Dhaka ১২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সরকার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিলেন জহির উদ্দিন স্বপন গ্রাম্য সালিসে সমাজচ্যুত পুরো পরিবার,মসজিদে নামাজেও নিষেধাজ্ঞা এবার সিএমপির ৫ থানায় ওসি রদবদল পররাষ্ট্রের দুই প্রতিমন্ত্রীর কার দায়িত্ব কী, জানালো মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে, জানালেন নতুন এলজিআরডি মন্ত্রী শি শু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, শিক্ষক আটক সার্ককে আরও কার্যকর ও জনকেন্দ্রিক করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে রেস্তোরাঁয় গুলিতে বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত, আহত ১ ইউএস আর্মিতে যোগ দিলেন সিলেটের পংকজ তালুকদার

ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারের সময় অস্ত্রের বিশাল চালান জব্দ, গ্রেপ্তার ৪

  • desk news
  • Update Time : ০৪:০২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৪২ Time View

ভারতের বিহার থেকে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) মুর্শিদাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার শচীন মক্কার জানান, জব্দ করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০টি পিস্তল। এর মধ্যে দুটি ৯ এমএম, ছয়টি ৭ এমএম এবং দুটি দেশি হ্যান্ডমেড পিস্তল। এছাড়া সাতটি খালি ম্যাগাজিন ও ২১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতা পাপাই ঘোষ। একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, পাপাই ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বহরমপুর থানার পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে সাতটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১৭০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে শক্তিপুর থানার পুলিশ। সেখানে আরও পাঁচটি পিস্তল ও ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়।

পুলিশ সুপার শচীন মক্কার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো বিহার থেকে কেনা হয়েছিল। এসব অস্ত্রের একটি অংশ বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অস্ত্রগুলো বাংলাদেশে কীভাবে এবং কার কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আন্তঃরাজ্য অস্ত্র চোরাচালান চক্রের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অস্ত্রের উৎস, ক্রেতা ও সম্ভাব্য পাচারপথ শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুনঃ  এবার সিএমপির ৫ থানায় ওসি রদবদল

এদিকে চলতি আগস্ট মাসেই বাংলাদেশে পাচারের আগে মুর্শিদাবাদ ও উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।

গত ১২ আগস্ট মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ এলাকা থেকে সাতটি ৭ এমএম পিস্তল, ১০টি খালি ম্যাগাজিন এবং ৩৫টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। এর মাত্র একদিন পর, ১৩ আগস্ট পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

পরপর এসব অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবহার করে অস্ত্র পাচারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযান জোরদার করেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রের উৎস এবং পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনায় আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও ধারণা করছে পুলিশ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সরকার

ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারের সময় অস্ত্রের বিশাল চালান জব্দ, গ্রেপ্তার ৪

Update Time : ০৪:০২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের বিহার থেকে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) মুর্শিদাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার শচীন মক্কার জানান, জব্দ করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০টি পিস্তল। এর মধ্যে দুটি ৯ এমএম, ছয়টি ৭ এমএম এবং দুটি দেশি হ্যান্ডমেড পিস্তল। এছাড়া সাতটি খালি ম্যাগাজিন ও ২১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতা পাপাই ঘোষ। একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, পাপাই ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বহরমপুর থানার পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে সাতটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১৭০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে শক্তিপুর থানার পুলিশ। সেখানে আরও পাঁচটি পিস্তল ও ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়।

পুলিশ সুপার শচীন মক্কার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো বিহার থেকে কেনা হয়েছিল। এসব অস্ত্রের একটি অংশ বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অস্ত্রগুলো বাংলাদেশে কীভাবে এবং কার কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আন্তঃরাজ্য অস্ত্র চোরাচালান চক্রের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অস্ত্রের উৎস, ক্রেতা ও সম্ভাব্য পাচারপথ শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুনঃ  জ্বালানি সংকটে বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রা

এদিকে চলতি আগস্ট মাসেই বাংলাদেশে পাচারের আগে মুর্শিদাবাদ ও উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।

গত ১২ আগস্ট মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ এলাকা থেকে সাতটি ৭ এমএম পিস্তল, ১০টি খালি ম্যাগাজিন এবং ৩৫টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। এর মাত্র একদিন পর, ১৩ আগস্ট পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

পরপর এসব অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবহার করে অস্ত্র পাচারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযান জোরদার করেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রের উৎস এবং পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনায় আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও ধারণা করছে পুলিশ।