নেপালের রাসুয়া জেলায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে আটকে পড়া দুই ব্যক্তিকে দীর্ঘ ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুজনের মধ্যে একজন চীনের নাগরিক। সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনার পর তাদের তাৎক্ষণিকভাবে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে এবং চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে উদ্ধার অভিযান এখনও শেষ হয়নি। সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও কয়েকজন মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। তাদের সন্ধানে ক্ষতিগ্রস্ত সুড়ঙ্গ এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুরেশ রাউত জানান, দীর্ঘ সময় পর দুজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সুড়ঙ্গ থেকে বের করার পর তাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তবে ভেতরে আরও মানুষ আটকে থাকার সম্ভাবনা থাকায় উদ্ধারকারীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় ব্যক্তি কবির মহারাজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রথম উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি সঞ্জয় শাহকেও একই হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেখানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ ১০ দিন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকার কারণে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত অক্সিজেন, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ছাড়া এত দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় তাদের জীবিত উদ্ধারের ঘটনাকে উদ্ধার অভিযানের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে উদ্ধার অভিযান নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ আশা আছে!’
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সব সুড়ঙ্গেই উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। আটকে পড়া অন্য ব্যক্তিদেরও জীবিত উদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, উদ্ধার অভিযানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে আটকে পড়া ব্যক্তিদের স্বজনদের প্রতি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত আশা হারানোর কোনো কারণ নেই।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই উদ্ধার অভিযানে একদিকে যেমন প্রতিকূল পরিবেশ ও সুড়ঙ্গের ভেতরের ঝুঁকি রয়েছে, অন্যদিকে আটকে থাকা ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ধরে রেখে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। ফলে আরও কেউ জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হতে পারেন—এমন আশায় অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















