পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকা না থাকা নিয়ে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমে আলোচনা চলছেই। তবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কে নিউজ করছে, কোন নিউজপেপার? কার এত জ্বালা? মানে কাজকর্ম থুইয়া…।’ পরে নিজের বাংলাদেশি পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশি। এখানে তো বাংলাদেশি মিনিস্টার হিসেবে আছি। আমি মনে করি না আমার বাংলাদেশিত্ব নিয়ে কেউ প্রশ্ন করবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে তিনি এসেছেন এবং এটি কোনো সুবিধা নেওয়ার বিষয় নয়।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বসবাস করেছেন এবং সেখানে রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব তিনি এখনও ধরে রেখেছেন কি না, সেটিই বর্তমানে বিতর্কের মূল বিষয়।
এদিকে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্য বিএনপির একাধিক নেতার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিক। তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি সেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, তা তাঁরা নিশ্চিত করতে পারেননি। বাংলাদেশ সরকারের সূত্রগুলোর কাছেও তাঁর নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদনসংক্রান্ত নিশ্চিত তথ্য নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তিকেও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকারের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্যতার কথা বলা হয়েছে।
এ কারণে হুমায়ুন কবিরের বর্তমান নাগরিকত্বের আইনি অবস্থান এবং প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন কি না—এ প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ না বলে হুমায়ুন কবির নিজের বাংলাদেশি পরিচয় ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















