এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় শনিবার রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মামলার প্রস্তুতিও চলছে বলে জানিয়েছে দলটি।
রোববার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সেখানে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম তথ্যচিত্র উপস্থাপন করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, শনিবার বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের সম্পর্কে একটি আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। ওই সময় ডা. শফিকুর রহমান কেরানীগঞ্জের কোনাখোলা মাঠে একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এর লাইভ ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। ফলে ওই সময় তার পক্ষে পোস্ট দেওয়া সম্ভব ছিল না।
সিরাজুল ইসলাম জানান, বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে জামায়াতের তথ্যপ্রযুক্তি টিম পোস্টটির বিষয়টি নজরে আনে। এরপর বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয় এবং ৫টা ২২ মিনিটে এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। তবে এর আগেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ওই আপত্তিকর পোস্টটি শেয়ার করে এর বাংলা অনুবাদ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মাহমুদুল আলম বলেন, সাধারণত এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে তা উদ্ধার করতে কয়েক দিন সময় লাগে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট নয়, ডা. শফিকুর রহমানের ব্যবহৃত একটি ডিভাইস হ্যাক করা হয়েছিল। ওই ডিভাইসে এক্স অ্যাকাউন্ট লগইন ছিল। ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হ্যাকাররা পোস্টটি দেয়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ডিভাইসে এক্সের সব সেশন সমাপ্ত করে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়। ফলে ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট সরাসরি হ্যাক হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ডিভাইস কীভাবে হ্যাক হলো—এ প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুল আলম জানান, গত ২৩ জানুয়ারি বঙ্গভবনের ব্যবহৃত একটি সরকারি ই-মেইল ঠিকানা ‘assistantprogrammer@bangabhaban.gov.bd’ থেকে ডা. শফিকুর রহমানের ই-মেইলে একটি বার্তা পাঠানো হয়। মেইলের বিষয় ছিল ‘নির্বাচন সংক্রান্ত জরুরি তথ্য’। সরকারি ই-মেইল মনে করে একটি ডিভাইস থেকে ওই মেইলের অ্যাটাচমেন্ট খোলা হলে সেটি ফিশিং অ্যাটাচমেন্ট হওয়ায় ডিভাইসটির নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে চলে যায়।
তিনি আরও জানান, একই ই-মেইল ঠিকানা থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতসহ দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছেও অনুরূপ ফিশিং মেইল পাঠানো হয়েছিল। বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমের ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে এসব মেইল পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া গত ১২ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মহাসচিবের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ডিভাইস হ্যাক করে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে জঘন্য ও আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়েছে। দল ও দলের আমিরকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, হ্যাকাররা বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে পোস্টটি দিয়ে এক মিনিট পরই এর স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে। রাত ১২টার দিকে ওই স্ক্রিনশট ভাইরাল করা হয়। অথচ জামায়াত বিকেল ৫টা ২২ মিনিটেই হ্যাকের বিষয়টি প্রকাশ্যে জানিয়েছে। যদি দলীয়ভাবে পোস্টটি দেওয়া হতো, তাহলে ভাইরাল হওয়ার পর মুখরক্ষার জন্য হ্যাকের দাবি করা হতো। বাস্তবে জামায়াত সাত ঘণ্টারও বেশি আগে হ্যাকের তথ্য জানিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।