Dhaka ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর… লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তদন্ত কমিটি গঠন ১৩ বছর পর ধরা পড়লেন ছদ্মবেশে থাকা চঞ্চল সৈকতে গোসলে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু, উদ্ধার ১৫ তুলসীগঙ্গা নদী থেকে বহুমূল্য কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার বিষ হাতে হৃদয়ের বাড়িতে কিশোরী, বলছে ‘বিয়ে করতেই হবে’ ১০ বছর বয়সেই কুরআনের হাফেজ আশ্রাফ তাহসিফের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মিলল যে দৃশ্য ‘ভালোবাসা যত বড় হয়, জীবনটা তত নয়’, দেড় দশক ধরে স্ত্রীর কবর পরিষ্কার করছেন আইনজীবী সিলেটে রায়হান হত্যা: এসআই আকবরের মৃত্যুদন্ড, দুজনের যাবজ্জীবন, ৩ জনের ৭ বছরের জেল

জামায়াতের ওয়াকআউট, তবু সংসদে বসে ছিলেন হাসনাত—নেপথ্যে কী?

 

জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। বিরোধী দলের অভিযোগ, সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হচ্ছে না।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনে আরও ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। তবে এসব কমিটির কোনো একটির সভাপতির পদেও বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্যকে রাখা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিবেশন চলাকালে আপত্তি জানান বিরোধী দলের এমপিরা।

পরে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় বিরোধী দলের দুই সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা কিছু সময় সংসদ কক্ষে অবস্থান করেন। কয়েক মিনিট পর হানজালাও অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।

সভাপতির পদ নিয়ে আপত্তি বিরোধীদের

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্য, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের আসনসংখ্যার অনুপাতে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন করা উচিত। তাদের দাবি, সংসদীয় কার্যক্রমে বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর নেতৃত্বে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন।

তাদের অভিযোগ, বুধবার গঠিত নতুন ১০টি স্থায়ী কমিটির কোনোটির সভাপতির পদে বিরোধী দলের সদস্যকে রাখা হয়নি। এতে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ নিয়ে অধিবেশন চলাকালে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে প্রতিবাদ জানান।

সরকারের অবস্থান

বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত কমিটিতে অংশগ্রহণ করলে তাদের আসনসংখ্যার আনুপাতিক হারে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে নবনিযুক্ত প্রসিকিউটরদের যোগদান

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত কার্যক্রমে বিরোধী দলের অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ওয়াকআউট ঘিরে আলোচনা

স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে বিরোধী দলের এমপিদের ওয়াকআউট সংসদে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সংসদীয় কমিটিগুলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ কারণে এসব কমিটির নেতৃত্বে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত বলে মনে করছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তাদের মতে, কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেলে বিরোধী দলের সদস্যরাও সংসদীয় তদারকি ও জবাবদিহির প্রক্রিয়ায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

অন্যদিকে সরকার বলছে, বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের এই মতবিরোধ আগামী অধিবেশনগুলোতে সংসদীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর…

জামায়াতের ওয়াকআউট, তবু সংসদে বসে ছিলেন হাসনাত—নেপথ্যে কী?

Update Time : ০৩:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। বিরোধী দলের অভিযোগ, সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হচ্ছে না।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনে আরও ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। তবে এসব কমিটির কোনো একটির সভাপতির পদেও বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্যকে রাখা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিবেশন চলাকালে আপত্তি জানান বিরোধী দলের এমপিরা।

পরে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় বিরোধী দলের দুই সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা কিছু সময় সংসদ কক্ষে অবস্থান করেন। কয়েক মিনিট পর হানজালাও অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।

সভাপতির পদ নিয়ে আপত্তি বিরোধীদের

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্য, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের আসনসংখ্যার অনুপাতে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন করা উচিত। তাদের দাবি, সংসদীয় কার্যক্রমে বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর নেতৃত্বে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন।

তাদের অভিযোগ, বুধবার গঠিত নতুন ১০টি স্থায়ী কমিটির কোনোটির সভাপতির পদে বিরোধী দলের সদস্যকে রাখা হয়নি। এতে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ নিয়ে অধিবেশন চলাকালে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে প্রতিবাদ জানান।

সরকারের অবস্থান

বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত কমিটিতে অংশগ্রহণ করলে তাদের আসনসংখ্যার আনুপাতিক হারে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  জানালা দিয়ে পানি চেয়ে দুই শিশুর কান্না, ফ্ল্যাটে মিলল মায়ের মরদেহ

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত কার্যক্রমে বিরোধী দলের অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ওয়াকআউট ঘিরে আলোচনা

স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে বিরোধী দলের এমপিদের ওয়াকআউট সংসদে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সংসদীয় কমিটিগুলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ কারণে এসব কমিটির নেতৃত্বে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত বলে মনে করছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তাদের মতে, কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেলে বিরোধী দলের সদস্যরাও সংসদীয় তদারকি ও জবাবদিহির প্রক্রিয়ায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

অন্যদিকে সরকার বলছে, বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের এই মতবিরোধ আগামী অধিবেশনগুলোতে সংসদীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।