সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ, চিঠিপত্র ও বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’সহ কোনো ধরনের সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় কাজ ও সরকারি দাপ্তরিক নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের পদবির আগে প্রচলিত ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব পদবি সরাসরি উল্লেখ করেই দাপ্তরিক যোগাযোগ সম্পন্ন করতে হবে।
পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কাজের ক্ষেত্রে পদবি ব্যবহারে অভিন্নতা ও দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র ও যোগাযোগে এ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বুধবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। অর্থাৎ পরিপত্র জারির দিন থেকেই সরকারি দাপ্তরিক কাজে সংশ্লিষ্ট পদগুলোর আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনস্থ সব দপ্তর ও সংস্থাকেও নির্দেশনাটি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
এর ফলে সরকারি চিঠি, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র, অফিস আদেশ, নোটিশ, প্রতিবেদন, নথি এবং অন্যান্য দাপ্তরিক যোগাযোগে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবি উল্লেখের ক্ষেত্রে নতুন এ নিয়ম কার্যকর থাকবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ নির্দেশনার মাধ্যমে সরকারি দাপ্তরিক নথিপত্রে পদবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ও অভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। এখন থেকে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নথিপত্র প্রস্তুত ও দাপ্তরিক যোগাযোগের সময় এ নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















