Dhaka ০৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের বৈঠক গ্যাস অনুসন্ধানে শেভরনকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের সন্ধানে দুদিন ধরে মাইকিং করছেন এক যুবক ৮ দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ, থামল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঢাকায় গোপন বৈঠক, যুবলীগের ৮ নেতা গ্রেপ্তার বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি হবে কীভাবে, জানালেন রিজভ

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণে দিক-নির্দেশনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৮ Time View

বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেন।  এতে তিনি আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী—এই দেশ আমাদের সবার। দলমত, ধর্ম, দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার।” প্রধানমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, “নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যাঁরা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি, অথবা কাউকেই ভোট দেননি—এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।”
ভাষণের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় ছিল– সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবে নয়। তিনি প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করেন। এই সকল ঘোষণা কেবল রাজনৈতিক সৌজন্য নয়; বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এগুলো বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এগুলো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। মূল প্রশ্ন হলো—এই ভাষণ কি সত্যিই বাস্তব রূপান্তরের সূচনা করবে, নাকি আবারও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তিতে সীমাবদ্ধ থাকবে?

২. 
আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি এবং বাজারমূল্য—এই তিনটি অগ্রাধিকার আসলে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে সম্পদের সুষম বণ্টন, আর বাজারমূল্য সরাসরি প্রভাব ফেলে সাধারণ মানুষের জীবনে। ফলে এই তিনটি ইস্যুকে একসঙ্গে অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব—নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—কে কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সরকারের “সর্বোচ্চ উদ্যোগ” গ্রহণের ঘোষণা সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। 
বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সংবেদনশীল বিষয়। খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। অতীতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারে কারসাজি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের কারণে এই উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয়নি। ফলে বাজার স্থিতিশীল করতে হলে কেবল অভিযান নয়, বরং কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ঘুষ না দেওয়ায় ভুল রায়, সেই এসিল্যান্ডকে বদলি
Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণে দিক-নির্দেশনা

Update Time : ০১:৪২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেন।  এতে তিনি আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী—এই দেশ আমাদের সবার। দলমত, ধর্ম, দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার।” প্রধানমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, “নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যাঁরা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি, অথবা কাউকেই ভোট দেননি—এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।”
ভাষণের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় ছিল– সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবে নয়। তিনি প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করেন। এই সকল ঘোষণা কেবল রাজনৈতিক সৌজন্য নয়; বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এগুলো বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এগুলো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। মূল প্রশ্ন হলো—এই ভাষণ কি সত্যিই বাস্তব রূপান্তরের সূচনা করবে, নাকি আবারও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তিতে সীমাবদ্ধ থাকবে?

২. 
আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি এবং বাজারমূল্য—এই তিনটি অগ্রাধিকার আসলে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে সম্পদের সুষম বণ্টন, আর বাজারমূল্য সরাসরি প্রভাব ফেলে সাধারণ মানুষের জীবনে। ফলে এই তিনটি ইস্যুকে একসঙ্গে অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব—নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—কে কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সরকারের “সর্বোচ্চ উদ্যোগ” গ্রহণের ঘোষণা সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। 
বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সংবেদনশীল বিষয়। খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। অতীতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারে কারসাজি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের কারণে এই উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয়নি। ফলে বাজার স্থিতিশীল করতে হলে কেবল অভিযান নয়, বরং কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ইতালিতে বাঁধনকে হেনস্তা, বিস্ফোরক মন্তব্য পরীমনির