Dhaka ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর… লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তদন্ত কমিটি গঠন ১৩ বছর পর ধরা পড়লেন ছদ্মবেশে থাকা চঞ্চল সৈকতে গোসলে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু, উদ্ধার ১৫ তুলসীগঙ্গা নদী থেকে বহুমূল্য কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার বিষ হাতে হৃদয়ের বাড়িতে কিশোরী, বলছে ‘বিয়ে করতেই হবে’ ১০ বছর বয়সেই কুরআনের হাফেজ আশ্রাফ তাহসিফের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মিলল যে দৃশ্য ‘ভালোবাসা যত বড় হয়, জীবনটা তত নয়’, দেড় দশক ধরে স্ত্রীর কবর পরিষ্কার করছেন আইনজীবী সিলেটে রায়হান হত্যা: এসআই আকবরের মৃত্যুদন্ড, দুজনের যাবজ্জীবন, ৩ জনের ৭ বছরের জেল

‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’, সিজারের আগে নারীর আর্তনাদ; অতঃপর

  • desk news
  • Update Time : ০৩:২৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৫৭ Time View

মধ্যপ্রদেশের রেওয়ার একটি সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক নারী ও তার নবজাতক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বিছানায় ওই নারীকে কান্নাকাটি করে স্বজনদের কাছে বাঁচানোর আকুতি জানাতে দেখা যায়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত নারী কল্পনা মিশ্রের বয়স ২৫ বছর। তিনি রেওয়া জেলার হাতওয়া এলাকার বাসিন্দা। প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য গত ২৫ আগস্ট রাতে তাকে সঞ্জয় গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের দাবি, ২৬ আগস্ট রাতে কল্পনার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মা ও নবজাতক দুজনেরই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওতে কল্পনাকে অত্যন্ত অসুস্থ ও অস্থির অবস্থায় দেখা যায়। তিনি স্বজনদের কাছে তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও তার শারীরিক অবস্থার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

কল্পনার পরিবারের আরও অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার কারণে তিনি আর স্বাভাবিকভাবে জ্ঞান ফিরে পাননি। এমনকি অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যানেস্থেশিয়া প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে স্বজনেরা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তির দাবি জানানো হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কল্পনার পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের মাধ্যমে মরদেহের ময়নাতদন্ত করার বিষয়ে সম্মত হয় পরিবার।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্বে থাকা দুই নার্সিং কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারও দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আরও পড়ুনঃ  সালমানের রানআউট: ‘মনে হচ্ছে বাংলাদেশকে বিশ্বাস করাটা অপরাধ’

হাসপাতালের ডিন ডা. সুনীল আগরওয়াল ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, পরিবারের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. রাহুল মিশ্র চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, নির্ধারিত চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করেই রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রদেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসক সংকট নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের বড় একটি অংশ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। মেডিকেল অফিসারের পদেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শূন্যপদ রয়েছে।

কল্পনা মিশ্রের পরিবার এখন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মা ও নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর…

‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’, সিজারের আগে নারীর আর্তনাদ; অতঃপর

Update Time : ০৩:২৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রদেশের রেওয়ার একটি সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক নারী ও তার নবজাতক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বিছানায় ওই নারীকে কান্নাকাটি করে স্বজনদের কাছে বাঁচানোর আকুতি জানাতে দেখা যায়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত নারী কল্পনা মিশ্রের বয়স ২৫ বছর। তিনি রেওয়া জেলার হাতওয়া এলাকার বাসিন্দা। প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য গত ২৫ আগস্ট রাতে তাকে সঞ্জয় গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের দাবি, ২৬ আগস্ট রাতে কল্পনার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মা ও নবজাতক দুজনেরই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওতে কল্পনাকে অত্যন্ত অসুস্থ ও অস্থির অবস্থায় দেখা যায়। তিনি স্বজনদের কাছে তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও তার শারীরিক অবস্থার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

কল্পনার পরিবারের আরও অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার কারণে তিনি আর স্বাভাবিকভাবে জ্ঞান ফিরে পাননি। এমনকি অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যানেস্থেশিয়া প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে স্বজনেরা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তির দাবি জানানো হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কল্পনার পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের মাধ্যমে মরদেহের ময়নাতদন্ত করার বিষয়ে সম্মত হয় পরিবার।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্বে থাকা দুই নার্সিং কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারও দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আরও পড়ুনঃ  সালমানের রানআউট: ‘মনে হচ্ছে বাংলাদেশকে বিশ্বাস করাটা অপরাধ’

হাসপাতালের ডিন ডা. সুনীল আগরওয়াল ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, পরিবারের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. রাহুল মিশ্র চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, নির্ধারিত চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করেই রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রদেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসক সংকট নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের বড় একটি অংশ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। মেডিকেল অফিসারের পদেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শূন্যপদ রয়েছে।

কল্পনা মিশ্রের পরিবার এখন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মা ও নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।