Dhaka ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু জাফর ইকবালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল সিলেটে সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আহত ১ ৭০ বছরের অভাবের সংসার, ৬ বছর ধরে শয্যাশায়ী স্ত্রী—তবুও ছেড়ে যাননি সাজু মিয়া; শেষ বয়সে পাশে দাঁড়াল প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন সিলেটের শাহ উসামা ক্ষণিকের পরিচয় থেকে যুবককে বিশ্বাস, অতঃপর যা হলো গৃহবধূর বিদ্যুতের সুইচ ভারতের হাতে, যে কোনো সময় বন্ধ করতে পারে: রিজভী প্রতিদিন অফিসে হাজিরা দিয়ে চলে যান কর্মকর্তার বাসায়, দুই নারী কর্মচারী সিলেটে হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৯৩ গোয়াইনঘাটে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোয় পারাপার ১৪ হাজার মানুষের

৭০ বছরের অভাবের সংসার, ৬ বছর ধরে শয্যাশায়ী স্ত্রী—তবুও ছেড়ে যাননি সাজু মিয়া; শেষ বয়সে পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

ভালো সময়ে পাশে থাকা সহজ, কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন চারপাশে নেমে আসে অভাব আর অনিশ্চয়তা, তখনও প্রিয় মানুষটির হাত না ছাড়ার গল্প সত্যিই বিরল। তেমনই এক মানবিক গল্পের সাক্ষী বৃদ্ধ সাজু  মিয়া ও তার স্ত্রী।

প্রায় ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবন। এই দীর্ঘ সময়ে কত হাসি, কত কান্না, কত অভাব-অনটন আর কত প্রতিকূলতা যে তাদের পেরিয়ে আসতে হয়েছে, তার হিসাব হয়তো দুজন ছাড়া আর কারও জানা নেই। কিন্তু জীবনের এতগুলো বছর পেরিয়েও তাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে আছে—একে অপরের পাশে থাকা।

সময় বদলেছে। তারুণ্য পেরিয়ে দুজনেই এখন বার্ধক্যে। একসময় যে হাতে সংসারের দায়িত্ব সামলেছেন, বয়সের ভারে সেই হাত এখন অনেকটাই দুর্বল। শরীরেও আগের মতো শক্তি নেই। জীবনের এই সময়ে এসে তাদের সবচেয়ে বড় কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে নিত্যদিনের খাবারের ব্যবস্থা করা।

অভাবের সংসারে অনেক সময় একবেলা খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও স্ত্রীকে একা রেখে নিজের জীবনকে সহজ করার পথ বেছে নেননি বৃদ্ধ সাজু। দীর্ঘ সাত দশকের জীবনসঙ্গীকে নিয়েই কাটিয়ে দিচ্ছেন জীবনের শেষ অধ্যায়।

অভাব এসেছে, কিন্তু ভেঙে দিতে পারেনি সম্পর্ক

দাম্পত্য জীবনের শুরুতে হয়তো ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল অনেক স্বপ্ন। সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্নের অনেক কিছুই বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে। সংসারে এসেছে অভাব, এসেছে নানা সংকট। কিন্তু সংকট যতই কঠিন হয়েছে, তাদের পারস্পরিক নির্ভরতাও যেন ততই গভীর হয়েছে।

বৃদ্ধ বয়সে যখন অনেকেই আপনজনের সহায়তার অপেক্ষায় থাকেন, তখন সাজু ও তার স্ত্রী একে অপরের কাছেই হয়ে উঠেছেন সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

কখনো খাবারের চিন্তা, কখনো দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর দুশ্চিন্তা—সবকিছুর মধ্যেই তারা একসঙ্গে আছেন। দীর্ঘ ৭০ বছরের সংসার যেন তাদের কাছে শুধু একটি সম্পর্কের নাম নয়; এটি জীবনের প্রতিটি সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার এক দীর্ঘ প্রতিশ্রুতি।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে ছুটি ছাড়াই সাড়ে ৩ মাস কানাডায় সরকারি চিকিৎসক

মানুষের নজরে আসে তাদের কষ্ট

বৃদ্ধ সাজু মিয়া  ও তার স্ত্রীর কষ্টের কথা সামনে আসার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। তাদের জীবনযাপনের দুরবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে বৃদ্ধ দম্পতির জীবনে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার মধ্যে এই সহায়তা তাদের কাছে যেন নতুন আশার বার্তা হয়ে এসেছে।

শুধু আর্থিক বা প্রয়োজনীয় সহায়তা নয়, অসহায় প্রবীণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ সামাজিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কারণ জীবনের শেষ সময়ে এসে একটি বৃদ্ধ দম্পতির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপত্তা, খাবার এবং মানবিক সহযোগিতা।

৭০ বছরের ভালোবাসার গল্প

বৃদ্ধ সাজু মিয়ার গল্প হয়তো বড় কোনো অর্জনের গল্প নয়। এখানে নেই বিত্ত-বৈভবের ঝলকানি, নেই বিলাসী জীবনের কোনো বর্ণনা। আছে শুধু দুজন মানুষের একসঙ্গে পথ চলার গল্প।

প্রায় সাত দশক আগে যে মানুষটিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, এত বছর পরও তাকেই নিজের পাশে রেখেছেন সাজু মিয়া। সুখের দিন যেমন একসঙ্গে কেটেছে, তেমনি অভাবের দিনগুলোও কেটেছে পাশাপাশি।

জীবনের শেষ বয়সে এসে তাদের সেই সম্পর্ক আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কারণ অর্থ-সম্পদ, আরাম কিংবা স্বাচ্ছন্দ্য যখন জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারেনি, তখন একে অপরের সঙ্গই হয়ে উঠেছে তাদের সবচেয়ে বড় অবলম্বন।

প্রশাসনের সহায়তায় নতুন আশার আলো

অভাবের কারণে খাবারের কষ্টে থাকা এই বৃদ্ধ দম্পতির পাশে প্রশাসন দাঁড়ানোয় এখন তাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সমাজের বিত্তবান মানুষ এবং স্থানীয়রাও যেন এমন অসহায় প্রবীণদের পাশে এগিয়ে আসেন—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

বৃদ্ধ সাজু মিয়া ও তার স্ত্রীর জীবনের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভালোবাসা শুধু সুখের দিনে পাশে থাকার নাম নয়। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও যে মানুষটি হাত ছাড়ে না, প্রকৃত অর্থে সেই তো জীবনসঙ্গী।

আরও পড়ুনঃ  গাঁজা সেবনের অপরাধে এক ব্যক্তিকে ১০০ টাকা জরিমানা

প্রায় ৭০ বছরের সংসার পেরিয়ে আজ তারা জীবনের শেষ অধ্যায়ে। শরীর হয়তো দুর্বল হয়েছে, জীবনের প্রয়োজন বেড়েছে, কিন্তু একসঙ্গে থাকার সেই বন্ধন এখনো অটুট।

অভাব তাদের জীবনকে কঠিন করেছে, কিন্তু সাত দশকের ভালোবাসাকে হারাতে পারেনি। আর শেষ বয়সে প্রশাসনের সহযোগিতার হাত যেন সেই দীর্ঘ পথচলায় এনে দিয়েছে একটু স্বস্তি, একটু আশার আলো।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

৭০ বছরের অভাবের সংসার, ৬ বছর ধরে শয্যাশায়ী স্ত্রী—তবুও ছেড়ে যাননি সাজু মিয়া; শেষ বয়সে পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

Update Time : ০৭:২৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভালো সময়ে পাশে থাকা সহজ, কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন চারপাশে নেমে আসে অভাব আর অনিশ্চয়তা, তখনও প্রিয় মানুষটির হাত না ছাড়ার গল্প সত্যিই বিরল। তেমনই এক মানবিক গল্পের সাক্ষী বৃদ্ধ সাজু  মিয়া ও তার স্ত্রী।

প্রায় ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবন। এই দীর্ঘ সময়ে কত হাসি, কত কান্না, কত অভাব-অনটন আর কত প্রতিকূলতা যে তাদের পেরিয়ে আসতে হয়েছে, তার হিসাব হয়তো দুজন ছাড়া আর কারও জানা নেই। কিন্তু জীবনের এতগুলো বছর পেরিয়েও তাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে আছে—একে অপরের পাশে থাকা।

সময় বদলেছে। তারুণ্য পেরিয়ে দুজনেই এখন বার্ধক্যে। একসময় যে হাতে সংসারের দায়িত্ব সামলেছেন, বয়সের ভারে সেই হাত এখন অনেকটাই দুর্বল। শরীরেও আগের মতো শক্তি নেই। জীবনের এই সময়ে এসে তাদের সবচেয়ে বড় কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে নিত্যদিনের খাবারের ব্যবস্থা করা।

অভাবের সংসারে অনেক সময় একবেলা খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও স্ত্রীকে একা রেখে নিজের জীবনকে সহজ করার পথ বেছে নেননি বৃদ্ধ সাজু। দীর্ঘ সাত দশকের জীবনসঙ্গীকে নিয়েই কাটিয়ে দিচ্ছেন জীবনের শেষ অধ্যায়।

অভাব এসেছে, কিন্তু ভেঙে দিতে পারেনি সম্পর্ক

দাম্পত্য জীবনের শুরুতে হয়তো ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল অনেক স্বপ্ন। সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্নের অনেক কিছুই বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে। সংসারে এসেছে অভাব, এসেছে নানা সংকট। কিন্তু সংকট যতই কঠিন হয়েছে, তাদের পারস্পরিক নির্ভরতাও যেন ততই গভীর হয়েছে।

বৃদ্ধ বয়সে যখন অনেকেই আপনজনের সহায়তার অপেক্ষায় থাকেন, তখন সাজু ও তার স্ত্রী একে অপরের কাছেই হয়ে উঠেছেন সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

কখনো খাবারের চিন্তা, কখনো দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর দুশ্চিন্তা—সবকিছুর মধ্যেই তারা একসঙ্গে আছেন। দীর্ঘ ৭০ বছরের সংসার যেন তাদের কাছে শুধু একটি সম্পর্কের নাম নয়; এটি জীবনের প্রতিটি সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার এক দীর্ঘ প্রতিশ্রুতি।

আরও পড়ুনঃ  সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) কর্তৃক প্রায় ০২ কোটি টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

মানুষের নজরে আসে তাদের কষ্ট

বৃদ্ধ সাজু মিয়া  ও তার স্ত্রীর কষ্টের কথা সামনে আসার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। তাদের জীবনযাপনের দুরবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে বৃদ্ধ দম্পতির জীবনে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার মধ্যে এই সহায়তা তাদের কাছে যেন নতুন আশার বার্তা হয়ে এসেছে।

শুধু আর্থিক বা প্রয়োজনীয় সহায়তা নয়, অসহায় প্রবীণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ সামাজিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কারণ জীবনের শেষ সময়ে এসে একটি বৃদ্ধ দম্পতির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপত্তা, খাবার এবং মানবিক সহযোগিতা।

৭০ বছরের ভালোবাসার গল্প

বৃদ্ধ সাজু মিয়ার গল্প হয়তো বড় কোনো অর্জনের গল্প নয়। এখানে নেই বিত্ত-বৈভবের ঝলকানি, নেই বিলাসী জীবনের কোনো বর্ণনা। আছে শুধু দুজন মানুষের একসঙ্গে পথ চলার গল্প।

প্রায় সাত দশক আগে যে মানুষটিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, এত বছর পরও তাকেই নিজের পাশে রেখেছেন সাজু মিয়া। সুখের দিন যেমন একসঙ্গে কেটেছে, তেমনি অভাবের দিনগুলোও কেটেছে পাশাপাশি।

জীবনের শেষ বয়সে এসে তাদের সেই সম্পর্ক আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কারণ অর্থ-সম্পদ, আরাম কিংবা স্বাচ্ছন্দ্য যখন জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারেনি, তখন একে অপরের সঙ্গই হয়ে উঠেছে তাদের সবচেয়ে বড় অবলম্বন।

প্রশাসনের সহায়তায় নতুন আশার আলো

অভাবের কারণে খাবারের কষ্টে থাকা এই বৃদ্ধ দম্পতির পাশে প্রশাসন দাঁড়ানোয় এখন তাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সমাজের বিত্তবান মানুষ এবং স্থানীয়রাও যেন এমন অসহায় প্রবীণদের পাশে এগিয়ে আসেন—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

বৃদ্ধ সাজু মিয়া ও তার স্ত্রীর জীবনের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভালোবাসা শুধু সুখের দিনে পাশে থাকার নাম নয়। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও যে মানুষটি হাত ছাড়ে না, প্রকৃত অর্থে সেই তো জীবনসঙ্গী।

আরও পড়ুনঃ  নেপাল-তিব্বত সীমান্তে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে নিহত ১৬০, নিখোঁজ শত শত

প্রায় ৭০ বছরের সংসার পেরিয়ে আজ তারা জীবনের শেষ অধ্যায়ে। শরীর হয়তো দুর্বল হয়েছে, জীবনের প্রয়োজন বেড়েছে, কিন্তু একসঙ্গে থাকার সেই বন্ধন এখনো অটুট।

অভাব তাদের জীবনকে কঠিন করেছে, কিন্তু সাত দশকের ভালোবাসাকে হারাতে পারেনি। আর শেষ বয়সে প্রশাসনের সহযোগিতার হাত যেন সেই দীর্ঘ পথচলায় এনে দিয়েছে একটু স্বস্তি, একটু আশার আলো।