Dhaka ০৭:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাজ না করেই ভাউচার দাখিল, ৯ প্রধান শিক্ষককে শোকজ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের কাজ না করেই অসম্পূর্ণ ভাউচার দাখিল করে বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত ৯ প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

শোকজ পাওয়া বিদ্যালয়গুলো হলো—আশারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাড়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘলবাক (খ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মক্রমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গণেশ্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরপুর মহল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মোহাম্মদপুর সেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসব বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত কাজের জন্য মোট ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ ছিল। এ অর্থ দিয়ে বিদ্যালয়গুলোর প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন করার কথা।

তবে তদারকিতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দেখা যায়, কয়েকটি বিদ্যালয়ে কোনো ধরনের মেরামত কাজ না করেই বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনের উদ্দেশ্যে ভাউচার দাখিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকদের আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিপেশ দাস এবং মক্রমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরজ্জন বর্মন দাবি করেন, তাঁরা বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজ শেষ করার পরই ভাউচার জমা দিয়েছেন।

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর আলম বলেন, “সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কাজ না করেই অফিসে ভাউচার জমা দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আরও পড়ুনঃ  ৪১ বছরে মা হচ্ছেন শাহরুখের নায়িকা মাহিরা খান
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কাজ না করেই ভাউচার দাখিল, ৯ প্রধান শিক্ষককে শোকজ

Update Time : ০১:০৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের কাজ না করেই অসম্পূর্ণ ভাউচার দাখিল করে বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত ৯ প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

শোকজ পাওয়া বিদ্যালয়গুলো হলো—আশারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাড়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘলবাক (খ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মক্রমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গণেশ্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরপুর মহল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মোহাম্মদপুর সেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসব বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত কাজের জন্য মোট ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ ছিল। এ অর্থ দিয়ে বিদ্যালয়গুলোর প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন করার কথা।

তবে তদারকিতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দেখা যায়, কয়েকটি বিদ্যালয়ে কোনো ধরনের মেরামত কাজ না করেই বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনের উদ্দেশ্যে ভাউচার দাখিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকদের আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিপেশ দাস এবং মক্রমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরজ্জন বর্মন দাবি করেন, তাঁরা বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজ শেষ করার পরই ভাউচার জমা দিয়েছেন।

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর আলম বলেন, “সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কাজ না করেই অফিসে ভাউচার জমা দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আরও পড়ুনঃ  এক স্কুলের ৯৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৫ জনের বৃত্তি লাভ