
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে একটি খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কানাডা যাওয়ার প্রস্তুতিকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম পল্লব শনিবার রাতে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকেই জাকির হোসেনও গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে।
তবে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সাথে রোববার যোগাযোগ করে এমন খবরের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অধ্যাপক জাকির হোসেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর দেশেই আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।
তবে রোববার সন্ধ্যায় অধ্যাপক জাকিরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে অধ্যাপক জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে রোববার বিকেলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম।
তিনি বলেন,‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে এরকম গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এই বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে দেখা গেছে, সুহেল আহমদ নামের এক ব্যক্তির পোস্টে দাবি করা হয়, ‘কানাডা যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে আটক সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির।’
এদিকে সিলেট পোস্ট নামের একটি আইডি থেকে অধ্যাপক জাকির হোসেন গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করা হয়েছে। ওই পোস্টে লেখা হয়েছে- সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন ধরা পড়েছেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ২৯ আগস্ট রাতে ঢাকায় ধরা পড়লেন তিনি। ওই দিন রাত ১১ টায় কানাডা যওয়ার প্রক্কালে ঢাকাস্থ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর হামলার বহু মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অনেকের সক্রিয়তা থাকলেও সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের উপস্থিতি কমে আসে। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী প্রথম দিকে ভারতে অবস্থান নিলেও পরবর্তী সময়ে অনেকে দেশে ফিরেছেন বলে লোকমুখে আলোচনা রয়েছে। এবং দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিজেদের অবস্থান সক্রিয় করছেন বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে অধ্যাপক জাকির হোসেন আত্মগোপনে রয়েছেন। অভিযোগে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বাড্ডা থানা পুলিশ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম পল্লবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একাধিক মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার রাতে রাজধানী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জজ কোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে আটক করেছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে খোঁজখবর নেওয়া হলে তাঁর আটকের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ বলছেন, সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোরে কানাইঘাট উপজেলার দনা সীমান্ত এলাকা দিয়ে কয়েকজন দালালের সহায়তায় মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।
সিলেট প্রতিনিধি 



















