ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী মহসিনের বিরুদ্ধে চাকরির বিধিমালা না মানা, সরকারি দায়িত্বে অনিয়ম এবং উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ঝিনাইদহে কর্মরত থাকা এই কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বদলি ঠেকানোরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারি চাকরির পাশাপাশি তিনি শহরের সমবায় মার্কেটে ‘রূপসী বাংলা’ নামে একটি আর্কিটেকচারাল কনসালটেন্সি পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্রে তার স্ত্রী স্বত্বাধিকারী হলেও কার্যক্রমে মহসিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি কর্মঘণ্টায় সেখানে সময় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েকটি প্রকল্পের দরপত্র ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়ও তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভাটই এলাকার একটি সেচ খালের সংস্কার প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি কাজটি নিয়ন্ত্রণ করেছেন—এমন অভিযোগ করা হয়েছে।
আরেকটি প্রকল্পে প্রায় ২১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ের চুক্তি থাকলেও কাজের বাস্তব তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় বা আত্মসাতের অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া চরমুরারিদহ এলাকায় একটি নিষ্কাশন খাল থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে খালের পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কয়েকটি বসতবাড়ি ও সড়ক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী মহসিন। তার দাবি, কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানটি তার স্ত্রীর এবং তিনি কেবল অবসর সময়ে সেখানে যান। দরপত্রের কাজ কিংবা বালু উত্তোলনের সঙ্গেও নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, চাকরির বিধিমালা যাচাই না করে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে ঝিনাইদহ সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ সায়েদুল ইসলাম অভিযোগগুলো তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি 


















