বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: ১৯ দফার রাজনীতি ও সময়ের পরিবর্তনে এর প্রাসঙ্গিকতা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মঙ্গলবার ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর আত্মপ্রকাশের পর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় দলটি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার সময় দলটির রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি।
প্রতিষ্ঠার প্রায় পাঁচ দশক পরও বিএনপির রাজনীতিতে ১৯ দফা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। দলের প্রবীণ নেতারা মনে করেন, সময়ের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এলেও আত্মনির্ভরতা, গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, জাতীয় ঐক্য এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯ দফার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচির সমন্বয় করার চেষ্টা। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, কৃষি উৎপাদন, শিল্পায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণকে এতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ
১৯ দফার শুরুতেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাষ্ট্রের স্বাধীন অস্তিত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশের স্বার্থ রক্ষাকে রাজনৈতিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।
বিএনপির নেতাদের মতে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করা এবং জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা জোরদার করা ১৯ দফার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।
রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতি ও আদর্শ
১৯ দফায় রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে কয়েকটি মৌলিক নীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের ধারণাকে সেখানে স্থান দেওয়া হয়।
দলটির রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
জনগণের অংশগ্রহণ ও আত্মনির্ভরতা
১৯ দফার আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল প্রশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে জনগণের সম্পৃক্ততা। কেন্দ্রীয়ভাবে সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
আত্মনির্ভরতার বিষয়টিও ১৯ দফায় বিশেষভাবে উঠে আসে। রাষ্ট্র ও জনগণের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার লক্ষ্য এতে প্রতিফলিত হয়।
দলের নেতারা মনে করেন, বর্তমান সময়েও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর প্রশ্নে এই ধারণাগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
নাগরিক অধিকার ও জাতীয় ঐক্য
ধর্ম, বর্ণ, মত ও রাজনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে নাগরিকদের অধিকার রক্ষার ওপরও ১৯ দফায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সংহতি শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা এতে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মতো বৈচিত্র্যময় সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহাবস্থান এবং জাতীয় ঐক্য রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১৯ দফায় এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ করা হয়েছিল।
কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯ দফায় কৃষির উন্নয়নকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কৃষকের উৎপাদন বাড়ানো, কৃষি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিল।
দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি এ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
বর্তমান বাংলাদেশে কৃষি খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার, আধুনিক সেচব্যবস্থা, উন্নত বীজ, কৃষিপণ্যের বাজার ও কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিয়ে যে আলোচনা রয়েছে, তার সঙ্গে ১৯ দফার কৃষিকেন্দ্রিক চিন্তার কিছু মিল খুঁজে পান দলটির নেতারা।
পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ
বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে আসছে। এ বাস্তবতায় পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকেও ১৯ দফায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
দেশের নদী, খাল, নিম্নভূমি ও বদ্বীপভিত্তিক ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় পানি নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানোর বিষয়গুলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তা সেখানে উঠে আসে।
শিল্পায়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধি
কৃষির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে শিল্পায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। শিল্প খাতে উৎপাদন বাড়ানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ ছিল এ চিন্তার অন্যতম দিক।
১৯ দফার মাধ্যমে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে উৎপাদন ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয় বলে বিএনপির নেতারা মনে করেন।
মানুষের মৌলিক চাহিদা
নাগরিকদের খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজন পূরণকে ১৯ দফার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দারিদ্র্য কমানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য এসব মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে নিরক্ষরতা দূর করে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বর্তমান সময়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়লেও মানসম্মত ও সবার জন্য সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখনো বাংলাদেশের অন্যতম বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ। এ কারণেই বিএনপির নেতারা ১৯ দফার এই অংশকে বর্তমান বাস্তবতায়ও গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরেন।
গ্রামীণ উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ
১৯ দফায় শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাড়ানো এবং প্রশাসনের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের ধারণাকে সামনে আনা হয়।
বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী গ্রামে বসবাস করায় দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গ্রামীণ অর্থনীতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, স্থানীয় শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ধারণা এ কর্মসূচিতে স্থান পেয়েছিল।
জনসংখ্যা ও পরিবার পরিকল্পনা
জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে একটি বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও ১৯ দফায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পরিবারে অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং জীবনমান উন্নয়নের বিষয়গুলোও এর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিস্থিতিতেও পরিবর্তন এসেছে। ফলে বর্তমানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
দুর্নীতি দমন ও প্রশাসনিক সংস্কার
সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দুর্নীতি কমানোর বিষয়টিও ১৯ দফায় গুরুত্ব পায়। সরকারি প্রশাসনকে আরও কার্যকর করা, দায়িত্বশীলতা বাড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনসেবামুখী করার প্রয়োজনীয়তা এতে প্রতিফলিত হয়।
একই সঙ্গে সিভিল সার্ভিসের দক্ষতা বাড়ানো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সংস্কারের কথাও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
শ্রমিক ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
দেশের উন্নয়নে শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা বিবেচনায় শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়টিও ১৯ দফায় স্থান পেয়েছিল। উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টিও ছিল এ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ দিক।
ভূমি সংস্কার ও বেসরকারি খাত
ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ভূমি সংস্কারের বিষয়টি ১৯ দফার অন্যতম আলোচিত অংশ। কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার এবং উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে এ বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত ছিল।
অন্যদিকে অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা বাড়ানো এবং উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার ধারণাও এতে গুরুত্ব পায়। উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বেসরকারি উদ্যোগকে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
যুবসমাজ ও নারীর অংশগ্রহণ
দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তরুণদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও ১৯ দফায় গুরুত্ব পেয়েছিল। যুবসমাজকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল শক্তিতে পরিণত করার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
একইভাবে নারীর অধিকার, মর্যাদা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তা এ কর্মসূচিতে তুলে ধরা হয়েছিল।
বর্তমান সময়ে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ, উদ্যোক্তা তৈরি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির যে বিষয়গুলো জাতীয় উন্নয়নের আলোচনায় রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে এই দৃষ্টিভঙ্গির সম্পর্ক রয়েছে বলে বিএনপির নেতারা মনে করেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতি
১৯ দফায় বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির কথা বলা হয়।
একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ধারণা এতে তুলে ধরা হয়েছিল।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ১৯ দফা
১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে এটি বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব দেখা যায়।
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। কৃষি, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষা, যোগাযোগ, নগরায়ণ এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে দেশ অনেক দূর এগিয়েছে। একই সময়ে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে।
তবে বিএনপির নেতাদের মতে, ১৯ দফার মূল দর্শনের কয়েকটি বিষয়—জাতীয় স্বার্থ, আত্মনির্ভরতা, জনগণের অংশগ্রহণ, গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সুশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার—বর্তমান সময়েও প্রাসঙ্গিক।
নতুন বাস্তবতায় পুরোনো কর্মসূচির মূল্যায়ন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, প্রায় পাঁচ দশক আগের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিকে বর্তমান বাস্তবতায় মূল্যায়ন করতে হলে তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে সময়ের সঙ্গে অর্থনীতি ও সমাজের পরিবর্তনের কারণে কর্মসূচির অনেক বিষয় নতুনভাবে ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়নের প্রয়োজন হতে পারে।
বিএনপির পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, ১৯ দফার মূল লক্ষ্যগুলোকে আধুনিক রাষ্ট্রের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়নের উদ্যোগই তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম লক্ষ্য।
দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাই ১৯ দফা আবারও আলোচনায় এসেছে। বিএনপির প্রায় অর্ধশতাব্দীর রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত এই কর্মসূচি দলটির অতীত রাজনৈতিক দর্শনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নিয়েও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
desk news 



















