প্রথম পাতা র‍্যাব-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ‘মনজুর মিয়া’ হত্যা মামলার ৩ জন আসামি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেফতার
র‍্যাব-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ‘মনজুর মিয়া’ হত্যা মামলার ৩ জন আসামি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেফতার
র‍্যাব-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ‘মনজুর মিয়া’ হত্যা মামলার ৩ জন আসামি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেফতার - সংরক্ষিত ছবি।

র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৯) এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের নৃশংস ও ঘৃণ্যতম অপরাধ বিশেষ করে মাদক উদ্ধার, হত্যা মামলা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়াও যে কোন ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে র‍্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য সমাজ তথা দেশ বিনির্মাণে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, ভিকটিম মনজুর মিয়া হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানাধীন বেগমপুর এলাকার বাসিন্দা। ভিকটিমের পিতার সাথে বিবাদীদের বসত বাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। উক্ত বিরোধের জেরে ঘটনার দিন গত ১৯/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক সকাল ১১.০০ ঘটিকার সময় বিরোধীয় জমি দখল করার জন্য বিবাদীরা বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে বাদীর বাড়ির দিকে আসার পথে ভিকটিমের পিতা বিবাদীদের বাধা প্রদান করলে ০১নং বিবাদী মনিরুজ্জামানের হুকুমে অন্যান্য বিবাদীরা ভিকটিমের পিতাকে এলোপাতাড়ি ভাবে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। অতঃপর ভিকটিম তার পিতাকে বাচানোর জন্য এগিয়ে আসলে বিবাদীরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ফিকল, জিআই পাইপ, বাশের লাঠি ইত্যাদি দিয়ে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। বিবাদীদের হাতে মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দেখে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসার সাহস না পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে বিবাদীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরবর্তীতে এলাকার লোকজন ভিকটিমকে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করেন। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জ এবং সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের একটি যৌথ আভিযানিক দল অদ্য ২৩ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক রাত ১০.৩০ ঘটিকার সময় সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানাধীন সৈয়দপুর শাহারপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানার মামলা নং-১৪ তারিখ- ২১/০৪/২০২৬ খ্রি., ধারা-১৪৩/১৪৮/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০২/৩০৭/৪৪৭/১১৪/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০: এর মূলে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মনজুর মিয়া হত্যা মামলার হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ০২, ১০ ও ১১নং পলাতক আসামিকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিগণ- ০১। হেলাল মিয়া (৪৫), পিতা- মৃত সিরাজুল ইসলাম, সাং- বেগমপুর, ০২। মাছুম মিয়া (৩০), পিতা- মৃত আজম উল্যা, সাং- ঘোলাডুবা এবং ০৩। নাছির মিয়া (৩৫), পিতা- মৃত বদরুজ্জামান, সাং- ঘোলাডুবা, সকলের থানা- নবীগঞ্জ, জেলা- হবিগঞ্জ।

পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিগণকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এরশাদুল হক
জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ