Dhaka ০৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেমের ফাঁদে ডেকে নিয়ে হত্যা,মরদেহে আগুন

 

নওগাঁর ধামইরহাটে মেরিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা হওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বেল্ট ও ভিকটিমের জুতার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের তালপুকুর-মাহমুদপুর এলাকার একটি আমবাগানের গভীর জঙ্গল থেকে আগুনে পোড়া এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ধামইরহাট থানা পুলিশ। একই সময় মায়ের নিখোঁজের জিডি করতে থানায় আসেন ভিকটিমের ছেলে কাউসার আলী। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মরদেহটি তার মা মেরিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় তদন্ত ও ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযান শুরু করে পুলিশ। রাতভর অভিযানের পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিন্টুর নেতৃত্বে সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন (৪৯) ও তারেক রহমান (২১)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্তে জানা গেছে, বাবুল হোসেনের সঙ্গে মেরিনা বেগমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় বাবুল তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও তিন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে গত ১৬ আগস্ট রাতে কৌশলে মেরিনাকে আমবাগানে ডেকে নেওয়া হয়।

সেখানে তারেক রহমানের কোমরে থাকা বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে মেরিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় হত্যাকারীরা।

তদন্তে আরও জানা গেছে, হত্যার পর ভিকটিমের কাছ থেকে নেওয়া টাকা চারজনের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়। প্রধান আসামি বাবুল হোসেন ছাড়া অন্য তিনজন আড়াই হাজার টাকা করে পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, এ হত্যাকাণ্ডে মোট চারজন জড়িত। গ্রেপ্তার দুজনের পাশাপাশি বাকি দুই আসামিকেও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ডা. না হয়েও পদবি ব্যবহার করায় জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নৃশংস এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে উদঘাটন করা হয়েছে। নওগাঁ জেলা পুলিশ অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

প্রেমের ফাঁদে ডেকে নিয়ে হত্যা,মরদেহে আগুন

Update Time : ১১:০৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

 

নওগাঁর ধামইরহাটে মেরিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা হওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বেল্ট ও ভিকটিমের জুতার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের তালপুকুর-মাহমুদপুর এলাকার একটি আমবাগানের গভীর জঙ্গল থেকে আগুনে পোড়া এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ধামইরহাট থানা পুলিশ। একই সময় মায়ের নিখোঁজের জিডি করতে থানায় আসেন ভিকটিমের ছেলে কাউসার আলী। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মরদেহটি তার মা মেরিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় তদন্ত ও ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযান শুরু করে পুলিশ। রাতভর অভিযানের পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিন্টুর নেতৃত্বে সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন (৪৯) ও তারেক রহমান (২১)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্তে জানা গেছে, বাবুল হোসেনের সঙ্গে মেরিনা বেগমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় বাবুল তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও তিন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে গত ১৬ আগস্ট রাতে কৌশলে মেরিনাকে আমবাগানে ডেকে নেওয়া হয়।

সেখানে তারেক রহমানের কোমরে থাকা বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে মেরিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় হত্যাকারীরা।

তদন্তে আরও জানা গেছে, হত্যার পর ভিকটিমের কাছ থেকে নেওয়া টাকা চারজনের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়। প্রধান আসামি বাবুল হোসেন ছাড়া অন্য তিনজন আড়াই হাজার টাকা করে পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, এ হত্যাকাণ্ডে মোট চারজন জড়িত। গ্রেপ্তার দুজনের পাশাপাশি বাকি দুই আসামিকেও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কাপ্তাই হ্রদে উৎপাদন কমেছে বড় মাছের

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নৃশংস এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে উদঘাটন করা হয়েছে। নওগাঁ জেলা পুলিশ অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”