Dhaka ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের সন্ধানে দুদিন ধরে মাইকিং করছেন এক যুবক ৮ দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ, থামল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঢাকায় গোপন বৈঠক, যুবলীগের ৮ নেতা গ্রেপ্তার বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি হবে কীভাবে, জানালেন রিজভ রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, সাজছে নগরী ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ: বিমানমন্ত্রী ফ্ল্যাটের চেয়েও কবরের দাম বেশি, এক টুকরো কবরস্থানের দাম সাড়ে ৪ কোটি

সিএজি’র ৩৮ অডিট রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ৫১৬ Time View

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তুত করা ৩৮টি কমপ্লায়েন্স ও পারফরম্যান্স অডিট রিপোর্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট পেশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে এসব রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এসব অডিট রিপোর্ট সরকারের ১৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর পরিচালিত নিরীক্ষার ফলাফল তুলে ধরে। কমপ্লায়েন্স অডিটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিদ্যমান বিধি-বিধান ও নীতিমালার অনুসরণ করা হয়েছে কিনা তা যাচাই করা হয়। অন্যদিকে পারফরম্যান্স অডিটে প্রকল্প ও কার্যক্রমের দক্ষতা, কার্যকারিতা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মান মূল্যায়ন করা হয়।

রিপোর্টগুলোতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জন, সীমাবদ্ধতা, অনিয়ম ও উন্নয়নের সুযোগ তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে সরকারি অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোথায় অপচয় বা অনিয়ম ঘটছে এবং কোথায় আরও দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব—এসব বিষয়ে নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা অডিট রিপোর্টগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে করণীয় নিয়ে মতামত দেন।

জানা গেছে, সংবিধান অনুযায়ী এসব অডিট রিপোর্ট পরবর্তীতে মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে উপস্থাপনের মাধ্যমে জনসাধারণের প্রতিনিধিদের সামনে সরকারের বিভিন্ন খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে এসব রিপোর্ট পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  শাহপরানে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও কার্যকর অডিট কার্যক্রম সরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে অনিয়ম প্রতিরোধ, সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা মেলে। এছাড়া অডিট সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে একই ধরনের ত্রুটি পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, এসব অডিট রিপোর্টে উল্লিখিত সুপারিশগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি সেবা প্রদান আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গুণগত মান ও সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

সিএজি’র ৩৮ অডিট রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ

Update Time : ০৪:৫১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তুত করা ৩৮টি কমপ্লায়েন্স ও পারফরম্যান্স অডিট রিপোর্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট পেশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে এসব রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এসব অডিট রিপোর্ট সরকারের ১৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর পরিচালিত নিরীক্ষার ফলাফল তুলে ধরে। কমপ্লায়েন্স অডিটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিদ্যমান বিধি-বিধান ও নীতিমালার অনুসরণ করা হয়েছে কিনা তা যাচাই করা হয়। অন্যদিকে পারফরম্যান্স অডিটে প্রকল্প ও কার্যক্রমের দক্ষতা, কার্যকারিতা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মান মূল্যায়ন করা হয়।

রিপোর্টগুলোতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জন, সীমাবদ্ধতা, অনিয়ম ও উন্নয়নের সুযোগ তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে সরকারি অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোথায় অপচয় বা অনিয়ম ঘটছে এবং কোথায় আরও দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব—এসব বিষয়ে নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা অডিট রিপোর্টগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে করণীয় নিয়ে মতামত দেন।

জানা গেছে, সংবিধান অনুযায়ী এসব অডিট রিপোর্ট পরবর্তীতে মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে উপস্থাপনের মাধ্যমে জনসাধারণের প্রতিনিধিদের সামনে সরকারের বিভিন্ন খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে এসব রিপোর্ট পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  সিঙ্গাপুরে জাবেদের সাড়ে ১৫ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও কার্যকর অডিট কার্যক্রম সরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে অনিয়ম প্রতিরোধ, সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা মেলে। এছাড়া অডিট সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে একই ধরনের ত্রুটি পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, এসব অডিট রিপোর্টে উল্লিখিত সুপারিশগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি সেবা প্রদান আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গুণগত মান ও সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।