Dhaka ০৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাহসিফের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মিলল যে দৃশ্য

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর আগে বাসা থেকে বের হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়। ফুটেজে সবুজ পাঞ্জাবি পরা তাহসিফকে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে ও হাত মেলাতে দেখা যায়। এ সময় পাশে একটি নীল রঙের মোটরসাইকেল চালু অবস্থায় ছিল। পরে দুজনকে ওই স্থান ত্যাগ করতে দেখা যায়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাসার নিচতলার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে এসব দৃশ্য দেখা যায়। ফুটেজে মোটরসাইকেলটির হেডলাইট জ্বলতে দেখা গেলেও ওই ব্যক্তির পরিচয় কিংবা তাদের কথোপকথনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম গণমাধ্যমকে জানান, নিখোঁজ হওয়ার দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন তাহসিফ। মা-বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য কেনাকাটাও করেন তিনি। সন্ধ্যার পর দীপ নামের এক জুনিয়র সহকর্মীর ডাকে বাসা থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।

তাহসিফের বাবা জানান, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ছেলের কাছ থেকে ‘আম্মু আমি আসছি’ লেখা একটি বার্তা পেয়েছিলেন তারা। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে ভোর সোয়া ৫টার দিকে পুলিশের কাছ থেকে ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।

তিনি আরও জানান, তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় এর আগে কখনো যাননি তাহসিফ।

ছেলের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে তাহসিফের বাবা বলেন, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাকে বিমানবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। একই সময়ে আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।

এদিকে, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রেঞ্জের নৌপুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তাহসিফের শরীরে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট।

আরও পড়ুনঃ  সুনামগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ ২ জন আটক

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ। বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পাওয়ার পর নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখানের তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা। ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে তাহসিফের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

গত ২১ জুলাই ইউটিউব চ্যানেল ‘স্পিক উইথ রশীদ’-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন তাহসিফ। তিনি বলেন, একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, তিনি ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়েছেন। তবে ভিডিওটি তিনি নিজে ধারণ করেছিলেন—এমন কথা প্রতিবেদনে বলা হয়নি।

সাক্ষাৎকারে তাহসিফ বলেন, ভিডিওটি ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, তা তিনি জানতে চান। একই সঙ্গে এ ঘটনার কারণে তাকে বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলেও ধারণা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তদন্ত কমিটি গঠন

তাহসিফের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মিলল যে দৃশ্য

Update Time : ০৪:২৯:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর আগে বাসা থেকে বের হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়। ফুটেজে সবুজ পাঞ্জাবি পরা তাহসিফকে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে ও হাত মেলাতে দেখা যায়। এ সময় পাশে একটি নীল রঙের মোটরসাইকেল চালু অবস্থায় ছিল। পরে দুজনকে ওই স্থান ত্যাগ করতে দেখা যায়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাসার নিচতলার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে এসব দৃশ্য দেখা যায়। ফুটেজে মোটরসাইকেলটির হেডলাইট জ্বলতে দেখা গেলেও ওই ব্যক্তির পরিচয় কিংবা তাদের কথোপকথনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম গণমাধ্যমকে জানান, নিখোঁজ হওয়ার দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন তাহসিফ। মা-বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য কেনাকাটাও করেন তিনি। সন্ধ্যার পর দীপ নামের এক জুনিয়র সহকর্মীর ডাকে বাসা থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।

তাহসিফের বাবা জানান, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ছেলের কাছ থেকে ‘আম্মু আমি আসছি’ লেখা একটি বার্তা পেয়েছিলেন তারা। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে ভোর সোয়া ৫টার দিকে পুলিশের কাছ থেকে ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।

তিনি আরও জানান, তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় এর আগে কখনো যাননি তাহসিফ।

ছেলের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে তাহসিফের বাবা বলেন, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাকে বিমানবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। একই সময়ে আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।

এদিকে, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রেঞ্জের নৌপুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তাহসিফের শরীরে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট।

আরও পড়ুনঃ  মাজারের ডেগে মিলল হেনার আকুতিভরা চিরকুট, ‘যারা আমার স্বামীকে কুপথে নিয়েছে, আল্লাহ তুমি তাদের বিচার করো’

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ। বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পাওয়ার পর নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখানের তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা। ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে তাহসিফের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

গত ২১ জুলাই ইউটিউব চ্যানেল ‘স্পিক উইথ রশীদ’-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন তাহসিফ। তিনি বলেন, একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, তিনি ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়েছেন। তবে ভিডিওটি তিনি নিজে ধারণ করেছিলেন—এমন কথা প্রতিবেদনে বলা হয়নি।

সাক্ষাৎকারে তাহসিফ বলেন, ভিডিওটি ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, তা তিনি জানতে চান। একই সঙ্গে এ ঘটনার কারণে তাকে বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলেও ধারণা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।