Dhaka ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন সোমবার যুদ্ধের মধ্যেই জ্বালানি নিয়ে বড় সুখবর দিল ইরান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধ র্ষ ণের দায়ে দুজনের যাবজ্জীবন ইসলামি বক্তা মিসবাহের ‘১০ নম্বর স্ত্রী’ হতে চান কনটেন্ট ক্রিয়েটর মীম সিলেটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ আসামি গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হলেন আবু আউয়াল সিলেটের মেয়ে রুবাইয়ার  ৭৩ লাখ ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার এয়ার হোস্টেস থেকে পুলিশ কর্মকর্তা, এবার কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে বরখাস্ত

জানালা বেয়ে নেমে বাঁচলেন বাংলাদেশি দম্পতি

  • desk news
  • Update Time : ০৪:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৬ Time View

প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় ঘুরতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি দম্পতি সোমাইয়া আখতার ও রেজাউল ইসলাম। দু’দিন আগে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে উঠেছিলেন তারা। মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎ তাদের ঘরের দরজায় কেউ জোরে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। জানতে পারেন আগুন লেগেছে। প্রাণ বাঁচাতে জানালা বেয়ে নেমে পড়েন কার্নিসে। পরে দমকলবাহিনীর সদস্যরা এসে মই দিয়ে নামিয়ে আনেন তাদের।

গভীর রাতে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে দমকলবাহিনী। তার পর কেটে  গেছে কয়েক ঘণ্টা। তবে এখনও সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি সোমাইয়া ও রেজাউল। কীভাবে জানলা দিয়ে বের হলেন, কীভাবে কার্নিসের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং উদ্ধার হলেন, তা ভাবতে গিয়ে শিউরে উঠছে এই দম্পতি।

কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারকে সোমাইয়া বলেন, ‘‘রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে হঠাৎ আমাদের ঘরের দরজায় কেউ জোরে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। আমি সজাগ ছিলাম। ধাক্কার শব্দে ঘুম ভাঙে আমার স্বামীর। দু’জনে বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেখি বারান্দা ধোঁয়ায় ভরে গেছে।’’

চিৎকার, ধোঁয়া দেখেও সেই সময় মাথা ঠান্ডা রেখেছিলেন রেজাউল। স্ত্রী যাতে আতঙ্কিত না হয়ে পড়েন, সে দিকে যেমন নজর ছিল, তেমনই তার মাথার মধ্যে ঘুরছিল বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার চিন্তা।

দ্রুত চিন্তা করে রেজাউল ঠিক করেন, দরজা দিয়ে নয়, জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান জানালার কাছে। জানালা খুলে নেমে পড়েন কার্নিসে। সোমাইয়ার কথায়, ‘‘কার্নিসে দাঁড়িয়ে হেল্প, হেল্প, আগুন আগুন বলে চিৎকার করছিলাম।’’

তিনতলার কার্নিস থেকে রাস্তা ভালোভাবে দেখা যাচ্ছিল না। রাস্তা থেকে কেউ উপরের দিকে তাকালেও তাৎক্ষণিকভাবে বোঝার উপায় ছিল না কার্নিসে কেউ আছেন কি না। সেই কারণে ওই দম্পতি মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুনঃ  ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল

সোমাইয়া বলেন, ‘‘রাস্তা দিয়ে যারা যাচ্ছিলেন, তাদের ডেকে আমাদের বিপদের কথা বলি। প্রায় আধা ঘণ্টা ওই অবস্থায় আমরা কার্নিসে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’’ পরে তিনতলার ওই কার্নিস থেকে দু’জনকে মই দিয়ে নামিয়ে আনেন দমকলকর্মীরা।

সোমাইয়া-রেজাউল ছাড়াও ওই ভবনের একাধিক হোটেলে বাংলাদেশ থেকে আগত আরও অনেকেই ছিলেন। কেউ এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে, কেউ ব্যবসার কাজে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ বাংলাদেশির প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন

জানালা বেয়ে নেমে বাঁচলেন বাংলাদেশি দম্পতি

Update Time : ০৪:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় ঘুরতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি দম্পতি সোমাইয়া আখতার ও রেজাউল ইসলাম। দু’দিন আগে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে উঠেছিলেন তারা। মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎ তাদের ঘরের দরজায় কেউ জোরে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। জানতে পারেন আগুন লেগেছে। প্রাণ বাঁচাতে জানালা বেয়ে নেমে পড়েন কার্নিসে। পরে দমকলবাহিনীর সদস্যরা এসে মই দিয়ে নামিয়ে আনেন তাদের।

গভীর রাতে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে দমকলবাহিনী। তার পর কেটে  গেছে কয়েক ঘণ্টা। তবে এখনও সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি সোমাইয়া ও রেজাউল। কীভাবে জানলা দিয়ে বের হলেন, কীভাবে কার্নিসের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং উদ্ধার হলেন, তা ভাবতে গিয়ে শিউরে উঠছে এই দম্পতি।

কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারকে সোমাইয়া বলেন, ‘‘রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে হঠাৎ আমাদের ঘরের দরজায় কেউ জোরে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। আমি সজাগ ছিলাম। ধাক্কার শব্দে ঘুম ভাঙে আমার স্বামীর। দু’জনে বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেখি বারান্দা ধোঁয়ায় ভরে গেছে।’’

চিৎকার, ধোঁয়া দেখেও সেই সময় মাথা ঠান্ডা রেখেছিলেন রেজাউল। স্ত্রী যাতে আতঙ্কিত না হয়ে পড়েন, সে দিকে যেমন নজর ছিল, তেমনই তার মাথার মধ্যে ঘুরছিল বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার চিন্তা।

দ্রুত চিন্তা করে রেজাউল ঠিক করেন, দরজা দিয়ে নয়, জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান জানালার কাছে। জানালা খুলে নেমে পড়েন কার্নিসে। সোমাইয়ার কথায়, ‘‘কার্নিসে দাঁড়িয়ে হেল্প, হেল্প, আগুন আগুন বলে চিৎকার করছিলাম।’’

তিনতলার কার্নিস থেকে রাস্তা ভালোভাবে দেখা যাচ্ছিল না। রাস্তা থেকে কেউ উপরের দিকে তাকালেও তাৎক্ষণিকভাবে বোঝার উপায় ছিল না কার্নিসে কেউ আছেন কি না। সেই কারণে ওই দম্পতি মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুনঃ  র‍্যাব ডিজি, এসবি-সিআইডি প্রধানসহ পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে রদবদল

সোমাইয়া বলেন, ‘‘রাস্তা দিয়ে যারা যাচ্ছিলেন, তাদের ডেকে আমাদের বিপদের কথা বলি। প্রায় আধা ঘণ্টা ওই অবস্থায় আমরা কার্নিসে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’’ পরে তিনতলার ওই কার্নিস থেকে দু’জনকে মই দিয়ে নামিয়ে আনেন দমকলকর্মীরা।

সোমাইয়া-রেজাউল ছাড়াও ওই ভবনের একাধিক হোটেলে বাংলাদেশ থেকে আগত আরও অনেকেই ছিলেন। কেউ এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে, কেউ ব্যবসার কাজে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ বাংলাদেশির প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে।