
ঝিনাইদহে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র আট বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে ভবন, শয্যা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জেনারেটর পড়ে থাকলেও সেবা পাচ্ছেন না প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজারো মানুষ। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গর্ভবতী নারী ও শিশুরা।
২০১৮ সালে কেন্দ্রগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। শৈলকুপার দুধসর ও কাঁচেরকোল, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা এবং কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় কেন্দ্রগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রতিটি তিনতলা ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শয্যা, যন্ত্রপাতি, জেনারেটর এবং চিকিৎসক ও কর্মীদের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। গর্ভবতী মায়েদের প্রসবকালীন সেবা, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার ও শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে এগুলো নির্মাণ করা হলেও জনবল সংকটে সেই উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আওয়াল বলেন, চিকিৎসক না থাকায় এলাকার মানুষ হাসপাতালটির সেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে গর্ভবতী নারীদের দূরের হাসপাতালে নিতে হয়।রাশিদা বেগম বলেন, ভবন ও শয্যা থাকলেও চিকিৎসক নেই। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে কেন্দ্রটি চালু করা হলে দরিদ্র মানুষের উপকার হবে।
কাঁচেরকোলের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছে না। দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে কেন্দ্রগুলো চালুর দাবি জানান তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল করিম বলেন, কেন্দ্রগুলো চালুর উদ্যোগ রয়েছে। তবে চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। নিয়োগ সম্পন্ন হলে স্বাস্থ্যসেবা শুরু করা যাবে।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি 





















