Dhaka ০৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টম ক্রুজের পদবি বাদ দিলেন মেয়ে সুরি, মায়ের মধ্যনাম ‘নোয়েল’ এখন তার শেষ নাম সীমান্তের প্রান্তিক জনপদে শিক্ষার প্রদীপ জ্বালাচ্ছে গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কালীগঞ্জে বিধবা ও প্রতিবন্ধী পরিবারের সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ডোপ টেস্টে ইতিবাচক ফল, অভিযুক্তের ৫ মাসের জেল সহ জরিমানা আদমদীঘি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারী সহ গ্রেপ্তার-৮!! ভূরুঙ্গামারীতে যৌথ অভিযানে ১৫ ফুটের গাঁজাগাছসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবি বঙ্গভবনে কার্যক্রম শুরু করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি Coronavirus disease 2019 ভারতের পর এবার চীনে গেলেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

বন বিভাগের সীমানায় বন মারার কল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০২ Time View

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে বন বিভাগের সীমানার ভেতরে চলছে ৩৭টি অবৈধ করাত কল। সময়ের সঙ্গে এসব অবৈধ স মিলের সংখ্যা বাড়ছে। বন বিভাগের দিক থেকে কোনো বাধা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন সংকটের দিকে যাচ্ছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নবীগঞ্জ ও বাহুবল এই দুটি উপজেলাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘেঁষা এলাকায় ৪১টি স মিল রয়েছে। এর মাঝে বৈধ ৩টি আর অবৈধভাবে চলছে ৩৭টি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের পর থেকে অবৈধভাবে চলছে বহু স মল। এগুলোর মালিকরা জানান, কখনও রাজনৈতিক প্রভাব, আবার কখনও বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সম্মানী দিয়ে তাদের মিলগুলো সচল রেখেছেন। এদিকে মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এসব স মিল উচ্ছেদে বন বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয় না। এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী বিভাগের জায়গা থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকার বাইরে স মিল থাকার কথা থাকলেও ১৭ বছর ধরে এসব স মিল বনের নির্দিষ্ট সীমানার ভেতরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০০৮ সাল থেকে সরকার নিয়ম চালু করে বন বিভাগের ১০ কিলোমিটার সীমানার ভেতরে কোনো করাত কল বা স মিল থাকার কথা নয়। সরকারের এই আইনকে উপেক্ষা করে অবৈধ স মিল মালিকরা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

শুধু তাই নয়। দিন দিন এসব অবৈধ স মিলের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স মিল বন ধ্বংসের অন্যতম কারণ। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পরিচালিত এসব মিলে প্রতিদিন গোপনে কাটা হচ্ছে সরকারি বনাঞ্চলের শত শত গাছ, যা পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ স মিল রাতে বন থেকে গোপনে গাছ এনে কাঠে রূপান্তর করছে। প্রশাসনের চোখের সামনেই মিলগুলো চলছে, অথচ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এলাকাবাসী বলেন, যেখানে বৈধ মিল ৩টি, সেখানে অবৈধ ৩৭টি। এটি কীভাবে সম্ভব? এটি বোঝায় প্রশাসনের ব্যর্থতা কিংবা মদত। মাসোহারা নিয়ে এসব অবৈধ মিল নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক আটকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে যে সব অবৈধ করাত কল বা স মিল রয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, নবীগঞ্জের দেবপাড়া ইউনিয়নের আনগাঁও এলাকায় তিনটি, গজনাইপুর ইউনিয়নে দেওপাড়া, জনতার বাজার, সাতাইহাল এলাকায় তিনটি, কুড়াগাঁও আমিন উদ্দিনের একটি, পানিউমদা বড়াগাঁও এলাকার সাবেক সেনা সদস্য লুৎফুর রহমানের একটি, পানিউমদা বাজারে আজিজ স মিল, বড়চর এলাকায় ইমাম চাবাগানের প্রবেশ মুখে শাহ জাহেদ আলীর একটি, শামসুল হকের একটি, ডুবারাই বাজারে নানু মিয়ার একটি, রোকনপুর গ্রামের আমির হোসেনের একটি, বড়চর শাহ নেয়াজ মিয়ার একটি, পুটিজুরির চেয়ারম্যান মুদ্দতের একটি, রিসোর্ট দি প্যালেসের সামনে ভিআইপি এলাকার সিরাজ মিয়ার একটি, গাংদার বাজার শংকর বাবুর একটি, ডুবাই বাজারের সুহেল মিয়ার একটি, আজিজুল মেম্বারে দুটি করাত কল বা সমিল রয়েছে। এছাড়াও আরও অনেক সমিল রয়েছে।
এসব করাত কলের সামনে কোনো সাইন বোর্ড লাগানো নেই। শুধু পানিউমদা বড়াগাঁও এলাকার সাবেক সেনা সদস্য লুৎফুর রহমানের করাত কলে একটি সাইনবোর্ড রয়েছে তাঁর নাম ও মোবাইল নাম্বারসহ। তবে তিনি সাংবাদিকদের কাছে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনটি বৈধ করাত কলের মালিক হলেন বিএনপির নেতা মুখলেছুর রহমান, বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আকাদ্দছ মিয়া বাবুল ও মিরপুরের আব্দুল আলী। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মুখলেছুর রহমান বলেন, তারা বৈধ করাত কল চালাচ্ছেন। চালু করলেও পুরোদমে কাজ করতে বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা  চলছে–এটি আসলেই দুঃখজনক।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগের সপ্তাহে এসব করাত কল উচ্ছেদ করা হয়। নতুন সরকার আসার পরে আবারও সেগুলো নতুন যন্ত্রপাতি এনে চালু করা হয়েছে। বাহুবলের ডুবারাই বাজারে স মিল মালিক নানু মিয়া ও রুহুল আমিন বলেন, তারা বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে স মিল পরিচালনা করছেন। তাই প্রশাসন কোনো সমস্যা করে না। এদিকে শায়েস্তাগঞ্জ অফিসের রেঞ্জার তোফায়েল সব সময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

Tag :
About Author Information

টম ক্রুজের পদবি বাদ দিলেন মেয়ে সুরি, মায়ের মধ্যনাম ‘নোয়েল’ এখন তার শেষ নাম

বন বিভাগের সীমানায় বন মারার কল

Update Time : ০১:১৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে বন বিভাগের সীমানার ভেতরে চলছে ৩৭টি অবৈধ করাত কল। সময়ের সঙ্গে এসব অবৈধ স মিলের সংখ্যা বাড়ছে। বন বিভাগের দিক থেকে কোনো বাধা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন সংকটের দিকে যাচ্ছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নবীগঞ্জ ও বাহুবল এই দুটি উপজেলাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘেঁষা এলাকায় ৪১টি স মিল রয়েছে। এর মাঝে বৈধ ৩টি আর অবৈধভাবে চলছে ৩৭টি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের পর থেকে অবৈধভাবে চলছে বহু স মল। এগুলোর মালিকরা জানান, কখনও রাজনৈতিক প্রভাব, আবার কখনও বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সম্মানী দিয়ে তাদের মিলগুলো সচল রেখেছেন। এদিকে মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এসব স মিল উচ্ছেদে বন বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয় না। এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী বিভাগের জায়গা থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকার বাইরে স মিল থাকার কথা থাকলেও ১৭ বছর ধরে এসব স মিল বনের নির্দিষ্ট সীমানার ভেতরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০০৮ সাল থেকে সরকার নিয়ম চালু করে বন বিভাগের ১০ কিলোমিটার সীমানার ভেতরে কোনো করাত কল বা স মিল থাকার কথা নয়। সরকারের এই আইনকে উপেক্ষা করে অবৈধ স মিল মালিকরা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

শুধু তাই নয়। দিন দিন এসব অবৈধ স মিলের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স মিল বন ধ্বংসের অন্যতম কারণ। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পরিচালিত এসব মিলে প্রতিদিন গোপনে কাটা হচ্ছে সরকারি বনাঞ্চলের শত শত গাছ, যা পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ স মিল রাতে বন থেকে গোপনে গাছ এনে কাঠে রূপান্তর করছে। প্রশাসনের চোখের সামনেই মিলগুলো চলছে, অথচ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এলাকাবাসী বলেন, যেখানে বৈধ মিল ৩টি, সেখানে অবৈধ ৩৭টি। এটি কীভাবে সম্ভব? এটি বোঝায় প্রশাসনের ব্যর্থতা কিংবা মদত। মাসোহারা নিয়ে এসব অবৈধ মিল নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  শিশু নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে প্রশাসনকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালেন নারী

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে যে সব অবৈধ করাত কল বা স মিল রয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, নবীগঞ্জের দেবপাড়া ইউনিয়নের আনগাঁও এলাকায় তিনটি, গজনাইপুর ইউনিয়নে দেওপাড়া, জনতার বাজার, সাতাইহাল এলাকায় তিনটি, কুড়াগাঁও আমিন উদ্দিনের একটি, পানিউমদা বড়াগাঁও এলাকার সাবেক সেনা সদস্য লুৎফুর রহমানের একটি, পানিউমদা বাজারে আজিজ স মিল, বড়চর এলাকায় ইমাম চাবাগানের প্রবেশ মুখে শাহ জাহেদ আলীর একটি, শামসুল হকের একটি, ডুবারাই বাজারে নানু মিয়ার একটি, রোকনপুর গ্রামের আমির হোসেনের একটি, বড়চর শাহ নেয়াজ মিয়ার একটি, পুটিজুরির চেয়ারম্যান মুদ্দতের একটি, রিসোর্ট দি প্যালেসের সামনে ভিআইপি এলাকার সিরাজ মিয়ার একটি, গাংদার বাজার শংকর বাবুর একটি, ডুবাই বাজারের সুহেল মিয়ার একটি, আজিজুল মেম্বারে দুটি করাত কল বা সমিল রয়েছে। এছাড়াও আরও অনেক সমিল রয়েছে।
এসব করাত কলের সামনে কোনো সাইন বোর্ড লাগানো নেই। শুধু পানিউমদা বড়াগাঁও এলাকার সাবেক সেনা সদস্য লুৎফুর রহমানের করাত কলে একটি সাইনবোর্ড রয়েছে তাঁর নাম ও মোবাইল নাম্বারসহ। তবে তিনি সাংবাদিকদের কাছে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনটি বৈধ করাত কলের মালিক হলেন বিএনপির নেতা মুখলেছুর রহমান, বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আকাদ্দছ মিয়া বাবুল ও মিরপুরের আব্দুল আলী। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মুখলেছুর রহমান বলেন, তারা বৈধ করাত কল চালাচ্ছেন। চালু করলেও পুরোদমে কাজ করতে বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা  চলছে–এটি আসলেই দুঃখজনক।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগের সপ্তাহে এসব করাত কল উচ্ছেদ করা হয়। নতুন সরকার আসার পরে আবারও সেগুলো নতুন যন্ত্রপাতি এনে চালু করা হয়েছে। বাহুবলের ডুবারাই বাজারে স মিল মালিক নানু মিয়া ও রুহুল আমিন বলেন, তারা বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে স মিল পরিচালনা করছেন। তাই প্রশাসন কোনো সমস্যা করে না। এদিকে শায়েস্তাগঞ্জ অফিসের রেঞ্জার তোফায়েল সব সময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।