Dhaka ০৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
এক চোখ অন্ধ, অন্য চোখেও কম দেখেন; অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই ৯১ বছরের ইউনুছ মিয়ার হঠাৎ সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনে দুই প্রতিমন্ত্রী, অতঃপর… সীমান্তে বিজিবির অভিযান, প্রায় ৮০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ বাথরুমে আটকে রাখা ও গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, ১১ বছরের শি শু তানিয়ার শরীরে ধরেছে পচন ভালোবাসে বিয়ে, তিন বছর পর স্বামীর হাতেই প্রাণ গেল মিমের চুল কাটতে বের হয়ে ৭ মাস পর ফিরলেন রায়হান, এক পা কেটে করানো হয় ভিক্ষাবৃত্তি আগামীকাল এক দিনের সফরে সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি, করবেন মাজার জিয়ারত সময় শেষ হলেও পার্থকে আরও ৮ মিনিট বক্তব্যের সুযোগ, স্পিকারের সঙ্গে রসিকতা ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় পুতুলের নিয়োগ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য লজ্জার’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্ত্রীকে হত্যার পর ফজরের নামাজ পড়ে পালালেন স্বামী, অতঃপর..

স্ত্রীকে হত্যার পর ফজরের নামাজ পড়ে পালালেন স্বামী, অতঃপর..

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, হত্যার পরও বাড়িতে অবস্থান করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরে ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যান তিনি। তবে ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম সুমন সরকার (৪০)। তিনি গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় রংমিস্ত্রি। নিহত নারী রিনা বেগমের (৩২) সঙ্গে প্রায় ১৭ বছর আগে তার বিয়ে হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে খাবার চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এ সময় সুমন তার স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে রাতের দিকে রিনা তার মেয়েকে নিয়ে একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। সুমনও অন্য একটি কক্ষে ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রাতের কোনো একসময় তিনি স্ত্রীর কক্ষে গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় রিনাকে শ্বাসরোধ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার পর সুমন বাড়িতেই ছিলেন। ভোরে স্থানীয় মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করেন। এরপর পরিস্থিতি বুঝে কুমিল্লার দিকে চলে যান।

পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়ার পর নিজের অবস্থান গোপন রাখতে সুমন কুমিল্লার বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল গজারিয়া থানা পুলিশ।

পরে পুলিশের একটি দল তার অবস্থান শনাক্ত করে। ঢাকার দিকে যাওয়ার সময় টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন সুমন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল বলেও প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগও ছিল বলে জানায় পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ  ভারতের ঝাড়খন্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৭

এ ঘটনায় নিহত রিনার ভাই সাফায়েত হোসেন বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সুমন সরকারসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার সুমনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

এক চোখ অন্ধ, অন্য চোখেও কম দেখেন; অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই ৯১ বছরের ইউনুছ মিয়ার

স্ত্রীকে হত্যার পর ফজরের নামাজ পড়ে পালালেন স্বামী, অতঃপর..

Update Time : ১২:৩১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, হত্যার পরও বাড়িতে অবস্থান করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরে ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যান তিনি। তবে ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম সুমন সরকার (৪০)। তিনি গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় রংমিস্ত্রি। নিহত নারী রিনা বেগমের (৩২) সঙ্গে প্রায় ১৭ বছর আগে তার বিয়ে হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে খাবার চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এ সময় সুমন তার স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে রাতের দিকে রিনা তার মেয়েকে নিয়ে একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। সুমনও অন্য একটি কক্ষে ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রাতের কোনো একসময় তিনি স্ত্রীর কক্ষে গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় রিনাকে শ্বাসরোধ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার পর সুমন বাড়িতেই ছিলেন। ভোরে স্থানীয় মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করেন। এরপর পরিস্থিতি বুঝে কুমিল্লার দিকে চলে যান।

পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়ার পর নিজের অবস্থান গোপন রাখতে সুমন কুমিল্লার বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল গজারিয়া থানা পুলিশ।

পরে পুলিশের একটি দল তার অবস্থান শনাক্ত করে। ঢাকার দিকে যাওয়ার সময় টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন সুমন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল বলেও প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগও ছিল বলে জানায় পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ  আবারও চালু হচ্ছে যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা

এ ঘটনায় নিহত রিনার ভাই সাফায়েত হোসেন বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সুমন সরকারসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার সুমনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।