Dhaka ০৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অতিদরিদ্রদের বরাদ্দের মাল ভাগাভাগি নিয়ে দুই পক্ষের হাতাহাতি ১১ মাসে কোরআনের হাফেজ মুগ্ধ, বড় হয়ে হতে চান ডাক্তার সিলেটে ৪টি কমলা ৫০ হাজার, আধা কেজি খেজুর ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন হাবিপ্রবি’র ১৬ শিক্ষার্থী চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীর মাছের প্রজেক্টে কালামের তাণ্ডব, অতঃপর… সিলেট মহানগরের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নতুন নেতৃত্বকে কয়েস লোদীর অভিনন্দন সারা দেশে হামের প্রকোপ, সিলেটে আরও দুই শিশুর মৃত্যু প্রবাস থেকে ফিরলেন, তবে জীবিত নয়—কফিনবন্দি হয়ে; কান্নায় ভেঙে পড়ল দুই পরিবার নিজের স্ত্রীকে রেখে অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে পালালেন ইমাম সাহেব শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা প্রত্যাহার করলেন বাদী

বিলবোর্ডে খামেনি-কাশেম-এরদোয়ানের সঙ্গে মামদানি, লেখা ‘তারা বিবিকে হারাতে চায়’

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি, হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এর্দোয়ানের সঙ্গে একই বিলবোর্ডে তুলে ধরেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি।

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর প্রচারণার অংশ হিসেবে তেলআবিবের আয়ালন মহাসড়কে বিলবোর্ডটি স্থাপন করা হয়েছে। বিলবোর্ডে চার নেতার পাশাপাশি বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে, ‘তারা নেতানিয়াহুকে হারাতে চায়, তাদের জিততে দেবেন না।’

নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টির নির্বাচনী প্রচারণায় বিদেশি ও ইসরায়েলবিরোধী হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে মামদানিকে একই কাতারে তুলে ধরতেই এই প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনে আবারও প্রধানমন্ত্রী পদে লড়বেন নেতানিয়াহু। নির্বাচনের আগে তার জোট তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছে। ফলে প্রচারণায় জাতীয় নিরাপত্তা এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে।

মামদানিকে বিলবোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে একাধিকবার প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ হয়েছে।

এমনকি আগামী মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে গেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করবেন বলেও এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মামদানি। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, আন্তর্জাতিক অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো বিদেশি নেতাকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) নেই। অবশ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মামদানির এই প্রচেষ্টায় ভেটো দিয়েছিলেন।

নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির এই প্রচারণায় মামদানির সঙ্গে খামেনি, হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম এবং এর্দোয়ানকে একই ছবিতে দেখানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মামদানিকে ইসরায়েলের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও নেতানিয়াহুবিরোধী শক্তির সঙ্গে এক কাতারে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ জোরদারের ইঙ্গিতে তেলের দাম ছাড়াল ১২০ ডলার

বিলবোর্ডটি নিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিতেও পাল্টাপাল্টি প্রচারণা শুরু হয়েছে। সাবেক ইসরায়েলি সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টি লিকুদের বিজ্ঞাপনের আদলে নিজেদের একটি বিলবোর্ড তৈরি করেছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘তারা আইডিএফকে ধ্বংস করতে চায়, নেতানিয়াহুকে জিততে দেবেন না।’

এদিকে, লিকুদের বিলবোর্ডে মামদানির অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ অন্য তিন ব্যক্তি রাষ্ট্র বা সশস্ত্র সংগঠনের নেতৃত্বে থাকলেও মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। ফলে ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনী প্রচারণায় একজন মার্কিন রাজনীতিককে এভাবে উপস্থাপন করা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

অতিদরিদ্রদের বরাদ্দের মাল ভাগাভাগি নিয়ে দুই পক্ষের হাতাহাতি

বিলবোর্ডে খামেনি-কাশেম-এরদোয়ানের সঙ্গে মামদানি, লেখা ‘তারা বিবিকে হারাতে চায়’

Update Time : ১২:৫২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি, হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এর্দোয়ানের সঙ্গে একই বিলবোর্ডে তুলে ধরেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি।

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর প্রচারণার অংশ হিসেবে তেলআবিবের আয়ালন মহাসড়কে বিলবোর্ডটি স্থাপন করা হয়েছে। বিলবোর্ডে চার নেতার পাশাপাশি বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে, ‘তারা নেতানিয়াহুকে হারাতে চায়, তাদের জিততে দেবেন না।’

নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টির নির্বাচনী প্রচারণায় বিদেশি ও ইসরায়েলবিরোধী হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে মামদানিকে একই কাতারে তুলে ধরতেই এই প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনে আবারও প্রধানমন্ত্রী পদে লড়বেন নেতানিয়াহু। নির্বাচনের আগে তার জোট তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছে। ফলে প্রচারণায় জাতীয় নিরাপত্তা এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে।

মামদানিকে বিলবোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে একাধিকবার প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ হয়েছে।

এমনকি আগামী মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে গেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করবেন বলেও এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মামদানি। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, আন্তর্জাতিক অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো বিদেশি নেতাকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) নেই। অবশ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মামদানির এই প্রচেষ্টায় ভেটো দিয়েছিলেন।

নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির এই প্রচারণায় মামদানির সঙ্গে খামেনি, হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম এবং এর্দোয়ানকে একই ছবিতে দেখানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মামদানিকে ইসরায়েলের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও নেতানিয়াহুবিরোধী শক্তির সঙ্গে এক কাতারে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ‘সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে’, ইরানকে ট্রাম্প

বিলবোর্ডটি নিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিতেও পাল্টাপাল্টি প্রচারণা শুরু হয়েছে। সাবেক ইসরায়েলি সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টি লিকুদের বিজ্ঞাপনের আদলে নিজেদের একটি বিলবোর্ড তৈরি করেছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘তারা আইডিএফকে ধ্বংস করতে চায়, নেতানিয়াহুকে জিততে দেবেন না।’

এদিকে, লিকুদের বিলবোর্ডে মামদানির অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ অন্য তিন ব্যক্তি রাষ্ট্র বা সশস্ত্র সংগঠনের নেতৃত্বে থাকলেও মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। ফলে ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনী প্রচারণায় একজন মার্কিন রাজনীতিককে এভাবে উপস্থাপন করা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।