ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে এক শিক্ষার্থীর ওপর পেলেট গুলি ছোড়ার অভিযোগে অবশেষে এফআইআর করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী সাহিল লোচাভের দাবি, গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের ছোড়া পেলেটে তিনি আহত হন। ঘটনার পর পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও শুরুতে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে সরব হয় কংগ্রেস। শুক্রবার সাহিলকে সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান কংগ্রেস নেতা ও ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি পুলিশের কাছে দ্রুত এফআইআর দায়েরের দাবি জানান।
পরে রাহুল গান্ধী থানার ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি)-এর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, অভিযোগে আমলযোগ্য অপরাধের বিষয় রয়েছে, তাই আইন অনুযায়ী পুলিশের মামলা গ্রহণ করা উচিত।
রাহুলের অবস্থানের সময় থানার সামনে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনাও তৈরি হয়। কয়েক ঘণ্টা অবস্থানের পর শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর গ্রহণ করে পুলিশ।
তবে মামলা দায়েরের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পেলেট ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক
গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছে। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ নিশ্চিত না করলেও পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার ডেইলি ডায়েরির তথ্য উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র্যাফ) সদস্যরা অ্যান্টি-রায়ট গান ব্যবহার করেছিলেন।
ডেইলি ডায়েরির তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় দুই রাউন্ড অ্যান্টি-রায়ট গান এবং আরও দুই রাউন্ড প্লাস্টিক পেলেট ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং বিক্ষোভ দমনে পুলিশের বলপ্রয়োগের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ওপর কী ধরনের অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছিল, তা তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের কমিটি
এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার গঠিত পাঁচ সদস্যের ওই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডি।
কমিটিকে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশের ভূমিকা এবং বলপ্রয়োগের ধরন খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে পেলেট গান, বৈদ্যুতিক ব্যাটন, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করবে কমিটি।
শিক্ষার্থীর ওপর পেলেট ব্যবহারের অভিযোগে এফআইআর দায়েরের পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন তদন্তে পুলিশের ভূমিকা, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং শিক্ষার্থী সাহিল লোচাভ কীভাবে আহত হয়েছেন—এসব বিষয় কতটা স্পষ্ট হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















