Dhaka ০১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আবারও মেসির সতীর্থ হতে পারেন ডি মারিয়া, আলোচনায় ইন্টার মায়ামি রংপুরে শিক্ষকসহ ৪ হত্যায় নতুন তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ সরকারি সম্মানির তালিকায় অনিয়ম, জামায়াতের ২ নেতাকে অব্যাহতি নুসরাত হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল তৃতীয় বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী প্রভা প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, দেশবাসীর দোয়াপ্রার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সরকার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিলেন জহির উদ্দিন স্বপন গ্রাম্য সালিসে সমাজচ্যুত পুরো পরিবার,মসজিদে নামাজেও নিষেধাজ্ঞা এবার সিএমপির ৫ থানায় ওসি রদবদল

সার্ককে আরও কার্যকর ও জনকেন্দ্রিক করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

  • desk news
  • Update Time : ১১:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৩০ Time View

 

দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখবে—এমন পারস্পরিক স্বার্থ ও বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তিতে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) আরও গতিশীল, কার্যকর ও জনকেন্দ্রিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২৩ আগস্ট) সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাতে সার্ক প্রক্রিয়া ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং অবিচল অঙ্গীকারের জন্য সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান সার্ক মহাসচিব। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও যৌথ উন্নয়নের প্রধান আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সার্কের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

মহাসচিব গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বাংলাদেশের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব ও উদ্যোগের ফলেই সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উল্লেখ করে সংস্থাটি গঠনে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অব্যাহত গঠনমূলক অবদানের কথাও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জনগণের অভিন্ন স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে আঞ্চলিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। সার্ক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, সংলাপ ও বাস্তব সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, সার্ককে এমন একটি কার্যকর ও জনকেন্দ্রিক আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং বাস্তব সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জীবনমান ও সমৃদ্ধিতে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর মেয়াদে সার্কের কার্যক্রম সচল রাখা ও এগিয়ে নিতে মহাসচিবের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। ধারাবাহিক কর্মসূচি, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে তাঁর নিষ্ঠার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় মাইক্রোবাস উল্টে নিহত ৩, কয়েকজন আশঙ্কাজনক

সাক্ষাতে সার্ক কৃষি কেন্দ্র এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক মান সংস্থার আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও স্বীকার করেন মহাসচিব। সার্ক এবং এর বিশেষায়িত সংস্থা ও আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

এ সময় সার্কের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তব, জনকেন্দ্রিক ও ফলপ্রসূ সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে অর্থনৈতিক একীকরণ, আঞ্চলিক যোগাযোগ, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, টেকসই উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়।

সার্কের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মহাসচিব। একই সঙ্গে সার্কের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের দূরদর্শী চিন্তা এবং দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করতে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

আবারও মেসির সতীর্থ হতে পারেন ডি মারিয়া, আলোচনায় ইন্টার মায়ামি

সার্ককে আরও কার্যকর ও জনকেন্দ্রিক করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : ১১:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

 

দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখবে—এমন পারস্পরিক স্বার্থ ও বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তিতে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) আরও গতিশীল, কার্যকর ও জনকেন্দ্রিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২৩ আগস্ট) সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাতে সার্ক প্রক্রিয়া ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং অবিচল অঙ্গীকারের জন্য সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান সার্ক মহাসচিব। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও যৌথ উন্নয়নের প্রধান আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সার্কের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

মহাসচিব গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বাংলাদেশের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব ও উদ্যোগের ফলেই সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উল্লেখ করে সংস্থাটি গঠনে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অব্যাহত গঠনমূলক অবদানের কথাও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জনগণের অভিন্ন স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে আঞ্চলিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। সার্ক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, সংলাপ ও বাস্তব সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, সার্ককে এমন একটি কার্যকর ও জনকেন্দ্রিক আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং বাস্তব সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জীবনমান ও সমৃদ্ধিতে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর মেয়াদে সার্কের কার্যক্রম সচল রাখা ও এগিয়ে নিতে মহাসচিবের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। ধারাবাহিক কর্মসূচি, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে তাঁর নিষ্ঠার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুনঃ  শুরুতেই ধাক্কা খেল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ

সাক্ষাতে সার্ক কৃষি কেন্দ্র এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক মান সংস্থার আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও স্বীকার করেন মহাসচিব। সার্ক এবং এর বিশেষায়িত সংস্থা ও আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

এ সময় সার্কের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তব, জনকেন্দ্রিক ও ফলপ্রসূ সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে অর্থনৈতিক একীকরণ, আঞ্চলিক যোগাযোগ, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, টেকসই উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়।

সার্কের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মহাসচিব। একই সঙ্গে সার্কের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের দূরদর্শী চিন্তা এবং দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করতে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।