ওই মামলায় তাকে এজাহারনামীয় প্রধান আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র আইনের মামলা, দুটি দস্যুতার মামলা এবং একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাসহ পাঁচটিরও বেশি মামলা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, এসব মামলায় আইনগত প্রক্রিয়া এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন রাজীব। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নিয়মিত নিজের পরিচয় ও বাহ্যিক অবয়ব পরিবর্তন করতেন। কখনো এক ধরনের পোশাক, আবার কখনো অন্য ধরনের বেশ ধারণ করে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সর্বশেষ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের আগে তিনি নিজেকে আড়াল করতে ‘সন্ন্যাসী’র ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন। তার পোশাক-পরিচ্ছদ ও বেশভূষা দেখে সহজে তাকে শনাক্ত করা কঠিন ছিল বলে জানিয়েছে অভিযান পরিচালনাকারী দল। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত করে পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়।

পরে কাষ্টঘর এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজীব দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজর এড়িয়ে চলছিলেন। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর কারণে তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর বন্দর বাজার ফাঁড়ি পুলিশ, ডিবি ও সিআরটি স্পেশাল টিম সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে সফলতা পায়।

আরও পড়ুনঃ  দুই দিনের সফরে ৬ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রাজীবের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার সময়ে তিনি কোথায় কোথায় অবস্থান করেছেন, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

গ্রেপ্তারের পর তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। মামলাগুলোর তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে

সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশেও শেষ রক্ষা হলো না শীর্ষ ছিনতাইকারী ‘মাছচোরা রাজীবের’

Update Time : ১১:১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি রাজীব গ্রেপ্তার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে বিভিন্ন ধরনের ছদ্মবেশ ধারণ করে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। গ্রেপ্তারের সময়ও নিজেকে আড়াল করতে ‘সন্ন্যাসী’র ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরের কাষ্টঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বন্দর বাজার ফাঁড়ি পুলিশ, ডিবি ও সিআরটি স্পেশাল টিমের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার রাজীব কোতোয়ালী মডেল থানার একটি পুলিশ এসল্ট মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, দস্যুতা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ পাঁচটিরও বেশি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, রাজীবের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা মামলা নং-২৪(৮)২৬ (পুলিশ এসল্ট) রয়েছে। ওই মামলায় তাকে এজাহারনামীয় প্রধান আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র আইনের মামলা, দুটি দস্যুতার মামলা এবং একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাসহ পাঁচটিরও বেশি মামলা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, এসব মামলায় আইনগত প্রক্রিয়া এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন রাজীব। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নিয়মিত নিজের পরিচয় ও বাহ্যিক অবয়ব পরিবর্তন করতেন। কখনো এক ধরনের পোশাক, আবার কখনো অন্য ধরনের বেশ ধারণ করে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সর্বশেষ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের আগে তিনি নিজেকে আড়াল করতে ‘সন্ন্যাসী’র ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন। তার পোশাক-পরিচ্ছদ ও বেশভূষা দেখে সহজে তাকে শনাক্ত করা কঠিন ছিল বলে জানিয়েছে অভিযান পরিচালনাকারী দল। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত করে পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়।

পরে কাষ্টঘর এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজীব দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজর এড়িয়ে চলছিলেন। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর কারণে তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর বন্দর বাজার ফাঁড়ি পুলিশ, ডিবি ও সিআরটি স্পেশাল টিম সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে সফলতা পায়।

আরও পড়ুনঃ  শ্রীমঙ্গলে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইকচালক নিহত

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রাজীবের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার সময়ে তিনি কোথায় কোথায় অবস্থান করেছেন, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

গ্রেপ্তারের পর তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। মামলাগুলোর তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।