Dhaka ০১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
‘মহিলাদের আমার ভাল্লাগে না’—প্রতি রাতে ১/২ জন ছাত্রকে হুজুরের রুমে নিতেন পত্রিকা অফিস থেকে সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার সিলেটে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে ব্ল্যাকমেল, এআই দিয়ে নারীর ছবি বিকৃত করে ছড়ানোর অভিযোগ সাগর-রুনি হত্যা: সাড়ে ১৩ বছর কারাগারে সিলেটের এনাম, মেলেনি সম্পৃক্ততার প্রমাণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের পর ক্রীড়া সংস্থায় সাবেক ছাত্রদল নেতাদের জায়গা বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সিকৃবি ভিসির অপসারণ দাবিতে আন্দোলন, ১৮ অভিযোগ তুলে লিফলেট জৈন্তাপুরে লরি থেকে এস্কেভেটর পড়ে চালকের মৃত্যু শনিবার বিদ্যুৎ থাকবে না সিলেটের অর্ধশতাধিক এলাকায় টিকা না নেওয়া শিশুরাই নতুন করে হামে আক্রান্ত হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মাত্র ১৩৫ দিনে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হলেন ৮ বছরের সাজিদ

মাত্র ১৩৫ দিনের অধ্যবসায়, একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করেছে সাজিদ। তার এই অর্জনে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। মাদরাসার শিক্ষকরা সাজিদের এ সাফল্যকে প্রশংসনীয় ও বিরল কৃতিত্ব হিসেবে দেখছেন।

সাজিদ উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের ধন্তা গ্রামের বাসিন্দা আনিছুর রহমানের ছেলে। সে আমুয়াকান্দা বাজার জামে মসজিদ হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী।

মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১ এপ্রিল পবিত্র কোরআন হিফজের আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু করে সাজিদ। শুরু থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর অনুশীলন ও শিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলার মাধ্যমে সে ধীরে ধীরে কোরআনের বিভিন্ন অংশ মুখস্থ করতে থাকে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে নতুন সবক নেওয়ার পাশাপাশি আগের মুখস্থ করা অংশগুলোও নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করত সে।

দীর্ঘ ১৩৫ দিনের নিরলস প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের পর গত ৭ সেপ্টেম্বর পবিত্র কোরআনের সম্পূর্ণ ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করে সাজিদ। মাত্র চার মাসের কিছু বেশি সময়ে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করার এই অর্জনকে মাদরাসার শিক্ষকরা তার কঠোর পরিশ্রম, মনোযোগ ও মেধার ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শিক্ষকরা জানান, কোরআন হিফজ একটি দীর্ঘ ও কঠিন সাধনার বিষয়। নিয়মিত অনুশীলন, ধৈর্য, একাগ্রতা এবং শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান ছাড়া এত অল্প সময়ে ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করা সহজ নয়। সাজিদ শুরু থেকেই পড়াশোনার প্রতি আন্তরিক ছিল। তার নিয়মিত উপস্থিতি, মনোযোগ এবং মুখস্থ করা অংশ বারবার অনুশীলনের অভ্যাস তাকে দ্রুত এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

সাজিদের এই সাফল্য উপলক্ষে আমুয়াকান্দা বাজার জামে মসজিদ হাফিজিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে একটি সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা ফুল দিয়ে সাজিদকে শুভেচ্ছা জানান এবং তার সাফল্যের জন্য আনন্দ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুনঃ  অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ছাত্রদলকর্মীকে কুপিয়ে জখম!

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পবিত্র কোরআন হিফজ করা একজন শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত সম্মানের ও গৌরবের বিষয়। সাজিদের এই অর্জন শুধু তার নিজের জন্য নয়, তার পরিবার, শিক্ষক এবং মাদরাসার জন্যও আনন্দের। তার মতো শিক্ষার্থীদের সাফল্য অন্যদেরও কোরআন হিফজ ও দ্বীনি শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করবে।

সাজিদের শিক্ষকরা তার ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের সফলতা কামনা করে বলেন, কোরআন হিফজের পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে তাকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তারা সাজিদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সুস্বাস্থ্য এবং দ্বীনি শিক্ষায় আরও সাফল্য কামনা করেন।

পরিবারের সদস্যরাও সাজিদের এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ছেলের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন হওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। ভবিষ্যতেও সাজিদ যেন কোরআনের শিক্ষা নিজের জীবনে ধারণ করে এবং অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠতে পারে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

‘মহিলাদের আমার ভাল্লাগে না’—প্রতি রাতে ১/২ জন ছাত্রকে হুজুরের রুমে নিতেন

মাত্র ১৩৫ দিনে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হলেন ৮ বছরের সাজিদ

Update Time : ১১:৪৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাত্র ১৩৫ দিনের অধ্যবসায়, একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করেছে সাজিদ। তার এই অর্জনে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। মাদরাসার শিক্ষকরা সাজিদের এ সাফল্যকে প্রশংসনীয় ও বিরল কৃতিত্ব হিসেবে দেখছেন।

সাজিদ উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের ধন্তা গ্রামের বাসিন্দা আনিছুর রহমানের ছেলে। সে আমুয়াকান্দা বাজার জামে মসজিদ হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী।

মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১ এপ্রিল পবিত্র কোরআন হিফজের আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু করে সাজিদ। শুরু থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর অনুশীলন ও শিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলার মাধ্যমে সে ধীরে ধীরে কোরআনের বিভিন্ন অংশ মুখস্থ করতে থাকে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে নতুন সবক নেওয়ার পাশাপাশি আগের মুখস্থ করা অংশগুলোও নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করত সে।

দীর্ঘ ১৩৫ দিনের নিরলস প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের পর গত ৭ সেপ্টেম্বর পবিত্র কোরআনের সম্পূর্ণ ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করে সাজিদ। মাত্র চার মাসের কিছু বেশি সময়ে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করার এই অর্জনকে মাদরাসার শিক্ষকরা তার কঠোর পরিশ্রম, মনোযোগ ও মেধার ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শিক্ষকরা জানান, কোরআন হিফজ একটি দীর্ঘ ও কঠিন সাধনার বিষয়। নিয়মিত অনুশীলন, ধৈর্য, একাগ্রতা এবং শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান ছাড়া এত অল্প সময়ে ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করা সহজ নয়। সাজিদ শুরু থেকেই পড়াশোনার প্রতি আন্তরিক ছিল। তার নিয়মিত উপস্থিতি, মনোযোগ এবং মুখস্থ করা অংশ বারবার অনুশীলনের অভ্যাস তাকে দ্রুত এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

সাজিদের এই সাফল্য উপলক্ষে আমুয়াকান্দা বাজার জামে মসজিদ হাফিজিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে একটি সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা ফুল দিয়ে সাজিদকে শুভেচ্ছা জানান এবং তার সাফল্যের জন্য আনন্দ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুনঃ  ককটেল আন্দোলনে ছররা গুলি, রাহুলের অবস্থানের পর এফআইআর

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পবিত্র কোরআন হিফজ করা একজন শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত সম্মানের ও গৌরবের বিষয়। সাজিদের এই অর্জন শুধু তার নিজের জন্য নয়, তার পরিবার, শিক্ষক এবং মাদরাসার জন্যও আনন্দের। তার মতো শিক্ষার্থীদের সাফল্য অন্যদেরও কোরআন হিফজ ও দ্বীনি শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করবে।

সাজিদের শিক্ষকরা তার ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের সফলতা কামনা করে বলেন, কোরআন হিফজের পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে তাকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তারা সাজিদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সুস্বাস্থ্য এবং দ্বীনি শিক্ষায় আরও সাফল্য কামনা করেন।

পরিবারের সদস্যরাও সাজিদের এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ছেলের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন হওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। ভবিষ্যতেও সাজিদ যেন কোরআনের শিক্ষা নিজের জীবনে ধারণ করে এবং অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠতে পারে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।