জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর চালু করা যমুনা সার কারখানায় আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। চালু হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় কারখানার বয়লার প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে সার উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটের কারণে যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় গত সোমবার (৫ অক্টোবর) গভীর রাতে পুনরায় কারখানায় উৎপাদন শুরু করা হয়। দুই দিন উৎপাদন চলার পর বুধবার রাতে বয়লার প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দিলে কারখানার কার্যক্রম আবারও থেমে যায়।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণেই বয়লার প্ল্যান্টে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারখানার অন্যান্য যন্ত্রপাতি সচল রয়েছে। বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব হলে দ্রুত আবার উৎপাদনে ফেরার আশা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেরামত কার্যক্রম শেষ করতে পারলে আগামী দুই দিনের মধ্যে কারখানায় পুনরায় সার উৎপাদন শুরু হতে পারে।
যদিও পুরোপুরি স্বাভাবিক উৎপাদনে যেতে পারেনি কারখানাটি, তবুও চালু থাকার দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করা হয়েছে। ফলে পুনরায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যমুনা সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। মেরামত শেষ হলে দুই দিনের মধ্যে কারখানায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরেই উৎপাদনে অস্থিরতা
গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন ধরনের যান্ত্রিক সমস্যার কারণে যমুনা সার কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২৩ মাস কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে গ্যাসের চাপ বাড়ায় আবার উৎপাদন শুরু করা হয়।
তবে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে ফের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে গত সোমবার ভোররাতে কারখানায় আবার সার উৎপাদন শুরু করা হয়েছিল।
যমুনা সার কারখানার দৈনিক ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। কারখানাটি স্বাভাবিকভাবে চালু থাকলে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় সার সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে এসব এলাকায় সার সরবরাহ করা হয়। ফলে কারখানাটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে শুধু উৎপাদন নয়, সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সার সরবরাহ ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়তে পারে।
উৎপাদন বন্ধে বড় আর্থিক ক্ষতি
কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে যমুনা সার কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রাখা গেলে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন করা সম্ভব। এতে মাসে প্রায় ৬০ কোটি টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে।
অন্যদিকে কারখানা উৎপাদন বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন স্থায়ী ব্যয় বহন করতে হয়। অন্যান্য খরচ বাদ দিলেও শুধু প্ল্যান্ট সচল রাখার জন্য গ্যাস বিল বাবদ মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়।
বারবার উৎপাদন বন্ধ ও চালুর কারণে কারখানার ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইউরিয়া সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কারখানাটির নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এখন বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটি কত দ্রুত মেরামত করা যায় এবং কারখানাটি আবার কবে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে পারে, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
জামালপুর প্রতিনিধি 

























