Dhaka ১২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টম ক্রুজের পদবি বাদ দিলেন মেয়ে সুরি, মায়ের মধ্যনাম ‘নোয়েল’ এখন তার শেষ নাম সীমান্তের প্রান্তিক জনপদে শিক্ষার প্রদীপ জ্বালাচ্ছে গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কালীগঞ্জে বিধবা ও প্রতিবন্ধী পরিবারের সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ডোপ টেস্টে ইতিবাচক ফল, অভিযুক্তের ৫ মাসের জেল সহ জরিমানা আদমদীঘি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারী সহ গ্রেপ্তার-৮!! ভূরুঙ্গামারীতে যৌথ অভিযানে ১৫ ফুটের গাঁজাগাছসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবি বঙ্গভবনে কার্যক্রম শুরু করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি Coronavirus disease 2019 ভারতের পর এবার চীনে গেলেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে অভিনেতা ইলিয়াস জাবেদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫০২ Time View

দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে বাংলা সিনেমার সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। আজ (__) রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,
“জাভেদ ভাই দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। আজ চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন। আমরা সবাই তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সবাই তাঁর জন্য দোয়া করবেন।”

জানা যায়, কিংবদন্তি এই অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি হৃদরোগেও ভুগছিলেন। এর আগে দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল তাঁকে। বয়সজনিত নানা জটিলতা এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন।

ইলিয়াস জাভেদের জন্ম ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে। পরবর্তীতে তিনি স্বপরিবারে পেশাওয়ার থেকে পাঞ্জাবে চলে আসেন। তাঁর আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। চলচ্চিত্র জগতে তাঁর পথচলা শুরু হয় নৃত্য পরিচালক হিসেবে। নৃত্য পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তিনি অভিনয়ে মনোনিবেশ করেন।

১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে তাঁর চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে। তবে ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে নায়িকা ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা। এরপর একের পর এক সফল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ‘নিশান’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা তাঁকে দর্শকমহলে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। নায়ক হিসেবে তাঁর সাবলীল অভিনয়, নাচে পারদর্শিতা এবং পর্দায় উপস্থিতি তাঁকে সোনালী যুগের একজন জনপ্রিয় তারকায় পরিণত করে।

আরও পড়ুনঃ  ভিজিএফের কার্ড নিয়ে সংঘর্ষ বিএনপির ৫০ কর্মী আহত

ব্যক্তিজীবনে ইলিয়াস জাভেদ ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Tag :
About Author Information

টম ক্রুজের পদবি বাদ দিলেন মেয়ে সুরি, মায়ের মধ্যনাম ‘নোয়েল’ এখন তার শেষ নাম

দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে অভিনেতা ইলিয়াস জাবেদ

Update Time : ০৭:৩০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে বাংলা সিনেমার সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। আজ (__) রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,
“জাভেদ ভাই দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। আজ চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন। আমরা সবাই তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সবাই তাঁর জন্য দোয়া করবেন।”

জানা যায়, কিংবদন্তি এই অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি হৃদরোগেও ভুগছিলেন। এর আগে দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল তাঁকে। বয়সজনিত নানা জটিলতা এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন।

ইলিয়াস জাভেদের জন্ম ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে। পরবর্তীতে তিনি স্বপরিবারে পেশাওয়ার থেকে পাঞ্জাবে চলে আসেন। তাঁর আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। চলচ্চিত্র জগতে তাঁর পথচলা শুরু হয় নৃত্য পরিচালক হিসেবে। নৃত্য পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তিনি অভিনয়ে মনোনিবেশ করেন।

১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে তাঁর চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে। তবে ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে নায়িকা ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা। এরপর একের পর এক সফল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ‘নিশান’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা তাঁকে দর্শকমহলে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। নায়ক হিসেবে তাঁর সাবলীল অভিনয়, নাচে পারদর্শিতা এবং পর্দায় উপস্থিতি তাঁকে সোনালী যুগের একজন জনপ্রিয় তারকায় পরিণত করে।

আরও পড়ুনঃ  জলঢাকায় বিলবোর্ড লাগানো নিয়ে উত্তেজনা, পুলিশ মোতায়েন

ব্যক্তিজীবনে ইলিয়াস জাভেদ ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।