Dhaka ১১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে কৌশলে টয়লেটে নিয়ে গেলেন শিক্ষক, অতঃপর… সাত মাসে ঢাকা-মাওয়া সড়কে ১১১ দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ১৪ ফেসবুক লাইভে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য, অবশেষে জামিন পেলেন নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার সুনামগঞ্জে দুই সেতুর কাজ বন্ধ, এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ঠিকাদারের সিলেট শাহী ঈদগাহকে আরও দৃষ্টিনন্দন করতে ৫ কোটি টাকার প্রকল্প—সিসিক প্রশাসক শি শু মুহিন হ ত্যার দায়ে ২ জনের মৃ ত্যুদণ্ড চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্যকে বেদম পেটালেন নেতা ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বার্তা দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতের সমর্থন ছাড়ার ঘোষণা, ভিডিও ভাইরাল মাদকাসক্ত প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল

সাভারে ‘সম্রাট’ নামে ভবঘুরে সিরিয়াল কিলার: আসল পরিচয় সবুজ শেখ, স্বীকার ছয় খুন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২২:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫২৮ Time View

দীর্ঘদিন ভবঘুরে ছদ্মবেশে সাভার এলাকায় ঘুরে বেড়ানো ‘সম্রাট’-এর আসল পরিচয় উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। সে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মৌছামান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা পান্না শেখের ছেলে। পুলিশের কাছে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সবুজ শেখ স্থানীয় কাউন্সিলর মশিউর রহমান খান সম্রাটের নামের সঙ্গে মিল রেখে নিজেকে ‘সম্রাট’ পরিচয়ে পরিচিত করত। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া ঠিকানা ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করে সেগুলোর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সবুজকে গত সোমবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ স্বীকার করেছে, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভবঘুরে নারীদের সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যেত। সেখানে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের পর কোনো নারী অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করলে বা অনৈতিক কাজে জড়ালে সে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হত্যা করত।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, সবুজ শেখ বিকৃত মানসিকতা ও সাইকোপ্যাথ প্রকৃতির মানুষ। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সে একেক সময় একেক ধরনের কারণ দেখিয়েছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং এসব ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সবুজের পরিবার দাবি করেছে, সে মানসিকভাবে অসুস্থ। তার মা মমতাজ বেগম বলেন, কয়েক বছর ধরে ছেলের আচরণে পরিবর্তন আসে। সে একা একা কথা বলত, গালাগাল করত এবং কোথায় যায় বা কী করে, পরিবার জানত না।

আরও পড়ুনঃ  ভুল বুঝতে পেরে ছেলে বললেন, ‘মাকে এক দিনের জন্যও দূরে থাকপ্যার দেব না’

পুলিশ জানায়, সর্বশেষ ঘটনায় তানিয়া আক্তার ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণী ও এক যুবককে হত্যা করে তাদের মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মরদেহ বহনের দৃশ্য শনাক্ত করা হয়, যার সূত্র ধরে সবুজকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

এর আগে সাভার এলাকায় উদ্ধার হওয়া একাধিক অজ্ঞাত মরদেহের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও নিহতদের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে কৌশলে টয়লেটে নিয়ে গেলেন শিক্ষক, অতঃপর…

সাভারে ‘সম্রাট’ নামে ভবঘুরে সিরিয়াল কিলার: আসল পরিচয় সবুজ শেখ, স্বীকার ছয় খুন

Update Time : ০৭:২২:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘদিন ভবঘুরে ছদ্মবেশে সাভার এলাকায় ঘুরে বেড়ানো ‘সম্রাট’-এর আসল পরিচয় উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। সে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মৌছামান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা পান্না শেখের ছেলে। পুলিশের কাছে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সবুজ শেখ স্থানীয় কাউন্সিলর মশিউর রহমান খান সম্রাটের নামের সঙ্গে মিল রেখে নিজেকে ‘সম্রাট’ পরিচয়ে পরিচিত করত। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া ঠিকানা ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করে সেগুলোর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সবুজকে গত সোমবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ স্বীকার করেছে, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভবঘুরে নারীদের সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যেত। সেখানে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের পর কোনো নারী অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করলে বা অনৈতিক কাজে জড়ালে সে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হত্যা করত।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, সবুজ শেখ বিকৃত মানসিকতা ও সাইকোপ্যাথ প্রকৃতির মানুষ। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সে একেক সময় একেক ধরনের কারণ দেখিয়েছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং এসব ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সবুজের পরিবার দাবি করেছে, সে মানসিকভাবে অসুস্থ। তার মা মমতাজ বেগম বলেন, কয়েক বছর ধরে ছেলের আচরণে পরিবর্তন আসে। সে একা একা কথা বলত, গালাগাল করত এবং কোথায় যায় বা কী করে, পরিবার জানত না।

আরও পড়ুনঃ  ভুল বুঝতে পেরে ছেলে বললেন, ‘মাকে এক দিনের জন্যও দূরে থাকপ্যার দেব না’

পুলিশ জানায়, সর্বশেষ ঘটনায় তানিয়া আক্তার ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণী ও এক যুবককে হত্যা করে তাদের মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মরদেহ বহনের দৃশ্য শনাক্ত করা হয়, যার সূত্র ধরে সবুজকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

এর আগে সাভার এলাকায় উদ্ধার হওয়া একাধিক অজ্ঞাত মরদেহের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও নিহতদের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে