Dhaka ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে বাণিজ্য মেলার দ্বিতীয় দিনেই উপচে পড়া ভিড়, দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট সিলেটে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিককে গু.লি করে হ ত্যা সিলেটে ডিসকাউন্টের নামে প্রতারণা: ৪ কাপড়ের দোকানকে ৭২ হাজার টাকা জরিমানা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ভূখণ্ড সিলেট: পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সিউক চেয়ারম্যান দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার নাম দেশের জন্য লজ্জার: প্রধানমন্ত্রী সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের দুই সাধারণ সম্পাদককে সম্মাননা প্রদান ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ৫ হাজার টাকা দাবি! ‘নেতাদের ভাগ দিতে হবে’ —ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সুনামগঞ্জে তোলপাড় সৌদি আরবে অনৈতিক কাজের অপরাধে বাংলাদেশি দুই নারী-পুরুষের ফাঁ.সি সিলেটে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে বিএনপির ৭ ‘তদারকি কমিটি’

জানালা বেয়ে নেমে বাঁচলেন বাংলাদেশি দম্পতি

  • desk news
  • Update Time : ০৪:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৪৩ Time View

প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় ঘুরতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি দম্পতি সোমাইয়া আখতার ও রেজাউল ইসলাম। দু’দিন আগে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে উঠেছিলেন তারা। মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎ তাদের ঘরের দরজায় কেউ জোরে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। জানতে পারেন আগুন লেগেছে। প্রাণ বাঁচাতে জানালা বেয়ে নেমে পড়েন কার্নিসে। পরে দমকলবাহিনীর সদস্যরা এসে মই দিয়ে নামিয়ে আনেন তাদের।

গভীর রাতে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে দমকলবাহিনী। তার পর কেটে  গেছে কয়েক ঘণ্টা। তবে এখনও সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি সোমাইয়া ও রেজাউল। কীভাবে জানলা দিয়ে বের হলেন, কীভাবে কার্নিসের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং উদ্ধার হলেন, তা ভাবতে গিয়ে শিউরে উঠছে এই দম্পতি।

কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারকে সোমাইয়া বলেন, ‘‘রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে হঠাৎ আমাদের ঘরের দরজায় কেউ জোরে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। আমি সজাগ ছিলাম। ধাক্কার শব্দে ঘুম ভাঙে আমার স্বামীর। দু’জনে বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেখি বারান্দা ধোঁয়ায় ভরে গেছে।’’

চিৎকার, ধোঁয়া দেখেও সেই সময় মাথা ঠান্ডা রেখেছিলেন রেজাউল। স্ত্রী যাতে আতঙ্কিত না হয়ে পড়েন, সে দিকে যেমন নজর ছিল, তেমনই তার মাথার মধ্যে ঘুরছিল বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার চিন্তা।

দ্রুত চিন্তা করে রেজাউল ঠিক করেন, দরজা দিয়ে নয়, জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান জানালার কাছে। জানালা খুলে নেমে পড়েন কার্নিসে। সোমাইয়ার কথায়, ‘‘কার্নিসে দাঁড়িয়ে হেল্প, হেল্প, আগুন আগুন বলে চিৎকার করছিলাম।’’

তিনতলার কার্নিস থেকে রাস্তা ভালোভাবে দেখা যাচ্ছিল না। রাস্তা থেকে কেউ উপরের দিকে তাকালেও তাৎক্ষণিকভাবে বোঝার উপায় ছিল না কার্নিসে কেউ আছেন কি না। সেই কারণে ওই দম্পতি মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুনঃ  চালুর পরদিনই ফাঁকা মহিলা বাস, যাত্রীদের আগ্রহ কম

সোমাইয়া বলেন, ‘‘রাস্তা দিয়ে যারা যাচ্ছিলেন, তাদের ডেকে আমাদের বিপদের কথা বলি। প্রায় আধা ঘণ্টা ওই অবস্থায় আমরা কার্নিসে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’’ পরে তিনতলার ওই কার্নিস থেকে দু’জনকে মই দিয়ে নামিয়ে আনেন দমকলকর্মীরা।

সোমাইয়া-রেজাউল ছাড়াও ওই ভবনের একাধিক হোটেলে বাংলাদেশ থেকে আগত আরও অনেকেই ছিলেন। কেউ এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে, কেউ ব্যবসার কাজে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ বাংলাদেশির প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে বাণিজ্য মেলার দ্বিতীয় দিনেই উপচে পড়া ভিড়, দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট

জানালা বেয়ে নেমে বাঁচলেন বাংলাদেশি দম্পতি

Update Time : ০৪:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় ঘুরতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি দম্পতি সোমাইয়া আখতার ও রেজাউল ইসলাম। দু’দিন আগে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে উঠেছিলেন তারা। মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎ তাদের ঘরের দরজায় কেউ জোরে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। জানতে পারেন আগুন লেগেছে। প্রাণ বাঁচাতে জানালা বেয়ে নেমে পড়েন কার্নিসে। পরে দমকলবাহিনীর সদস্যরা এসে মই দিয়ে নামিয়ে আনেন তাদের।

গভীর রাতে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে দমকলবাহিনী। তার পর কেটে  গেছে কয়েক ঘণ্টা। তবে এখনও সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি সোমাইয়া ও রেজাউল। কীভাবে জানলা দিয়ে বের হলেন, কীভাবে কার্নিসের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং উদ্ধার হলেন, তা ভাবতে গিয়ে শিউরে উঠছে এই দম্পতি।

কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারকে সোমাইয়া বলেন, ‘‘রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে হঠাৎ আমাদের ঘরের দরজায় কেউ জোরে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। আমি সজাগ ছিলাম। ধাক্কার শব্দে ঘুম ভাঙে আমার স্বামীর। দু’জনে বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেখি বারান্দা ধোঁয়ায় ভরে গেছে।’’

চিৎকার, ধোঁয়া দেখেও সেই সময় মাথা ঠান্ডা রেখেছিলেন রেজাউল। স্ত্রী যাতে আতঙ্কিত না হয়ে পড়েন, সে দিকে যেমন নজর ছিল, তেমনই তার মাথার মধ্যে ঘুরছিল বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার চিন্তা।

দ্রুত চিন্তা করে রেজাউল ঠিক করেন, দরজা দিয়ে নয়, জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান জানালার কাছে। জানালা খুলে নেমে পড়েন কার্নিসে। সোমাইয়ার কথায়, ‘‘কার্নিসে দাঁড়িয়ে হেল্প, হেল্প, আগুন আগুন বলে চিৎকার করছিলাম।’’

তিনতলার কার্নিস থেকে রাস্তা ভালোভাবে দেখা যাচ্ছিল না। রাস্তা থেকে কেউ উপরের দিকে তাকালেও তাৎক্ষণিকভাবে বোঝার উপায় ছিল না কার্নিসে কেউ আছেন কি না। সেই কারণে ওই দম্পতি মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুনঃ  দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে অভিনেতা ইলিয়াস জাবেদ

সোমাইয়া বলেন, ‘‘রাস্তা দিয়ে যারা যাচ্ছিলেন, তাদের ডেকে আমাদের বিপদের কথা বলি। প্রায় আধা ঘণ্টা ওই অবস্থায় আমরা কার্নিসে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’’ পরে তিনতলার ওই কার্নিস থেকে দু’জনকে মই দিয়ে নামিয়ে আনেন দমকলকর্মীরা।

সোমাইয়া-রেজাউল ছাড়াও ওই ভবনের একাধিক হোটেলে বাংলাদেশ থেকে আগত আরও অনেকেই ছিলেন। কেউ এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে, কেউ ব্যবসার কাজে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ বাংলাদেশির প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে।