Dhaka ০৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গ্যাস অনুসন্ধানে শেভরনকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের সন্ধানে দুদিন ধরে মাইকিং করছেন এক যুবক ৮ দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ, থামল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঢাকায় গোপন বৈঠক, যুবলীগের ৮ নেতা গ্রেপ্তার বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি হবে কীভাবে, জানালেন রিজভ রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, সাজছে নগরী

জামায়াতের ওয়াকআউট, তবু সংসদে বসে ছিলেন হাসনাত—নেপথ্যে কী?

 

জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। বিরোধী দলের অভিযোগ, সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হচ্ছে না।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনে আরও ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। তবে এসব কমিটির কোনো একটির সভাপতির পদেও বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্যকে রাখা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিবেশন চলাকালে আপত্তি জানান বিরোধী দলের এমপিরা।

পরে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় বিরোধী দলের দুই সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা কিছু সময় সংসদ কক্ষে অবস্থান করেন। কয়েক মিনিট পর হানজালাও অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।

সভাপতির পদ নিয়ে আপত্তি বিরোধীদের

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্য, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের আসনসংখ্যার অনুপাতে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন করা উচিত। তাদের দাবি, সংসদীয় কার্যক্রমে বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর নেতৃত্বে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন।

তাদের অভিযোগ, বুধবার গঠিত নতুন ১০টি স্থায়ী কমিটির কোনোটির সভাপতির পদে বিরোধী দলের সদস্যকে রাখা হয়নি। এতে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ নিয়ে অধিবেশন চলাকালে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে প্রতিবাদ জানান।

সরকারের অবস্থান

বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত কমিটিতে অংশগ্রহণ করলে তাদের আসনসংখ্যার আনুপাতিক হারে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  শাহরুখ খানের বাড়ি থেকে জোড়া সাপ উদ্ধার!

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত কার্যক্রমে বিরোধী দলের অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ওয়াকআউট ঘিরে আলোচনা

স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে বিরোধী দলের এমপিদের ওয়াকআউট সংসদে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সংসদীয় কমিটিগুলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ কারণে এসব কমিটির নেতৃত্বে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত বলে মনে করছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তাদের মতে, কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেলে বিরোধী দলের সদস্যরাও সংসদীয় তদারকি ও জবাবদিহির প্রক্রিয়ায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

অন্যদিকে সরকার বলছে, বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের এই মতবিরোধ আগামী অধিবেশনগুলোতে সংসদীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

গ্যাস অনুসন্ধানে শেভরনকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জামায়াতের ওয়াকআউট, তবু সংসদে বসে ছিলেন হাসনাত—নেপথ্যে কী?

Update Time : ০৩:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। বিরোধী দলের অভিযোগ, সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হচ্ছে না।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনে আরও ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। তবে এসব কমিটির কোনো একটির সভাপতির পদেও বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্যকে রাখা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিবেশন চলাকালে আপত্তি জানান বিরোধী দলের এমপিরা।

পরে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় বিরোধী দলের দুই সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা কিছু সময় সংসদ কক্ষে অবস্থান করেন। কয়েক মিনিট পর হানজালাও অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।

সভাপতির পদ নিয়ে আপত্তি বিরোধীদের

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্য, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের আসনসংখ্যার অনুপাতে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন করা উচিত। তাদের দাবি, সংসদীয় কার্যক্রমে বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর নেতৃত্বে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন।

তাদের অভিযোগ, বুধবার গঠিত নতুন ১০টি স্থায়ী কমিটির কোনোটির সভাপতির পদে বিরোধী দলের সদস্যকে রাখা হয়নি। এতে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ নিয়ে অধিবেশন চলাকালে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে প্রতিবাদ জানান।

সরকারের অবস্থান

বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত কমিটিতে অংশগ্রহণ করলে তাদের আসনসংখ্যার আনুপাতিক হারে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  সিকৃবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আন্দোলন স্থগিত

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত কার্যক্রমে বিরোধী দলের অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ওয়াকআউট ঘিরে আলোচনা

স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে বিরোধী দলের এমপিদের ওয়াকআউট সংসদে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সংসদীয় কমিটিগুলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ কারণে এসব কমিটির নেতৃত্বে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত বলে মনে করছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তাদের মতে, কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেলে বিরোধী দলের সদস্যরাও সংসদীয় তদারকি ও জবাবদিহির প্রক্রিয়ায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

অন্যদিকে সরকার বলছে, বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের এই মতবিরোধ আগামী অধিবেশনগুলোতে সংসদীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।