
ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে সামরিক হামলা না চালানোর পরামর্শ দেওয়ার দাবিকে সৌদি আরব পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। সৌদি কর্মকর্তাদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি দূতাবাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, “সৌদি আরব কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়নি।”
সৌদি বিশ্লেষক আলি শিহাবিও মার্কিন দাবিকে নাকচ করে বলেছেন, দেশটি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণ বা সমর্থনের জন্য লবিং বা প্রভাব প্রয়োগ করছে না। এক্সে (টুইটারের সমতুল্য প্ল্যাটফর্ম) তিনি লিখেছেন, “সৌদি এই বিষয়ে একেবারেই জড়িত নয়।”
এর আগে রিয়াদে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবাইরকে ইরানের পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য মার্কিন প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। তিনি সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপের সুপারিশ না দিলেও বলেন, “সব পক্ষই পরিস্থিতির দিকে নিবিড় নজর রাখছে এবং প্রত্যাশা প্রকাশ করছেন যে উত্তেজনা এমনভাবে সমাধান হবে যাতে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত থাকে।”
এদিকে ইরানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনে পদক্ষেপ নিতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের সব বিকল্প বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে রণতরী মোতায়েনের খবর প্রকাশ করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের ভেতরে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভ এবং সরকারের কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপ রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
উল্লেখ্য, ইরানে চলমান বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ২৮ ডিসেম্বর থেকে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের মূল্য রেকর্ডহারে কমে গেছে। প্রথমে গ্রান্ড বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা এই আন্দোলন শুরু করলেও পরে তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। বর্তমানে ১ ডলার ≈ ১,৪৫,০০০ রিয়াল বিনিময় হারের প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।
Reporter Name 








