Dhaka ০৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
এক দফা দাবিতে এবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা আমার নোবেল পাওয়া উচিত, কিন্তু তারা দেবে কি না জানি না: ট্রাম্প বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান রেলস্টেশনে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ-ক্যামেরাসহ ব্যাগ চুরি কঠিন শর্তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৩০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েও চাকরি হয়নি ক্লীন্টনের, নদীভাঙনে হারিয়েছেন স্থায়ী ঠিকানা পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে পাসপোর্ট করতে গিয়ে অকল্পনীয় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি মাদরাসাছাত্র বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে রূপপুর

এলপিজির সংকট, ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছাড়াল ২ হাজার টাকা

দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। আমদানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন ব্যয় ও কার্গো সংকটের প্রভাবে খুচরা বাজারে বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের তুলনায় বর্তমানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত।

বিইআরসির সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। গত ২ সেপ্টেম্বর এই দাম ১৩ টাকা কমানো হয়েছিল। কিন্তু সরবরাহ সংকটের কারণে নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এক মাসে আমদানি কমেছে ৪০ হাজার টন

বিইআরসি ও এলপিজি আমদানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে সেই পরিমাণ কমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে নেমেছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজের সংকটের পাশাপাশি পরিবহন খরচও বেড়েছে।

বাংলাদেশের এলপিজির বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি হওয়ায় আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার এই সমস্যার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ছে।

কার্গো সংগ্রহে সংকট

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রয়োজনীয় কার্গো সংগ্রহ। আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের কেউ কেউ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেও খোলাবাজার থেকে প্রয়োজনীয় কার্গো সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আমদানিকারকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুনঃ  ওসিকে হুমকি দেওয়া বিএনপি নেতার জামিন

এ অবস্থায় নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করে আমদানি ও পরিবহনের বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গৃহস্থালির রান্নায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার

দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশই গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

ফলে আমদানি ও সরবরাহে সামান্য ঘাটতিও দ্রুত খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে বাড়তি দামে রান্নার গ্যাস কিনতে হচ্ছে।

সংকট সমাধানে বৈঠকের উদ্যোগ

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাসে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো দেশে না পৌঁছানোয় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত এলপিজি আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

তবে আন্তর্জাতিক নৌপথের জটিলতা এবং কার্গো সরবরাহের সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে অক্টোবর মাসেও এলপিজির সংকট থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দিয়ে এলপিজি কিনতে হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বেড়েছে। আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বাড়তি দামের চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

এক দফা দাবিতে এবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা

এলপিজির সংকট, ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছাড়াল ২ হাজার টাকা

Update Time : ০১:৪১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। আমদানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন ব্যয় ও কার্গো সংকটের প্রভাবে খুচরা বাজারে বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের তুলনায় বর্তমানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত।

বিইআরসির সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। গত ২ সেপ্টেম্বর এই দাম ১৩ টাকা কমানো হয়েছিল। কিন্তু সরবরাহ সংকটের কারণে নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এক মাসে আমদানি কমেছে ৪০ হাজার টন

বিইআরসি ও এলপিজি আমদানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে সেই পরিমাণ কমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে নেমেছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজের সংকটের পাশাপাশি পরিবহন খরচও বেড়েছে।

বাংলাদেশের এলপিজির বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি হওয়ায় আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার এই সমস্যার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ছে।

কার্গো সংগ্রহে সংকট

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রয়োজনীয় কার্গো সংগ্রহ। আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের কেউ কেউ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেও খোলাবাজার থেকে প্রয়োজনীয় কার্গো সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আমদানিকারকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুনঃ  ওসিকে হুমকি দেওয়া বিএনপি নেতার জামিন

এ অবস্থায় নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করে আমদানি ও পরিবহনের বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গৃহস্থালির রান্নায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার

দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশই গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

ফলে আমদানি ও সরবরাহে সামান্য ঘাটতিও দ্রুত খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে বাড়তি দামে রান্নার গ্যাস কিনতে হচ্ছে।

সংকট সমাধানে বৈঠকের উদ্যোগ

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাসে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো দেশে না পৌঁছানোয় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত এলপিজি আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

তবে আন্তর্জাতিক নৌপথের জটিলতা এবং কার্গো সরবরাহের সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে অক্টোবর মাসেও এলপিজির সংকট থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দিয়ে এলপিজি কিনতে হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বেড়েছে। আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বাড়তি দামের চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।