ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টের রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে এ রায় ঘোষণা শুরু হয়।
এর আগে গত ২০ আগস্ট মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত। মামলাটির আপিল শুনানি শুরু হয়েছিল গত ২৮ জুলাই। নারী ও শিশু নির্যাতন ও হত্যা সংক্রান্ত আলোচিত মামলার ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটির শুনানি হয়।
১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও খালাস চেয়ে আপিল ও জেল আপিল করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন—সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মাকসুদুল আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদের, আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন, মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমিন ও মহিউদ্দিন শাকিল।
যেভাবে হত্যা করা হয় নুসরাতকে
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ নুসরাতের মা শিরীন আখতার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেন। পরে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, অধ্যক্ষের অনুসারীরা তাঁকে কারাগার থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল ২০১৯ মারা যান নুসরাত।
নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল হত্যা মামলা করেন। ওই বছরের ২৮ মে পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র দেয়। বিচার শেষে ২৪ অক্টোবর ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালতে দুই পক্ষের আইনজীবী
হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। আসামিপক্ষে আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছেন এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও মোহাম্মদ শিশির মনির।
বহুল আলোচিত এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে নুসরাতের পরিবারের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















