Dhaka ০১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ছেলে থেকে মেয়ে হয়ে এবার ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি পেলেন অনায়া ‘মক্কা চুক্তি’তে যোগ দিলে বাংলাদেশের জন্য থাকছে যত সুযোগ-সম্ভাবনা ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত বাইক আমদানির সুযোগ, বাজারে নতুন ব্র্যান্ড তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মমিসহ ৪ জন গ্রেপ্তার একই পরিবারের চারজনকে হত্যা: ময়নাতদন্ত ও জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য নেপালে বন্যায় বাংলাদেশিদের হতাহতের বিষয়ে যা জানাল রাষ্ট্রদূত নেপালের বন্যায় আটকা তাসরিফ খান, চাইলেন দোয়া অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা এক শিশুর বর্ণনায় নেপালের বন্যা-ভূমিধস ভারী বৃষ্টির কারণে মক্কায়, ‘রেড অ্যাল্যার্ট’ জারি নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: ১৫০০ নিখোঁজ, ৮০০ জনই বিদেশি

একই পরিবারের চারজনকে হত্যা: ময়নাতদন্ত ও জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ আদালতে দেওয়া আসামি সীমান্ত দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ১৬৪ ধারার জবানবন্দির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস ঘটনার আগে ইয়াবা সেবনের জন্য গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে অবস্থান করছিলেন। ভোরে গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেলেন এবং ধমক দেন। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জবানবন্দি অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গামছা দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর গলায় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। পরে শব্দ পেয়ে তার স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে এলে তাদেরও গলা চেপে হত্যা করা হয়।

এরপর তারা বাড়ির ভেতরে গিয়ে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করেন এবং ঘটনাটিকে চুরি বা ডাকাতি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুসহ পরিবারের আরেক সদস্য তাদের দেখে ফেললে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, হত্যার পর আসামিরা বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে স্বর্ণালংকার একটি বাড়ির পেছনে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। তবে ওই বাড়ির বাসিন্দারা বিষয়টি জানতেন না বলে তদন্তে পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ঘটনার আগে আসামিরা একাধিকবার ইয়াবা সেবন করেছিলেন। সিদ্ধার্থের জবানবন্দি অনুযায়ী, তারা সেদিন মোট আটটি ইয়াবা সেবন করেন। অন্যদিকে মুগ্ধের জবানবন্দিতে নয়টি ইয়াবা সেবনের কথা বলা হয়েছে। ইয়াবা সরবরাহকারী শান্ত নামের এক ব্যক্তির পরিচয়ও পুলিশ পেয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম্পের ভাষণের পর আরও বাড়ল তেলের দাম

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের বৈদ্যুতিক তার কেটে সিসিটিভি ক্যামেরা অচল করার চেষ্টা করা হয়। পরে আসামিরা ছাদ হয়ে পাশের বাড়ির ছাদে গিয়ে দেয়াল টপকে পালিয়ে যান।

এদিকে ময়নাতদন্তের তথ্যের সঙ্গে আসামিদের দেওয়া জবানবন্দির বেশ কিছু অংশের মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, এ ধরনের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ঘটনার আগে বা পরে কোনো কিছু দেখে বা শুনে থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ছেলে থেকে মেয়ে হয়ে এবার ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি পেলেন অনায়া

একই পরিবারের চারজনকে হত্যা: ময়নাতদন্ত ও জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

Update Time : ১১:৫৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ আদালতে দেওয়া আসামি সীমান্ত দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ১৬৪ ধারার জবানবন্দির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস ঘটনার আগে ইয়াবা সেবনের জন্য গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে অবস্থান করছিলেন। ভোরে গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেলেন এবং ধমক দেন। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জবানবন্দি অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গামছা দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর গলায় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। পরে শব্দ পেয়ে তার স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে এলে তাদেরও গলা চেপে হত্যা করা হয়।

এরপর তারা বাড়ির ভেতরে গিয়ে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করেন এবং ঘটনাটিকে চুরি বা ডাকাতি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুসহ পরিবারের আরেক সদস্য তাদের দেখে ফেললে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, হত্যার পর আসামিরা বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে স্বর্ণালংকার একটি বাড়ির পেছনে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। তবে ওই বাড়ির বাসিন্দারা বিষয়টি জানতেন না বলে তদন্তে পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ঘটনার আগে আসামিরা একাধিকবার ইয়াবা সেবন করেছিলেন। সিদ্ধার্থের জবানবন্দি অনুযায়ী, তারা সেদিন মোট আটটি ইয়াবা সেবন করেন। অন্যদিকে মুগ্ধের জবানবন্দিতে নয়টি ইয়াবা সেবনের কথা বলা হয়েছে। ইয়াবা সরবরাহকারী শান্ত নামের এক ব্যক্তির পরিচয়ও পুলিশ পেয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুনঃ  স্থানীয় সরকার নির্বাচনসেই ৩০ আসনে শক্ত অবস্থান গড়তে চায় এনসিপিপ্রার্থী চূড়ান্ত নয়, সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে জোর

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের বৈদ্যুতিক তার কেটে সিসিটিভি ক্যামেরা অচল করার চেষ্টা করা হয়। পরে আসামিরা ছাদ হয়ে পাশের বাড়ির ছাদে গিয়ে দেয়াল টপকে পালিয়ে যান।

এদিকে ময়নাতদন্তের তথ্যের সঙ্গে আসামিদের দেওয়া জবানবন্দির বেশ কিছু অংশের মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, এ ধরনের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ঘটনার আগে বা পরে কোনো কিছু দেখে বা শুনে থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।